নাটোরের নলডাঙ্গায় যুবদলের দুই গ্রুপের সংঘর্ষের ঘটনায় মহিলাসহ চারজনকে আটক করেছে পুলিশ।
শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে নিজ নিজ বাড়ি থেকে তাদের আটক করা হয়।
আহতরা হলেন পিপরুল ইউনিয়ন যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক আরব আলীসহ তার পরিবারের তিনজন এবং প্রতিপক্ষ দলের সহসভাপতি লিটন, রিপনসহ অন্তত তিনজন।
স্থানীয়রা ও ভুক্তভোগীরা জানিয়েছেন, শুক্রবার বিকেলে কথাকাটাকাটির পর এই সংঘর্ষ শুরু হয়। উভয় পক্ষই ধারালো অস্ত্র নিয়ে একে অপরের ওপর হামলা চালায়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রিপনের হাতের দুটি আঙুল প্রায় বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে, অপরদিকে আরব আলীও রক্তাক্ত হয়েছেন। ওই দুইজনকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং অন্য আহতদের নাটোর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
পিপরুল ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মিঠুন কুমার দেব বলেন, ‘বিষয়টি দলীয় কোনো সংঘর্ষ নয়। এটি শুধু প্রতিবেশীদের মধ্যে পূর্বশত্রুতার জের ধরে সংঘর্ষের ঘটনা।’
জেলা যুবদলের সভাপতি এ হাই তালুকদার ডালিম বলেন, ‘এটি রাজনৈতিক নয়; বরং পারিবারিক দাবির কারণে সংঘর্ষ। এটি উভয় পরিবারের মধ্যে তৃতীয় দফার সংঘর্ষ। বিষয়টি নিষ্পত্তির জন্য অনেক চেষ্টা করা হয়েছে।’
তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় যাদের দোষ প্রমাণিত হবে, তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মারামারির ঘটনায় বাঁশভাগ পূর্বপাড়ার মৃত আব্দুল করিম ব্যাপারির ছেলে মো. আনসার ব্যাপারী বাদী হয়ে ১১ জনের নাম উল্লেখ করে নলডাঙ্গা থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলা দায়েরের পর রাতেই নলডাঙ্গা থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে আসামী মো. অযরত আলী সরদার, মো. হযরত আলী সরদার, মোছা. খাদিজা বেগম ও মোছা. মরিয়ম খাতুনকে আটক করে।
ঘটনার পর রাতে জেলা যুবদলের সভাপতি এ. হাই. তালুকদার ডালিম ও সাধারণ সম্পাদক মো. আনিসুর রহমান আনিস সাক্ষরিত প্যাডে পিপরুল ইউনিয়ন যুবদলের সহসভাপতি মো. লিটন এবং সাংগঠনিক সম্পাদক আরব আলীকে প্রাথমিক সদস্য পদসহ দল থেকে বহিষ্কার করা হয়। পাশাপাশি প্যাডে উল্লেখ করা হয়েছে, বহিষ্কৃত নেতৃবৃন্দের কোনো ধরনের অপকর্মের দায়-দায়িত্ব দল গ্রহণ করবে না। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি অনুরোধ জানানো হয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য।
নাটোর জেলা যুবদলের সকল পর্যায়ের নেতাকর্মীদেরও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, যেন তারা বহিষ্কৃত নেতাদের সঙ্গে কোনো ধরনের সাংগঠনিক সম্পর্ক বজায় না রাখেন।
নলডাঙ্গা থানার ওসি নূরে আলম জানান, মামলা দায়েরের পর রাতেই অভিযান চালিয়ে চারজন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকিদের গ্রেপ্তারের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।



