১৯৬৮ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় চুয়াডাঙ্গা জীবননগর উপজেলার মিনাজপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। এরপর ১৯৭৩ সালে বিদ্যালয়টি জাতীয়করণ করা হয়। এই বিদ্যালয়ে বর্তমানে প্রায় ২১০ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, নিজস্ব ব্যবহারযোগ্য ভবন না থাকায় গত পাঁচ বছর ধরে চরম দুর্ভোগের মধ্যে চলছে পাঠদান।
২০২১ সালে বিদ্যালয়ের পুরোনো ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়। পরে ২০২৪ সালে ভবনটি নিলামে বিক্রি করা হলেও এখনো নির্মাণ করা হয়নি নতুন ভবন। ফলে মাত্র দুটি কক্ষে দুটি শ্রেণির ক্লাস চলছে। আর বাকি তিনটি শ্রেণির শিক্ষার্থীদের খোলা আকাশের নিচে, মাটিতে বসিয়ে পাঠদান করাতে হচ্ছে।
বর্ষা কিংবা ঝড়-বৃষ্টির সময় পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। অনেক সময় ক্লাস বন্ধ রাখতে হয়। এতে ব্যাহত হচ্ছে শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নাসিমা খাতুন জানান, নতুন ভবনের জন্য স্থানীয় শিক্ষা অফিস থেকে শিক্ষা মন্ত্রণালয় পর্যন্ত একাধিকবার আবেদন করা হলেও এখনো কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই।
একসময় এই বিদ্যালয়ে প্রায় ৩৫০ জন শিক্ষার্থী থাকলেও বর্তমানে সেই সংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছে ২১০ জনে। অভিভাবকরা সন্তানদের অন্য বিদ্যালয়ে ভর্তি করিয়ে নেওয়ায় শিক্ষার্থী সংখ্যা দিন দিন কমছে। শিক্ষক ও এলাকাবাসীর আশঙ্কা, দ্রুত নতুন ভবন নির্মাণ না হলে বিদ্যালয়টি একসময় অস্তিত্ব সংকটে পড়তে পারে।
এ বিষয়ে জীবননগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুমাইয়া আক্তার এ্যানির সাথে কথা বললে তিনি বলেন, উপজেলাতে যদিও তিনি নতুন এসেছেন; তবে বিষয়টি নিয়ে শিক্ষা কর্মকর্তার সাথে কথা বলে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিতভাবে জানাবে এবং যাতে দ্রুত বিদ্যালয়ের ভবন নির্মাণ করা হয় সে বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার ক্ষেত্রে অস্থায়ীভাবে টিন দিয়ে সেট তৈরি করা হবে বলে জানান।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন