নরসিংদী জেলা হাসপাতালকে ১০০ শয্যা থেকে ২৫০ শয্যায় উন্নীত করার লক্ষ্যে নির্মিত নতুন ভবনের কাজ দীর্ঘ আট বছরেও শেষ হয়নি। ফলে আধুনিক স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন জেলার বাসিন্দারা।
২০১৮ সালে প্রায় ৪০ কোটি ৩৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ১৩ তলা ফাউন্ডেশনের ওপর আটতলা ভবনের নির্মাণকাজ শুরু হয়। গণপূর্ত বিভাগ বলছে, ভবনের প্রায় ৯০ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। তবে এখনো রং করা, বাথরুম ফিটিংস, লিফট স্থাপনসহ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ কাজ বাকি রয়েছে।
কর্তৃপক্ষের দাবি, চুরি বা নিরাপত্তাজনিত ঝুঁকির কারণে এখনো এসব সরঞ্জাম স্থাপন করা হয়নি। ভবনটি আনুষ্ঠানিকভাবে বুঝে নেওয়ার তারিখ নির্ধারিত হলে এক মাসের মধ্যে অবশিষ্ট কাজ শেষ করা সম্ভব বলে জানানো হয়েছে।
বর্তমানে ভবনের অষ্টম তলায় ডায়ালাইসিস সেন্টার নির্মাণের কাজ চলছে। ইটের গাঁথুনি শেষ হয়েছে, এখন প্লাস্টার, টাইলস ও দরজা স্থাপনের কাজ এগোচ্ছে।
প্রকল্প পরিকল্পনা অনুযায়ী, ভবনের বিভিন্ন তলায় জরুরি বিভাগ, বহির্বিভাগ, প্যাথলজি, অপারেশন থিয়েটার, আইসিইউ, সিসিইউ, প্রশাসনিক ব্লক, ওয়ার্ড, ডায়ালাইসিস ও আইসোলেশন ইউনিট স্থাপনের কথা রয়েছে।
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এমএন হুদা কনস্ট্রাকশন লিমিটেডের ব্যবস্থাপক কামাল উদ্দিন জানান, তাদের দায়িত্বের কাজ ২০২২ সালেই শেষ করে হস্তান্তর করা হয়েছে। পরে কিছু অতিরিক্ত কাজ নতুন টেন্ডারের মাধ্যমে করা হচ্ছে, যা মূল প্রকল্পের অন্তর্ভুক্ত নয়।
নরসিংদী গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী এ এস এম মুসা বলেন, ভবনের ৯০ শতাংশ কাজ শেষ হলেও বেসিন, কমোড, লাইট, ফ্যান ও লিফট এখনো বসানো হয়নি। এগুলো বসানোর পাশাপাশি রং করার কাজ বাকি রয়েছে। তিনি জানান, প্রায় ২০ লাখ টাকার একটি আলাদা প্রকল্পের কাজও বর্তমানে চলছে।
অন্যদিকে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, শতভাগ কাজ শেষ না করেই ভবন বুঝে নিতে বলা হচ্ছে। তারা পূর্ণাঙ্গ কাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত ভবন গ্রহণে অনিচ্ছুক। এ বিষয়ে পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটিও গঠন করা হয়েছে।
হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. এ এন এম মিজানুর রহমান বলেন, পুরো কাজ শেষ না হলে ভবন বুঝে নেওয়ার প্রশ্নই আসে না।
তিনি আরও জানান, নতুন ভবনে আইসিইউ, সিসিইউ, ডায়ালাইসিসসহ বিশেষায়িত সেবা চালুর জন্য প্রয়োজনীয় জনবল, যন্ত্রপাতি, আসবাব ও প্রশাসনিক অনুমোদন এখনো পুরোপুরি পাওয়া যায়নি। এ জন্য স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে আবেদন করা হয়েছে।
সুজনের নরসিংদী জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক হলধর দাস বলেন, ভবন নির্মাণ হলেও জনবল ও যন্ত্রপাতির অভাবে সেবা চালু হচ্ছে না। দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছে, শুধু অবকাঠামো নির্মাণ নয়, কার্যকর স্বাস্থ্যসেবা চালু করতে প্রয়োজন জনবল ও লজিস্টিক সহায়তা নিশ্চিত করা। তাদের মতে, হাসপাতালটি চালু হলে ঢাকার বড় হাসপাতালগুলোর ওপর চাপ কমবে এবং স্থানীয় মানুষ উন্নত চিকিৎসাসেবা পাবে।
সব মিলিয়ে দীর্ঘসূত্রতা, প্রশাসনিক জটিলতা ও অসম্পূর্ণ কাজের কারণে গুরুত্বপূর্ণ এই স্বাস্থ্য প্রকল্পটি এখনো পুরোপুরি চালু হয়নি। দ্রুত সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে কাজ শেষ করে হাসপাতালটি চালুর দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

