নেত্রকোনার কলমাকান্দা থানার ওসি মো. আবুল হাশেমের একটি কথিত অডিও রেকর্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনাটির পর তাকে থানা থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।
শনিবার (৩০ মে) রাত আটটার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ৪ মিনিট ৪ সেকেন্ডের ওই অডিও রেকর্ডে পুলিশের চাকরিকে ‘এক ধরনের ব্যবসা’ হিসেবে উল্লেখ করতে শোনা যায় বলে দাবি করা হচ্ছে।
অডিওতে থানার পুলিশ সদস্যদের উদ্দেশে বক্তব্য দিতে গিয়ে একজনকে বলতে শোনা যায়, ‘পুলিশের চাকরি ওয়ান কাইন্ড অব বিজনেস। আমরা কেউ কাউকে ঠকাব না। সবাই মিলেমিশে থাকব।’ একই সঙ্গে বিভিন্ন অভিযোগ নিষ্পত্তি ও খারিজের প্রসঙ্গ টেনে অর্থ লেনদেনের ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্যও শোনা যায়।
রেকর্ডে আরও বলা হয়, ‘সবাই সমন্বয় করে চলতে হবে। আমি আপনাদের ঠকাব না। যার যে অধিকার, সে যেন সেটা পায়। কনস্টেবলরাও যেন তাদের প্রাপ্য থেকে বঞ্চিত না হয়। হক মারা আমি পছন্দ করি না। বর্তমান মিডিয়া অনেক এগিয়ে আছে, কেউ চালাকি করবেন না।’
তবে অডিওটির সত্যতা অস্বীকার করেছেন ওসি মো. আবুল হাশেম। এ বিষয়ে তিনি গণমাধ্যমকে বলেন, ‘কীভাবে এই বক্তব্য এসেছে, আমি জানি না। এ ধরনের কথা আমি কোথাও বলিনি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেই বিষয়টি সম্পর্কে জানতে পেরেছি। আমার মনে হয় না, এমন কোনো বক্তব্য আমি দিয়েছি।’
এদিকে অডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পরপরই প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেয় জেলা পুলিশ। নেত্রকোনার পুলিশ সুপার মো. তারিকুল ইসলাম জানান, বিষয়টি নজরে আসার সঙ্গে সঙ্গেই ওসি আবুল হাশেমকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। পাশাপাশি অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) হাফিজুল ইসলামকে প্রধান করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
পুলিশ সুপার বলেন, তদন্ত কমিটিকে আগামী পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি আরও বলেন, ‘আমি নিজে কখনো কোনো ধরনের দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত নই। তাই আমার অধীনে কেউ অসৎ কর্মকাণ্ডে জড়িত থেকে পার পেয়ে যাবে, এমন সুযোগ নেই।’
ঘটনাটি নিয়ে জেলাজুড়ে ব্যাপক আলোচনা চলছে। তদন্ত প্রতিবেদনের পর এ বিষয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ প্রশাসন।


সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন