জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নাটোর-১ আসন (লালপুর–বাগাতিপাড়া) এখন রাজনীতির উত্তপ্ত ময়দান। প্রতীক বরাদ্দ, প্রার্থী প্রত্যাহার ও দলীয় বিদ্রোহ মিলিয়ে এই আসনে ভোটের সমীকরণ ক্রমেই জটিল ও চমকপ্রদ হয়ে উঠেছে।
শুরুতে বিএনপি, জামায়াত, স্বতন্ত্র ও জাতীয় পার্টিসহ মোট ১০ জন প্রার্থী প্রতীক পেয়েছিলেন। তবে ঘোড়া প্রতীকের প্রার্থী ইয়াসির আরশাদ রাজন নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোয় বর্তমানে ৯ জন প্রার্থী ভোটের মাঠে সক্রিয় রয়েছেন। সংখ্যার বিচারে প্রার্থী বেশি হলেও বাস্তবতায় মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে উঠেছে বিএনপি, জামায়াত ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের মধ্যে।
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ভোটগ্রহণকে সামনে রেখে লালপুর ও বাগাতিপাড়াজুড়ে চলছে জোর প্রচার। দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে অংশ নেওয়ায় বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সহদপ্তর সম্পাদক তাইফুল ইসলাম টিপুকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। তবে তিনি তা মানেননি। স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে কলস প্রতীক নিয়ে ভোটে নেমে টিপু জানিয়েছেন, জনগণের প্রত্যাশা ও এলাকার উন্নয়নের স্বার্থে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তার ভাষ্য, মানুষই আমার শক্তি, বিজয় আসবে বিপুল ভোটে।
বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ব্যারিস্টার ফারজানা শারমিন পুতুলও জয়ের ব্যাপারে দৃঢ় আশাবাদী। তিনি বলেন, দলীয় সাংগঠনিক শক্তি ও জনগণের সমর্থনই তাকে বিজয়ের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে যাবে।
জামায়াত মনোনীত প্রার্থী মো. আবুল কালাম আজাদও আত্মবিশ্বাসী। তিনি দাবি করেন, ন্যায়ভিত্তিক ও আদর্শ সমাজ গঠনের প্রত্যাশায় ভোটাররা জামায়াতকেই বেছে নেবে।
তাদের বাইরে জাতীয় পার্টি, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি, ইসলামী আন্দোলন, গণঅধিকার পরিষদ ও গণসংহতি আন্দোলনের প্রার্থীরাও মাঠে রয়েছেন। তবে ভোটারদের আলোচনায় বারবার ওঠে আসে যোগ্য, সৎ ও জনবান্ধব নেতৃত্বের প্রয়োজন। সাধারণ মানুষ চাইছেন, যিনি সুখে-দুঃখে পাশে থাকবে, এলাকার অবকাঠামো উন্নয়ন করবে, মাদক ও সন্ত্রাস দমন, নারীদের নিরাপত্তা ও ক্ষমতায়নে কার্যকর ভূমিকা রাখবে—এসব গুণের সমন্বয় যিনি ঘটাতে পারবেন, তাকেই তারা লালপুর–বাগাতিপাড়ার কাণ্ডারি হিসেবে দেখতে চান।
নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করতে প্রশাসনও সর্বোচ্চ সতর্কতা বজায় রেখেছে। জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা আসমা শাহীন জানিয়েছেন, প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা স্থাপনের কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে। পর্যাপ্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েনসহ সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক এবং ভোটের দিন কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে প্রশাসন সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে থাকবে।
উল্লেখ্য, নাটোর-১ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৬৮ হাজার ২৭৬। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৮৩ হাজার ৫৯৫, নারী ভোটার ১ লাখ ৮৪ হাজার ৬৭৯ এবং হিজড়া ভোটার রয়েছেন দুজন। এই বিশাল ভোটারগোষ্ঠীর রায়ই নির্ধারণ করবে ত্রিমুখী লড়াইয়ে শেষ পর্যন্ত কার কপালে জুটবে বিজয়ের মুকুট।



সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন