ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

ধর্ষণে অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার অভিযোগ কিশোরীর

রূপগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ১৮, ২০২৬, ০৫:২৬ পিএম
ছবি- রূপালী বাংলাদেশ

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে আপন খালুর লালসার শিকার হয়ে ১২ বছরের এক কিশোরী ২০ সপ্তাহের (৫ মাস) অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত খালু সোলাইমানকে (৪০) গ্রেপ্তার করেছে রূপগঞ্জ থানা পুলিশ।

অভিযুক্ত সোলাইমান ওই এলাকার মৃত আব্দুল সাত্তারের ছেলে।

ভুক্তভোগী পরিবার জানায়, বেশ কিছুদিন ধরে কিশোরীটি বুকে ব্যথা ও শারীরিক অসুস্থতার কথা বলছিল। বিষয়টি নিয়ে সন্দেহ হলে তাকে হাসপাতালের ব্রেস্ট সার্জারি ইউনিটে দেখানো হয়। সেখান থেকে চিকিৎসকরা কিশোরীর বয়স বিবেচনায় তাকে গাইনি বিশেষজ্ঞের কাছে নেওয়ার পরামর্শ দেন।

পরবর্তীতে রাজধানীর দুটি হাসপাতালে আল্ট্রাসনোগ্রাফি করানো হলে চিকিৎসকরা নিশ্চিত করেন যে, ১২ বছর বয়সি ওই শিশুটি ২০ সপ্তাহের অন্তঃসত্ত্বা।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী কিশোরীর মা জীবিকার তাগিদে বিদেশে থাকায় গত দুই বছর ধরে সে তার খালা হোসনে আরার বাসায় থাকত। গত বছরের ১৫ সেপ্টেম্বর সকালে খালা বাসায় না থাকার সুযোগে খালু সোলাইমান কিশোরীর ঘরে প্রবেশ করেন।

ভুক্তভোগী কিশোরী জানায়, তাকে চাপাতি দিয়ে ভয় দেখিয়ে এবং প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করা হয়। ঘটনাটি কাউকে বললে তার বড় বোন, মামা, নানু ও খালাসহ সবাইকে হত্যা করা হবে বলে ভয় দেখাতেন সোলাইমান। লোকলজ্জা ও প্রাণনাশের ভয়ে ভুক্তভোগী এতদিন বিষয়টি গোপন রেখেছিল।

ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর অভিযুক্ত সোলাইমান তার নিজের স্ত্রী, ভুক্তভোগীর বড় বোন ও তার মায়ের কাছে অপরাধের কথা স্বীকার করেন। তবে গত ১৫ ফেব্রুয়ারি ভুক্তভোগীর পরিবার কৈফিয়ত চাইতে গেলে সোলাইমান তাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেয়। ১৬ ফেব্রুয়ারি একটি অভিযোগ দায়ের করা হয়। সেই অভিযোগের প্রেক্ষিতেই আজ, ১৮ ফেব্রুয়ারি অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

ভুক্তভোগীর মা বলেন, ‘আমার বাচ্চার অবস্থা দেখে আমি বিশ্বাসই করতে পারছিলাম না। আমার মেয়ে অবিবাহিত, তাই প্রথমে মনে হয়েছিল এটা সম্ভব না। কিন্তু সন্দেহ হওয়ায় আমি অন্য জায়গায় আল্ট্রাসনোগ্রাফি করাই। সেখানে নিশ্চিত হওয়া যায় যে সে গর্ভবতী। দুই জায়গায় পরীক্ষা করে নিশ্চিত হওয়ার পর আইনজীবীদের সঙ্গে কথা বলি। তারা আমাকে থানায় যেতে বলেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমার মেয়ে নিষ্পাপ। আমি এই ঘটনার বিচার চাই। দোষীর ফাঁসি চাই। আজ আমার মেয়ের সঙ্গে যা হয়েছে, কাল আরেকটি মেয়ের সঙ্গেও হতে পারে। নিজের খালু কীভাবে এমন কাজ করতে পারল? আমি দীর্ঘদিন কষ্ট করে সংসার চালিয়েছি। ১৩ দিন মুগদা হাসপাতালে ভর্তি ছিলাম। এখনো ৯ দিন ধরে এদিক-ওদিক ঘুরছি বিচার পাওয়ার আশায়।’

ভুক্তভোগীর বড় বোন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘বাবা আর খালু তো সমান। আমরা কোনো আপস চাই না, যাবজ্জীবন কারাদণ্ডও মানব না। যে লোক বিশ্বাসের অমর্যাদা করে এমন জঘন্য কাজ করেছে, আমরা তার সরাসরি ফাঁসি চাই।’

রূপগঞ্জ থানার ওসি মো. সবজেল হোসেন জানান, ‘অভিযোগ পাওয়ার পরপরই মামলা রুজু করা হয়েছে এবং এসআই রেনুকাকে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। পুলিশ অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত সোলাইমানকে গ্রেপ্তার করেছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সোলাইমান তার অপরাধের কথা স্বীকার করেছেন। তাকে বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।’