× UCB Sticker Card
বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Rupali Bangladesh

ইনস্টাগ্রাম

Rupali Bangladesh

এক্স

Rupali Bangladesh


লিংকডইন

Rupali Bangladesh

পিন্টারেস্ট

Rupali Bangladesh

গুগল নিউজ

Rupali Bangladesh


হোয়াটস অ্যাপ

Rupali Bangladesh

টেলিগ্রাম

Rupali Bangladesh

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Rupali Bangladesh


En Bn

নড়াইল প্রতিনিধি

প্রকাশিত: মে ২১, ২০২৬, ০৭:১৬ পিএম

দলীয় অফিস করার নামে বিএনপি নেতার ৫০ হাজার টাকা চাঁদাবাজি!

নড়াইল প্রতিনিধি

প্রকাশিত: মে ২১, ২০২৬, ০৭:১৬ পিএম

অভিযুক্ত মুলিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি পলাশ মল্লিক।

অভিযুক্ত মুলিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি পলাশ মল্লিক।

সরকারি রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে নড়াইলের মুলিয়া ইউনিয়নের মুলিয়া খেয়াঘাট স্থানীয় দুই মাঝি দীপক বিশ্বাস ও অংশের নামে বরাদ্দ দিয়ে বিএনপি অফিস করার নামে ৫০ হাজার টাকা চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠেছে মুলিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি পলাশ মল্লিকের বিরুদ্ধে।

সরেজমিনে মুলিয়া খেয়াঘাটে গিয়ে জানা যায়, মুলিয়া ইউনিয়নের পানতিতা গ্রামের রতন বিশ্বাস নামে এক মাঝি সরকারি বিধি মেনে খেয়াঘাট ইজারা নিয়ে যাত্রী পারাপার করতেন। আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর থেকে সরকারি কোনো বিধি না মেনে পেশিশক্তির প্রভাব বিস্তার করে রতন বিশ্বাসকে উচ্ছেদ করে দেয় ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি পলাশ মল্লিক।

পরে ইউনিয়ন বিএনপির অফিস করার নাম করে পানতিতা গ্রামের দীপক বিশ্বাস ও অংশের কাছ থেকে ৫০ হাজার টাকা নিয়ে তাদের খেয়াঘাটের দায়িত্ব দেওয়া হয়। তবে বিএনপির অফিস করার নামে চাঁদা নেওয়া হলেও হয়নি বিএনপি অফিস।

খেয়াঘাটের আগের মাঝি রতন বিশ্বাস বলেন, ‘আমি গরিব মানুষ বাপু। সরকারি খাস জমিতে বসবাস করি। আমার কোনো জায়গা-জমি নেই। এই ঘাটে নৌকায় যাত্রী পারাপার করে সংসার চালাতাম। আমার কাছে মুলিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি পলাশ মল্লিক ৫০ হাজার টাকা চাঁদা চেয়েছিল। আমি দিতে না পারায় আমাকে এখান থেকে তাড়িয়ে দিয়েছে। বউ-ছেলে-মেয়ে নিয়ে এখন খুব কষ্টে আছি।’

এদিকে নতুন মাঝি অংশ বলেন, ‘মুলিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি পলাশ মল্লিক, চেয়ারম্যান রবীন্দ্রনাথ অধিকারী, জেলা যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক শিহাবসহ বিএনপির কয়েকজন নেতা বসে আমাকে ও দীপক বিশ্বাস নামে আরেকজনকে এই ঘাট দিয়েছে। পরে ইউনিয়নে বিএনপির অফিস করবে বলে আমাদের কাছ থেকে মুলিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি পলাশ মল্লিক ৫০ হাজার টাকা নিয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘পরবর্তীতে আমাকে বাদ দিয়ে শুধু দীপক বিশ্বাসকে ঘাটের দায়িত্ব দিয়েছে।’

মুলিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান রবীন্দ্রনাথ অধিকারী বলেন, ‘প্রতি বছরের ন্যায় আমি ঘাট ইজারা দেওয়ার জন্য ইউনিয়ন পরিষদ থেকে একটি বিজ্ঞপ্তি দিই। তখন সরকারের রাজস্ব ফাঁকি দেওয়া হচ্ছে মর্মে দীপক বিশ্বাস নামে একজন জেলা প্রশাসক বরাবর একটি দরখাস্ত দেয়। পরে আমাকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ডাকেন। তখন ইউনিয়ন পরিষদ ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত ইজারা দিতে পারবে—সেই সব কাগজপত্র উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে হস্তান্তর করি। এরপর স্থানীয় এবং জেলার কয়েকজন বিএনপি নেতা বসে দীপক বিশ্বাসকে ঘাটের দায়িত্ব দেয়।’

জেলা যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক শিহাব বলেন, “নদীপাড়ের মানুষ যাতে সহজে ও নির্বিঘ্নে নদী পারাপার হতে পারে, সে জন্য আমরা কয়েকজন বসে ওদের ঘাটের দায়িত্ব দিয়েছি। তবে বিএনপির অফিস করার নামে চাঁদাবাজির ঘটনা আমার জানা নেই।”

এ বিষয়ে অভিযুক্ত ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি পলাশ মল্লিক বলেন, ‘অফিস করার জন্য ৫০ হাজার টাকা নিয়েছিলাম। সেই টাকা আমার কাছে রয়েছে।’

বিএনপি অফিস করার জন্য রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে চাঁদা নেওয়া যায় কি না জানতে চাইলে ‘ঝামেলায় আছি,’ বলে ফোন কেটে দেন।

নড়াইল জেলা পরিষদের প্রশাসক ও সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মুস্তাফিজুর রহমান আলেকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি এ বিষয়ে কোনো বক্তব্য দিতে চাননি।

Link copied!