ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

সভাপতির স্বাক্ষর জাল করে কোটি টাকার নিম্নমানের ওষুধ ক্রয়

নিজস্ব প্রতিবেদক, ময়মনসিংহ 
প্রকাশিত: মে ৪, ২০২৬, ০২:৩০ এএম

ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সরকারি ওষুধ ও চিকিৎসা সরঞ্জাম কেনাকাটায় অনিয়ম, ক্রয় কমিটির সভাপতির স্বাক্ষর জালিয়াতি এবং প্রায় কোটি টাকার আর্থিক কারচুপির অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করেছেন হাসপাতালের ক্রয় কমিটির সভাপতি ও জুনিয়র কনসালট্যান্ট (মেডিসিন) ডা. মো. কায়সার হাসান খান।

রোববার (৩ মে) দুপুরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে ডা. কায়সার বলেন, ইডিসিএল বহির্ভূত দরপত্রের মাধ্যমে উচ্চমূল্যে নিম্নমানের ওষুধ কেনা হয়েছে। পুরো মূল্যায়ন প্রক্রিয়াও তার অজ্ঞাতে সম্পন্ন করা হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।

তিনি অভিযোগ করেন, নিম্নমানের ওষুধ গ্রহণে আপত্তি জানালে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ জামাল উদ্দিন তার ওপর চাপ সৃষ্টি করেন এবং মতামত উপেক্ষা করে জোরপূর্বক ওই ওষুধ হাসপাতালে সংরক্ষণের নির্দেশ দেন।

ডা. কায়সার বলেন, মূল্যায়ন কমিটির সদস্যসচিব হিসেবে ভারপ্রাপ্ত আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. ইমতিয়াজ হোসাইন এবং সদস্য হিসেবে ডা. জামাল উদ্দিনের সহধর্মিণী, নান্দাইল উপজেলার স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কর্মকর্তা ডা. শামীমা সুলতানাকে রাখা হয়। তবে এ সংক্রান্ত কোনো চিঠি বা অফিস আদেশ তিনি পাননি।

অভিযোগে আরও বলা হয়, তার নামের আইডি ও পাসওয়ার্ড ব্যবহার করে ইলেকট্রনিক স্বাক্ষর জালিয়াতির মাধ্যমে মূল্যায়ন কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়েছে। এতে প্রায় ১ কোটি ১৪ লাখ টাকার সরকারি কেনাকাটায় অনিয়ম হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

ডা. কায়সার জানান, এসব বিষয়ে তিনি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে লিখিত অভিযোগ করেছেন এবং নিরাপত্তা ঝুঁকির আশঙ্কায় থানায় সাধারণ ডায়েরিও (জিডি) করেছেন। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে।

তবে গত ৭ এপ্রিল তদন্তে গেলে হাসপাতাল প্রাঙ্গণে বিপুলসংখ্যক বহিরাগত জড়ো হয়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত করে এবং তদন্ত কার্যক্রমে বাধা দেয় বলে অভিযোগ করেন তিনি। এ সময় তাঁকে গালিগালাজ ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয় এবং তাঁর গাড়িচালককে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয় বলেও দাবি করা হয়।

এ ছাড়া অতীতে হাসপাতালের বৈকালিক চেম্বারের পারিশ্রমিক থেকেও জোরপূর্বক অর্থ আদায়ের অভিযোগ করেন ডা. কায়সার।

তিনি ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত ও জড়িতদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ জামাল উদ্দিন বলেন, বিষয়টি তদন্তাধীন থাকায় এ নিয়ে তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না।