ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

বিজয় দিবসের অনুষ্ঠানে জয় বাংলা স্লোগান, অনুষ্ঠান পণ্ড

নিজস্ব প্রতিবেদক, ময়মনসিংহ
প্রকাশিত: ডিসেম্বর ১৭, ২০২৫, ১২:১৭ পিএম
জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু স্লোগান দেওয়াকে কেন্দ্র করে হট্টগোল শুরু হয়। ছবি- রূপালী বাংলাদেশ

ময়মনসিংহের মুক্তাগাছায় বিজয় দিবসে শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সদস্য ও বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু স্লোগান দেওয়াকে কেন্দ্র করে হট্টগোলের ঘটনা ঘটেছে। পরে উপজেলা প্রশাসন বাধ্য হয়ে অনুষ্ঠান সংক্ষিপ্ত করে শেষ করতে বাধ্য হয়।

মঙ্গলবার (১৬ ডিসেম্বর) বেলা ১১টায় উপজেলা পরিষদ চত্বরে শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সদস্য ও বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের শুরুতে বক্তব্য দেন বীর মুক্তিযোদ্ধা বছির উদ্দিন।

তিনি বক্তব্যের শেষাংশে বলেন, ‘ইতিহাস মোছা যাবে না। বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বেই আমরা মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলাম। বঙ্গবন্ধুকেই আমরা মানি, জাতির পিতা হিসেবেই মানি। সেদিন যুদ্ধে জয় বাংলা ছাড়া অন্য কোনো স্লোগান কি ছিল? এই বাংলাদেশেই মুক্তিযোদ্ধা থাকবে। জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু।’ পরে মুক্তাগাছা উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সন্তান কমান্ডের সভাপতি মোয়াজ্জেম হোসেন তার বক্তব্য শেষে স্লোগান দেন।

বীর মুক্তিযোদ্ধা বছির উদ্দিনের বক্তব্যের প্রতিবাদে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুব সংগঠন জাতীয় যুবশক্তি ময়মনসিংহের সংগঠক আল মামুন, গণঅধিকার পরিষদের মুক্তাগাছা উপজেলার সভাপতি শাহীনুর আলমসহ আরও ১৫-২০ জন ‘মুজিববাদ মুর্দাবাদ’ বলে স্লোগান দেন।

এতে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ও হট্টগোল শুরু হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার উপক্রম হলে উপজেলা প্রশাসন দ্রুত অনুষ্ঠান সংক্ষিপ্ত করে সমাপ্তি ঘোষণা করে।

জানতে চাইলে বীর মুক্তিযোদ্ধা বছির উদ্দিন বলেন, আমার বক্তব্যে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বের কথা বলি। বক্তব্য দিয়ে নামার পর জুলাইযোদ্ধারা প্রতিবাদ করেন। তারা বলতে থাকেন, বঙ্গবন্ধুর নাম বলা যাবে না। এ নিয়ে হট্টগোল শুরু হলে উপজেলা প্রশাসন অনুষ্ঠান সমাপ্ত ঘোষণা করে।

জাতীয় যুবশক্তি ময়মনসিংহের সংগঠক আল মামুন বলেন, তিনি শুরু থেকেই শেখ মুজিবুর রহমান, জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু—এসব কথা বলে বক্তব্য দেন। এ সময় আমিসহ কয়েকজন প্রতিবাদ করি। সবাই যখন উত্তেজিত হয়ে যায়, তখন বিষয়টি অন্যভাবে চলে যায়। পরে অনুষ্ঠানটি বন্ধ হয়ে যায়।

তিনি আরও বলেন, পরে মুক্তিযোদ্ধাসহ সবাই চলে গেলে ঘণ্টাখানেক পর ইউএনও স্যারের কক্ষে আলোচনায় বসা হয়। আমরা মুক্তিযুদ্ধকে সম্মান করি। এ পর্যন্ত আমরা কোনো মুক্তিযোদ্ধার সঙ্গে বেয়াদবি করিনি। আমাদের দাবি, মুক্তিযুদ্ধ, মুক্তিযুদ্ধের জায়গায়। এখন ফ্যাসিস্টদের বন্দনা পূর্বপরিকল্পিত। পরে এমন লোককে আর অনুষ্ঠানে ডাকা হবে না—এমন আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

মুক্তাগাছা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কৃষ্ণ চন্দ্র বলেন, মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে দুয়েকজন মুক্তিযোদ্ধার বক্তব্যে উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। ছাত্র-জনতা আপত্তি জানায়, যারা এ ধরনের বক্তব্য দিয়েছে, তারা যেন আর কোনোদিন উপজেলা চত্বরে না আসে। পরে আমরা উভয় পক্ষকে বুঝিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনি। বিশৃঙ্খলা এড়াতে অনুষ্ঠান দ্রুত সমাপ্ত করা হয়।

মুক্তাগাছা থানার ওসি মো. লুৎফুর রহমান বলেন, মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে কয়েকজন মুক্তিযোদ্ধার বক্তব্যে পরিস্থিতি কিছুটা ঘোলাটে হয়েছিল। যারা এ ধরনের বক্তব্য দিয়েছিলেন, তাদের বয়স ৯০-এর বেশি। এ ঘটনায় কোনো পক্ষই লিখিত অভিযোগ দেয়নি।