নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে পণ্যবাহী ট্রাক থেকে তেল, চিনি, রডসহ বিভিন্ন মূল্যবান পণ্য লুট ও ডাকাতির ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ চেয়ে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন ট্রান্সপোর্ট মালিকরা। বুধবার (১৫ জুলাই) বেলা ১১টায় সিদ্ধিরগঞ্জের ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের শিমরাইল এলাকায় এ মানববন্ধনটি অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিভিন্ন পরিবহন মালিক, শ্রমিক ও ব্যবসায়ীরা অংশ নেন।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, সম্প্রতি মহাসড়কে পণ্যবাহী যানবাহনকে লক্ষ্য করে সংঘবদ্ধ ডাকাতির ঘটনা বেড়েছে। এতে পরিবহন মালিক ও ব্যবসায়ীরা ব্যাপক আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন। তারা দ্রুত এসব ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তার এবং মহাসড়কে নিরাপত্তা জোরদারের দাবি জানান।
মেসার্স নাটোর পরিবহন সংস্থার মালিক মো. মোস্তফা বলেন, ডাকাতির শিকার হওয়ার পর অনেক ক্ষেত্রে থানায় গেলে ঘটনাকে ডাকাতি হিসেবে মামলা না নিয়ে চালক ও হেলপারের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৪০৭ ধারায় বিশ্বাসভঙ্গ ও আত্মসাতের অভিযোগে মামলা নেওয়া হচ্ছে। ফলে প্রকৃত অপরাধীরা শনাক্ত ও গ্রেপ্তার না হয়ে নিরীহ চালক-হেলপার হয়রানির শিকার হচ্ছেন। একই সঙ্গে ব্যবসায়ীরাও বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন।
তিনি জানান, তাদের একটি ট্রাকে প্রায় ২৭ লাখ টাকা মূল্যের ৭৫ ড্রাম সুপার ওয়েল তেল নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা এলাকার একটি প্রতিষ্ঠান থেকে নাটোরে পরিবহনের জন্য লোড করা হয়েছিল। পরে চালক ও হেলপারের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। পরদিন দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের ঝিলমিল প্রজেক্ট এলাকা থেকে ট্রাকটি খালি অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ ও বিভিন্ন থানায় অভিযোগ দায়ের করলে সেটি ডাকাতির মামলা হিসেবে গ্রহণ না করে দণ্ডবিধির ৪০৭ ধারায় বিশ্বাসভঙ্গ ও আত্মসাতের অভিযোগ হিসেবে রেকর্ড করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
বক্তারা বলেন, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কসহ সাভার, গাজীপুর, কোনাবাড়ী, চান্দুরা, গাউছিয়া, মিরের বাজার, পূর্বাচল ৩০০ ফিট এবং এশিয়ান হাইওয়ে সড়কের বিভিন্ন স্থানে একই চক্র তেলবাহী ট্রাক থামিয়ে ডাকাতি করছে। এতে তেল পরিবহন ব্যবসা চরম ঝুঁকির মুখে পড়েছে।
তারা অবিলম্বে ভুয়া আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয় ব্যবহারকারী সংঘবদ্ধ ডাকাত চক্রকে শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা, তেলবাহী ট্রাক ডাকাতির ঘটনায় প্রকৃত ঘটনার ভিত্তিতে ডাকাতির মামলা রেকর্ড করার জন্য সংশ্লিষ্ট থানাগুলোকে নির্দেশনা দেওয়া এবং মহাসড়কে নিয়মিত পুলিশ টহল ও গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধির দাবি জানান। দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হলে ভবিষ্যতে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
এ সময় বি ট্রান্সপোর্ট, নিউ এ আর ট্রান্সপোর্ট, মেসার্স আরবি ট্রান্সপোর্ট, নিউ এ এম ট্রান্সপোর্ট, মেসার্স গাউসিয়া ট্রান্সপোর্ট, সারা ট্রান্সপোর্ট, মেসার্স নিউ বগুড়া ট্রান্সপোর্ট, মেসার্স অপু ট্রান্সপোর্ট, মেসার্স ঈশাখা ট্রান্সপোর্ট, দরবার ট্রান্সপোর্ট, খাজা গরীবে নেওয়াজ ট্রান্সপোর্ট, এসপি ট্রান্সপোর্ট, মেঘনা ট্রান্সপোর্ট, সততা পরিবহন সংস্থা, সুমন ট্রান্সপোর্ট এজেন্সি, নাটোর পরিবহন সংস্থা, নিউ আর আর পরিবহন সংস্থা, মেসার্স জাহান ট্রান্সপোর্ট, মেসার্স যমুনা ট্রান্সপোর্ট এবং মেসার্স জেএস ট্রান্সপোর্ট, স্বর্ণা ট্রান্সপোর্ট ও নিউ আন্তঃজিলা ট্রান্সপোর্টসহ বিভিন্ন পরিবহন প্রতিষ্ঠানের ভুক্তভোগী মালিক ও প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন