স্বামী সোহাগিনী হওয়া ও আমৃত্যু সংসার জীবনের বন্ধন অটুট রাখার কামনায় নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে শুরু হয়েছে ঐতিহ্যবাহী ‘বউ মেলা’। শতবর্ষ ধরে চলে আসা এই মেলা স্থানীয়ভাবে ‘সিদ্ধেশ্বরী বটতলার বউমেলা’ নামে পরিচিত।
উপজেলা পরিষদ সংলগ্ন জয়রামপুর এলাকার একটা প্রাচীণ বটগাছকে কেন্দ্র করে আয়োজিত এই মেলায় মূলত হিন্দু রমণীরা সমবেত হয়ে পূজার্চ্চনা করে থাকেন।
স্থানীয়ভাবে জানা গেছে, আদি পঞ্জিকামতে সনাতন ধর্মাবলম্বীরা বাংলা নতুন বছর শুরু করে ১৫ এপ্রিল থেকে। শতাব্দী ধরে চলে আসা মেলা পহেলা বৈশাখ থেকে শুরু হয়ে চলে তিন দিন। মেলায় নববিবাহিত বধূ থেকে শুরু করে বয়োজ্যেষ্ঠ নারীরা রঙিন সাজে সজ্জিত হয়ে ফল, মিষ্টান্ন ও পূজার সামগ্রী নিয়ে উপস্থিত হন সিদ্ধেশ্বরী তলায়। হিন্দু রমণীদের দীর্ঘদিনের বিশ্বাস, এই প্রাচীন বটবৃক্ষটি ‘সিদ্ধেশ্বরী কালী মাতা’ হিসেবে পূজিত। সংসারের সুখ-শান্তি ও পরিবারের মঙ্গল কামনায় নারীরা বটগাছের ডালে কড়ি বেঁধে প্রার্থনা করেন। অনেক ভক্ত মানত পূরণে কবুতর উড়িয়ে দেন, আবার কেউ কেউ শাস্ত্রীয় রীতি মেনে বলিদান উৎসবে অংশ নেন।
পূজার পুরোহিত পণ্ডিত উৎপল ভট্টচার্য বলেন, 'আদি পঞ্জিকা অনুযায়ী পহেলা বৈশাখে (১৫ এপ্রিল) এই পূজা অনুষ্ঠিত হয়। চলে তিন দিন। হিন্দু রমণীরা পূজার মাধ্যমে পরিবার ও স্বামীর মঙ্গল কামনা করেন।'
মেলার অন্যতম আকর্ষণ হলো গ্রামীণ মৃৎশিল্প ও কুটির শিল্পের বাহারি সমাহার। পোড়ামাটির টেপা পুতুল, মাটির হাঁড়ি-পাতিল এবং হাতি-ঘোড়ার মতো খেলনা শিশুদের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু। পাশাপাশি বাঁশ, কাঠ ও লোহার তৈরি নিত্যপ্রয়োজনীয় গ্রামীণ তৈজসপত্রও মিলছে মেলায়। এ ছাড়াও খই, মুড়ি, নিমকি, জিলাপি, মিষ্টিসহ নানা মুখরোচক খাদ্যদ্রব্যও বিক্রি হচ্ছে বউ মেলায়।
তবে মেলায় সব ধর্মের লোকজনই কেনা বেচা করে থাকেন।
সিদ্ধেশ্বরী কালী পূজার আয়োজক নিলোৎপল রায় জানান, শত বছরের বেশি সময় ধরে এ পূজা ও মেলার আয়োজন হয়ে আসছে। সকল ধর্মের মানুষের সহযোগিতায় এ আয়োজন সম্পন্ন হয় এবং দেশ ও এলাকার শান্তি কামনায় প্রার্থনা করা হয়।
সোনারগাঁ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আসিফ আল জিনাত জানান, বিশেষ করে নারী ও শিশুদের সুরক্ষায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। লোকজ সংস্কৃতির এই প্রাচীন ঐতিহ্যকে ধরে রাখতে এবং মেলাপ্রাঙ্গণে আগতদের শৃঙ্খলা নিশ্চিতে পুলিশ ও স্বেচ্ছাসেবক বাহিনী নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

