ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন, ২০২৬

মার্কিন মানচিত্রে কাশ্মীর পাকিস্তানের অংশ, ভারতে সমালোচনার ঝড়

বিশ্ব ডেস্ক
প্রকাশিত: জুন ১৮, ২০২৬, ১১:৫১ এএম
ছবি : সংগৃহীত

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা বিভাগ (পূর্বে ডিপার্টমেন্ট অব ওয়ার নামে পরিচিত) একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা দিয়েছে। মার্কিন ইন্দো-প্যাসিফিক কমান্ড (ইউএসআইএনডোপাকম) আবার তাদের পুরোনো নাম ‘ইউএস প্যাসিফিক কমান্ড’ (ইউএসপিএসিওএম)-এ ফিরে যাচ্ছে। প্রায় সাত দশক ধরে ব্যবহৃত ঐতিহাসিক নামটিই পুনর্বহাল করা হয়েছে।

তবে এই নাম পরিবর্তনকে কেন্দ্র করে নতুন বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। কমান্ডটির ওয়েবসাইটে প্রকাশিত একটি মানচিত্রে পাকিস্তান-অধিকৃত কাশ্মীর (পিওকে) অঞ্চলকে পাকিস্তানের অংশ হিসেবে দেখানো হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি নিয়ে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ও রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।

খবরে প্রকাশ, ২০১৮ সালে তৎকালীন মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী জিম ম্যাটিস ‘ইউএস প্যাসিফিক কমান্ডের’ নাম পরিবর্তন করে ‘ইন্দো-প্যাসিফিক কমান্ড’ রাখেন। সে সময় ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলের ক্রমবর্ধমান কৌশলগত গুরুত্ব এবং প্রশান্ত মহাসাগরীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থার সঙ্গে তার সংযোগকে প্রতিফলিত করতেই এই নামকরণ করা হয়েছিল।

২০২৬ সালের নতুন সিদ্ধান্তে সেই প্রতীকী পরিবর্তন থেকে সরে এসে আবারও ঐতিহাসিক নাম ফিরিয়ে আনা হলো। মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগ জানিয়েছে, কমান্ডটির ঐতিহাসিক গুরুত্ব ও প্রাতিষ্ঠানিক ঐতিহ্যের প্রতি সম্মান জানাতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

তবে যুক্তরাষ্ট্র স্পষ্ট করেছে যে, নাম পরিবর্তন হলেও কমান্ডটির দায়িত্ব, কার্যপরিধি কিংবা ভৌগোলিক সীমানায় কোনো পরিবর্তন আসবে না। আমেরিকার পশ্চিম উপকূল থেকে ভারতের পশ্চিম সীমান্ত পর্যন্ত বিস্তৃত অঞ্চল আগের মতোই এই কমান্ডের আওতায় থাকবে।

উল্লেখ্য, ১৯৪৭ সালের ১ জানুয়ারি তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট হ্যারি এস. ট্রুম্যানের আমলে ইউএস প্যাসিফিক কমান্ড প্রতিষ্ঠিত হয়। এটি মার্কিন সামরিক কাঠামোর অন্যতম প্রাচীন ও বৃহত্তম ইউনিফায়েড কমব্যাট্যান্ট কমান্ড।

ভারতের জন্য এই কমান্ডের গুরুত্ব বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। কারণ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ভারতের যৌথ সামরিক মহড়া, সামুদ্রিক নিরাপত্তা সহযোগিতা, গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় এবং কৌশলগত সমন্বয়ের বড় অংশই এই কমান্ডের মাধ্যমে পরিচালিত হয়ে থাকে।

কমান্ডের নাম থেকে ‘ইন্দো’ শব্দটি বাদ যাওয়ায় ভারতের রাজনৈতিক মহলে প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। কংগ্রেস নেতা ও সংসদ সদস্য শশী থারুর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ বিষয়ে একটি স্ক্রিনশট শেয়ার করে মন্তব্য করেছেন, “কোয়াডের কফিনে আরও একটি পেরেক?”

বিশেষজ্ঞদের একাংশ মনে করছেন, নাম থেকে ‘ইন্দো’ বাদ দেওয়া যুক্তরাষ্ট্রের ইন্দো-প্যাসিফিক কৌশল এবং কোয়াড জোটের গুরুত্ব কমে যাওয়ার ইঙ্গিত হতে পারে। তবে মার্কিন কর্মকর্তারা বারবার আশ্বস্ত করেছেন যে, এটি শুধুই নাম পরিবর্তন; এ অঞ্চলের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত অঙ্গীকারে কোনো পরিবর্তন আসছে না।

এদিকে সাম্প্রতিক সময়ে পাকিস্তান ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ হয়েছে বলে বিভিন্ন বিশ্লেষণে উঠে এসেছে। পাশাপাশি ইরান-সংক্রান্ত কূটনৈতিক আলোচনায় পাকিস্তানের ভূমিকা নিয়েও আলোচনা চলছে। ফলে কিছু বিশ্লেষক মনে করছেন, এই নাম পরিবর্তন বৃহত্তর আঞ্চলিক কূটনৈতিক কৌশলের অংশ হতে পারে।

তবে এ বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক প্রমাণ বা বক্তব্য পাওয়া যায়নি। বিশ্লেষকদের মতে, দক্ষিণ এশিয়ার ভূরাজনীতিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিটি পদক্ষেপই ভারত ও পাকিস্তানের সম্পর্কের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। তাই বিষয়টি নিয়ে কূটনৈতিক মহলে নিবিড় পর্যবেক্ষণ চলছে।