ঢাকা শুক্রবার, ১২ জুন, ২০২৬

পুশ-ইন ঠেকাতে বিজিবির সঙ্গে সীমান্ত পাহাড়ায় সাধারণ জনতা

নিজস্ব প্রতিবেদক, ময়মনসিংহ
প্রকাশিত: জুন ১২, ২০২৬, ০১:১৪ এএম
ছবি- রূপালী বাংলাদেশ

ময়মনসিংহের হালুয়ায়াট-ধোবাউড়া ও শেরপুর জেলার নালিতাবাড়ি সীমান্তে পুশ-ইন ঠেকাতে কঠোর অবস্থানে রয়েছে বিজিবি। বিজিবিকে সহায়তা করতে মোতায়েন করা হয়েছে গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী (ভিডিপি)। সীমান্তবর্তী জনসাধারণ ও সকল দলের রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের সহায়তা চেয়ছে স্থানীয় প্রশাসন।

এদিকে, গতকাল বুধবার দেশব্যাপী সীমান্তে উত্তেজনার বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে (ফেসবুক) ছড়িয়ে পড়ে। এতে জেলার হালুয়াঘাট, ধোবাউড়া উপজেলার শেরপুরের নালিতাবাড়ি সীমান্ত এলাকায় বিজিবির সাথে রাতভর স্থানীয় লোকজন লাঠিসোঠা নিয়ে পাহাড়া দিতে দেখা যায়। সীমান্ত এলাকার লোকজন পৃথক শিফট করে দিনরাত পাহাড়া দিচ্ছে। এলাকাবাসীর দাবি, জীবন থাকতে একজন ভারতীয় নাগরিককেও বাংলাদেশে ঢুকতে দেওয়া হবে না। প্রয়োজনে আমরা বিএসএফকে প্রতিহত করবো।

হালুয়াঘাট সীমান্ত এলাকার বাসিন্দা আবুল কালাম বলেন, আমরা সবসময় বিজিবির সাথে সীমান্ত পাহাড়া দিব। আমরা দুই শিফটে দিনরাত বিজিবির সাথে পাহাড়া দিচ্ছি। আমরা একজন ভারতীয় নাগরিককে বাংলাদেশে প্রবেশ করতে দিব না।

আরেক বাসিন্দা রাসেল মিয়া বলেন, আমরা বাংলাদেশে ১৮ কোটি মানুষ। প্রয়োজনে আমরা সীমান্ত পাহাড়া দিব। কিন্তু কোন পুশইন করতে দেব না।

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) সকাল ১০টায় ময়মনসিংহ ৩৯ ব্যাটালিয়ানের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল নুরুল আজিম বায়োজিদ দৈনিক রূপালী বাংলাদেশকে এসব তথ্য নিশ্চিত করছেন।

সূত্র জানায়, গতকাল বুধবার বিকেলে ধোবাউড়া উপজেলা পরিষদ সম্মেলন কক্ষে সীমান্তে পুশ-ইন প্রতিরোধ এবং সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদারের লক্ষ্যে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় সীমান্তে অবৈধ অনুপ্রবেশের সম্ভাবনা এবং নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করা হয়।

এতে উপস্থিত ছিলেন- উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোশারফ হোসাইন, ধোবাউড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি শফিকুল ইসলাম, বিজিবি ক্যাম্পের দায়িত্বপ্রাপ্ত পাঁচ কর্মকর্তা, উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আজহারুল ইসলাম কাজল, সদস্য সচিব আনিছুর রহমান মানিক, যুগ্ম আহবায়ক মোয়াজ্জেম হোসেন খান লিটন, গণ অধিকার পরিষদের সভাপতি জিন্নত আলী প্রমুখ।

ধোবাউড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম বলেন, সীমান্তে অবৈধ পুশ-ইন ঠেকাতে সমাজের সকল শ্রেণি পেশার মানুষ নিয়ে উপজেলা প্রশাসনের কার্যালয়ে একটি মতবিবিনিময় সভা করেছি। সীমান্তে পুশ-ইন ঠেকাতে গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী মোতায়েন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোশারফ হোসাইন, আমরা এখানে আমাদের কর্মকর্তাসহ, বিজিবি পাঁচজন বিজিবি প্রতিনিধি উপস্থিত ছিল। আর আমাদের রাজনৈতিক ব্যক্তিরাও কিছু অংশগ্রহণ করেছিল। সীমান্তে পুশ-ইন ঠেকাতে বিজিবির পক্ষে একা সম্ভব না। সীমান্তে আমাদের স্থানীয় জনগণ যারা আছে, তারা যেন আমাদের বিজিবিকে সহযোগিতা করে এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক, বিভিন্ন সংগঠন আছে, তাদেরকেও বিষয়টি অবগত করা হয়েছে। তারাও যেন সীমান্তে বিজিবিকে সহায়তা করে। বিজিবির পক্ষ থেকে আনসার চাওয়া হয়েছে। যা আজকালের মাঝেই সীমান্তে মোতায়েন করা হবে। সর্বোপরি আমাদের সকলকে দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে সবাই যেন আমরা এই বিষয়ে একে অপরকে সহযোগিতা করি।

ময়মনসিংহ ৩৯ ব্যাটালিয়ানের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল নুরুল আজিম বায়োজিদ বলেন, পুশ-ইন ঠেকাতে সীমান্তের কিছু এলাকায় গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদস্যরা কাজ করছে। সীমান্তে আরও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী মেতায়েন করা হবে। এ ছাড়া পুশ-ইন ঠেকাতে সীমান্তবর্তী জনসাধারণ ও স্থানীয় রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গের কাছে সহযোগীতা চাওয়া হয়েছে। তারা যেন নিয়মিত সীমান্তের খোঁজখবর রাখেন।