সরকার নির্ধারিত ১০২ টাকা লিটার দরের ডিজেল নওগাঁর বদলগাছী উপজেলায় প্রকাশ্যে ১৩০ টাকায় বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। বর্তমানে তীব্র জ্বালানি সংকটের মধ্যেও এই অনিয়মে কৃষক, পরিবহন শ্রমিকসহ সাধারণ ভোক্তারা অতিষ্ঠ হয়ে পড়ছেন।
প্রশ্ন উঠেছে, এত বড় ব্যবধানের দামের এই লেনদেন চললেও প্রশাসনের নজরদারি কোথায়? গত মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) উপজেলা চারমাথা মোড়ে পলাশ স্টোরে পদ্মা ও মেঘনা গ্রুপের সাত হাজার লিটার ডিজেল তেল আসে। পরের দিন থেকে শুরু হয় বিক্রয় কার্যক্রম।
কিন্তু পলাশ স্টোর সরকার নির্ধারিত ১০২ টাকা দামে তেল বিক্রি না করে প্রতি লিটারে ২৮ টাকা বেশি নিয়ে ১৩০ টাকায় বিক্রি করছে।
ভেকু চালক সিদ্দিক নামে এক ব্যক্তি জানান, বুধবার (৮ এপ্রিল) পলাশ স্টোর থেকে ৮০ লিটার ডিজেল নিই। ১৩০ টাকা দরে আমার কাছ থেকে টাকা নিয়েছে। তবে সবশেষে মোটের ওপর একশ টাকা কম নিয়েছে।
এত টাকা বেশি দিয়ে নিলেন কেন প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, কোথাও তেল পাওয়া যাচ্ছে না, উপায় না পেয়ে বেশি দাম দিয়ে ডিজেল কিনেছি। তাছাড়া ভেকু বন্ধ থাকবে।
বদলগাছী সদরের ট্রাক চালক রুবেল নামে আরেক ব্যক্তি জানান, আমি গত দুই দিনে ১৪০ লিটার ডিজেল কিনেছি। আমার কাছ থেকেও ১৩০ টাকা লিটার হিসেবে দাম নিয়েছে। বাধ্য হয়েই লিটারপ্রতি ২৮ টাকা বেশি দামে নিতে হচ্ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, উপজেলার সদরে নির্ধারিত দামের তোয়াক্কা না করে লিটারপ্রতি ২৮ টাকা পর্যন্ত বেশি আদায় করা হচ্ছে। এতে সেচনির্ভর কৃষিকাজ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে, পাশাপাশি পরিবহন খরচও অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাচ্ছে। কিন্তু প্রশাসনের কোনো নজরদারি চোখে পড়ছে না।
উপজেলার এক কৃষক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, বোরো মৌসুমে ডিজেল ছাড়া সেচ চালানো যায় না। এখন ইরি ধানে প্রচুর পানির প্রয়োজন। কিন্তু লিটারপ্রতি ২৮ টাকা বেশি দামে তেল কিনতে গেলে লাভ তো দূরের কথা, খরচই ওঠানো কঠিন হয়ে যাবে।
সচেতন মহলের মতে, জ্বালানি তেলের বাজারে দ্রুত কঠোর তদারকি ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান জোরদার করা জরুরি।
অভিযুক্ত চারমাথা এলাকার ডিজেল, কেরোসিন ও মবেল বিক্রেতা পলাশ হোসেনের কাছে ২৮ টাকা বেশি দামে ডিজেল বিক্রির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমার দোকানের বিস্ফোরক লাইসেন্স নেই। অন্য ডিলারের কাছ থেকে বেশি দামে ডিজেল কিনেছি। এই কারণে বেশি দামে বিক্রি করেছি। আর বেশি দাম নেব না।
এ বিষয়ে বদলগাছী উপজেলার সহকারী কমিশনার এসিল্যান্ড পলাশ উদ্দিন বলেন, সরকার নির্ধারিত দামের বেশি নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। বিষয়টি জানার পর চারমাথা এলাকায় তার দোকানে গিয়েছি, কিন্তু দোকানটি বন্ধ থাকার কারণে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয়নি।


