বিশ্বকাপ ফুটবলকে ঘিরে নারায়ণগঞ্জে আর্জেন্টিনা সমর্থকদের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হয়েছে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা। প্রিয় দলের প্রতি ভালোবাসা ও সমর্থন জানাতে শিশু, কিশোর, তরুণ ও প্রবীণ সমর্থকদের অংশগ্রহণে আয়োজিত এ শোভাযাত্রা শহরজুড়ে উৎসবের আমেজ সৃষ্টি করে।
সোমবার (১৫ জুন) বিকেল সাড়ে ৩টায় শহরের দেওভোগ এলাকার নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের সিটি পার্ক (চারুকলা) থেকে শোভাযাত্রাটি শুরু হয়। পরে এটি শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে চাষাঢ়া কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার এলাকা ঘুরে পুনরায় দেওভোগে এসে শেষ হয়।
শোভাযাত্রায় অংশ নেওয়া অধিকাংশ সমর্থক আর্জেন্টিনার জার্সি পরে এবং মুখে-হাতে জাতীয় পতাকার রঙ এঁকে অংশ নেন। অনেকের হাতে ছিল বিশাল আকৃতির আর্জেন্টাইন পতাকা। এ ছাড়া প্রিয় তারকা লিওনেল মেসি ও দলের অন্যান্য খেলোয়াড়দের ছবি সংবলিত ব্যানারও বহন করতে দেখা যায়। আকাশি-সাদা পতাকা, জার্সি, ব্যানার এবং ধোঁয়ার রঙিন আবহে শহরের সড়কগুলো যেন উৎসবের নগরীতে পরিণত হয়।
পুরো শোভাযাত্রাজুড়ে সমর্থকদের উচ্ছ্বাস, ভুভুজেলার আওয়াজ, স্লোগান এবং নাচ-গান পথচারীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। বিশেষ করে শিশুদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। অনেক ছোট্ট সমর্থককে আর্জেন্টিনার জার্সি পরে নাচতে এবং প্রিয় দলের প্রতি সমর্থন জানাতে দেখা যায়। একই সঙ্গে আকাশি রঙের স্মোক বোম্ব (ধোঁয়া) উড়িয়ে উৎসবের আমেজ আরও বাড়িয়ে তোলেন সমর্থকরা।
শোভাযাত্রায় অংশ নেওয়া সমর্থক পারভেজ মল্লিক বলেন, বিশ্বকাপ আমাদের জন্য আনন্দের উপলক্ষ। কেউ আর্জেন্টিনার সমর্থক, কেউ ব্রাজিলের, আবার কেউ অন্য দলের। কিন্তু দিনশেষে আমরা সবাই একই সমাজের মানুষ। তাই খেলা নিয়ে কোনো ধরনের বিরোধ, মারামারি বা অপ্রীতিকর ঘটনা যেন না ঘটে। এক মাসের খেলা উপলক্ষে আমরা যেন বারো মাসের সম্প্রীতি নষ্ট না করি। ফুটবল মানুষকে আনন্দ দেয়, একত্রিত করে। সবাই মিলেমিশে উৎসবমুখর পরিবেশে খেলা উপভোগ করাই সবচেয়ে বড় বিষয়।’
অপর সমর্থক তাপস সাহা বলেন, ‘আর্জেন্টিনা সব সময়ই সেরাদের সেরা। মেসির নেতৃত্বে তারা বিশ্বকাপ জিতেছে। এবারও দলটি দারুণ খেলবে এবং ট্রফি নিজেদের কাছেই রাখবে বলে আমাদের শতভাগ বিশ্বাস।’
শোভাযাত্রার আয়োজকদের মধ্যে ছিলেন স্বপন দাস, তাপস সাহা, খেলোয়াড় পিলু, প্রণব কৃষ্ণ রায়, মোক্তার হোসেন, মেহেদী হাসান সজীব ও লোকনাথ বাবু প্রমুখ।
বিশ্বকাপকে ঘিরে আয়োজিত এই শোভাযাত্রা আর্জেন্টিনা সমর্থকদের উচ্ছ্বাস ও ফুটবলপ্রেমের এক অনন্য প্রকাশ হিসেবে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।

