ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন, ২০২৬

তেলের তীব্র সংকট, খোলা বাজারে বেশি দামে মিলছে জ্বালানি

রূপগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি
প্রকাশিত: মার্চ ৩১, ২০২৬, ১০:০৩ এএম
ছবি : রূপালী বাংলাদেশ

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাব পড়েছে দেশের জ্বালানি খাতে, যার রেশ এসে পৌঁছেছে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলায়। এখানে এখন তীব্র জ্বালানি সংকট বিরাজ করছে।

উপজেলার বেশিরভাগ ফিলিং স্টেশন তেলের অভাবে বন্ধ বা সীমিত আকারে চালু থাকলেও খোলা বাজারে বেশি দামে সহজেই মিলছে পেট্রোল ও অকটেন। এতে সাধারণ মানুষ ও যানবাহন চালকদের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, রূপগঞ্জের অন্তত ১৫টি ফিলিং স্টেশনে পেট্রোল ও অকটেনের সরবরাহ বন্ধ অথবা খুবই সীমিত। ডিজেলের সংকটও প্রকট আকার ধারণ করেছে। অনেক চালক ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও তেল না পেয়ে খালি হাতে ফিরছেন। এতে পরিবহন ব্যবস্থা ব্যাহত হচ্ছে এবং জরুরি প্রয়োজনে যানবাহন চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে।

অন্যদিকে, পাম্পে সংকট থাকলেও খোলা বাজারে সম্পূর্ণ ভিন্ন চিত্র দেখা যাচ্ছে। উপজেলার বিভিন্ন সড়কের পাশে গড়ে উঠেছে দেড়শ’ থেকে দুইশ’ টং দোকান, যেখানে বোতল ও ড্রামে করে অবাধে বিক্রি হচ্ছে জ্বালানি তেল। এসব দোকানে পেট্রোল বিক্রি হচ্ছে লিটার প্রতি ২০০ থেকে ৩০০ টাকা এবং অকটেন ২৫০ থেকে ৩৫০ টাকায়, যা নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে অনেক বেশি।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, খোলা বাজারে বিক্রি হওয়া এই তেলের বড় একটি অংশই চোরাই। নদীপথে আসা পণ্যবাহী জাহাজ থেকে চুরি, সড়কে চলাচলকারী যানবাহন থেকে পাচার, এমনকি ডিপো ও ফিলিং স্টেশন থেকেও একটি অংশ সরাসরি এই অবৈধ বাজারে সরবরাহ করা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

ফলে পাম্পে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে বাজার নিয়ন্ত্রণ করছে একটি সংঘবদ্ধ সিন্ডিকেট। শিল্পাঞ্চল হওয়ায় রূপগঞ্জে জ্বালানির চাহিদা তুলনামূলক বেশি। এই চাহিদাকে পুঁজি করেই সক্রিয় হয়ে উঠেছে তেল মাফিয়াদের একটি শক্তিশালী চক্র। তাদের বিরুদ্ধে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি, অবৈধ মজুদ এবং চোরাই তেলের ব্যবসার অভিযোগ ক্রমেই জোরালো হচ্ছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, চোরাই তেল ও অবৈধ মজুদের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে এবং ইতোমধ্যে কয়েকটি স্থানে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে আইনগত ব্যবস্থাও নেওয়া হয়েছে। এ ধরনের কার্যক্রমে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তবে স্থানীয়দের প্রশ্ন ফিলিং স্টেশনগুলোতে তেল না থাকলেও খোলা বাজারে কীভাবে এত জ্বালানি পাওয়া যাচ্ছে? এই পরিস্থিতির দায় কার, তা নিয়েও উঠছে নানা প্রশ্ন।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে জ্বালানি সংকট আরও গভীর হতে পারে এবং সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ বাড়বে।