হিন্দু সম্প্রদায়ের তীর্থভূমি নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলার লাঙ্গলবন্দে চলছে অষ্টমী স্নানোৎসব। পাপ মোচনের আশায় ব্রহ্মপুত্র নদে ডুব দিচ্ছে লাখো পুণ্যার্থী।
তিথি অনুযায়ী বুধবার (২৫ মার্চ) বিকেল ৫টা ১৭ মিনিটে শুরু হয়ে বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) দুপুর ২টা ৫৯ মিনিটে স্নানোৎসব শেষ হবে।
লাঙ্গলবন্দের ৩ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে পুণ্যার্থীদের নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ রাখতে দুই শিফটে ১১০০ জন পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। এ ছাড়াও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় আলাদা পদক্ষেপসহ ২৪টি স্নানঘাটের তিন কিলোমিটার এলাকা সিসিটিভির আওতায় আনা হয়েছে। সাদা পোশাকে গোয়েন্দা নজরদারি ও ওয়াচ টাওয়ারের মাধ্যমে সার্বক্ষণিক মনিটরিং করা হচ্ছে।
হিন্দু পুরান মতে, ত্রেতা যুগে ঋষি জমদগ্নি ও রেণুকার পুত্র পরশুরাম মাতৃহত্যার দায়ে অভিশপ্ত হন। অভিশপ্ত অবতার পরশুরাম হিমালয়ের মানস সরোবরে স্নান করে পাপমুক্ত হন। মানস সরোবরের সেই পবিত্র জল মানুষের পাপমুক্তির জন্য লাঙ্গল দিয়ে চষে হিমালয় থেকে ব্রহ্মপুত্র নদরূপে নামিয়ে আনেন লাঙ্গলবন্দের সমভূমিতে। এখানে এসেই পরশুরামের লাঙ্গল চলা বন্ধ হয়ে যায়। যে কারণে এই জায়গার নাম হয়েছে লাঙ্গলবন্দ। প্রতি বছর চৈত্র মাসের শুক্লাষ্টমী তিথিতে এই স্নানোৎসব অনুষ্ঠিত হয়। এই তিথিতে বাংলাদেশ ছাড়াও ভারত, শ্রীলংকা, নেপাল, ভুটানের পুণ্যার্থীরাও পাপ মোচনের আশায় ব্রহ্মপুত্রে স্নান করেন। স্নানোৎসব উপলক্ষে বসেছে গ্রামীণ ঐতিহ্যের মেলাও। নানা পশরা সাজিয়ে বসেছেন বিক্রেতারা।
স্নান উদযাপন পরিষদের উপদেষ্টা ও বন্দর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শিবানী সরকার জানান, পুণ্যার্থীদের সুবিধার্থে ২৪টি স্নানঘাট সংস্কার, নদের কচুরিপানা অপসারণ এবং বিশুদ্ধ পানির জন্য ৪৭টি নলকূপ স্থাপন করা হয়েছে। এ ছাড়া নারীদের জন্য পৃথক পোশাক পরিবর্তন কক্ষ ও ২০০টি অস্থায়ী শৌচাগার নির্মাণ করা হয়েছে।
জেলা পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান মুন্সি বলেন, পুণ্যার্থীদের নিরাপত্তায় দুই শিফটে প্রায় ১১০০ পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন। ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় আলাদা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। আনসার সদস্যরা সহযোগিতা করছেন। নৌপুলিশও মোতায়েন করা হয়েছে যাতে কোনো দুর্ঘটনা না ঘটে।
জেলা প্রশাসক মো. রায়হান কবীর বলেন, পুণ্যার্থীদের জন্য সেবাকেন্দ্রে সরকারি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। ঈদের সময় হওয়ায় মহাসড়কে চাপ বাড়তে পারে, সে বিষয়টি নিয়ন্ত্রণে ট্রাফিক বিভাগের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করা হচ্ছে। জেলা প্রশাসনের একজন এডিসি লাঙ্গলবন্দে সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করছেন। এ ছাড়া ১০ শয্যার একটি অস্থায়ী হাসপাতাল, মেডিকেল টিম, রোগী পরিবহনের জন্য রিকশা ও ছয়টি অ্যাম্বুলেন্স প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
-20260326094323.webp)

