রাজশাহীর তানোরে বিল বা খাল থেকে পানি উত্তোলনের জন্য ভাসমান বিদ্যুৎ সংযোগ নিয়ে অবৈধ ৭ হর্সপাওয়ারের বোরিং স্থাপন করছেন নজরুল ইসলাম নামের এক সার ব্যবসায়ী বলে অভিযোগ উঠেছে। তার বাড়ি আজিজপুর গ্রামে। তিনি আজিজপুর মোড়ে বিএডিসির সার ডিলারের ব্যবসা করেন।
উপজেলার কলমা ইউনিয়নের আজিজপুর মৌজায় এমন ঘটনা ঘটেছে। বোরিং স্থাপনের ঘটনায় কৃষকদের মাঝে উত্তেজনা বিরাজ করছে। ভাসমান মোটরের জন্য বিদ্যুৎ সংযোগ নেন আজিজপুর গ্রামের সার ব্যবসায়ী নজরুল ইসলাম। তিনি সেই সংযোগ ব্যবহার করে অবৈধ বোরিং স্থাপন করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
এতে স্থানীয় কৃষকদের মাঝে এক ধরনের উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। তাদের দাবি, নজরুলের বোরিং বন্ধ না হলে আরও কয়েকটি বোরিং স্থাপন করা হবে।
জানা গেছে, এ উপজেলায় ভূগর্ভস্থ পানির স্তর চরম হুমকির মুখে। পানির স্তর ধরে রাখতে ২০১৪ সালের দিকে কৃষি মন্ত্রণালয় থেকে ভূগর্ভস্থ পানি উত্তোলনে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। কিন্তু এরপরও একের পর এক বোরিং স্থাপন করা হচ্ছে।
২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসে কয়েল গ্রামে অবৈধ বোরিংয়ের গর্তে পড়ে শিশু সাজিদ নিহত হয়। দীর্ঘ প্রায় ৫৩ ঘণ্টার শ্বাসরুদ্ধকর অভিযানের পর তাকে উদ্ধার করা হলেও শেষ পর্যন্ত বাঁচানো যায়নি। এ ঘটনা পুরো দেশকে নাড়া দেয়। এরপর অবৈধ বোরিং স্থাপনের বিষয়ে প্রশাসন কঠোর অবস্থান নেয়।
তবে কয়েক মাস পর থেকেই কলমা ইউনিয়নের কুজিশহর গ্রামের নিচে আমিনুলসহ আরও একজন বোরিং স্থাপন করে সেচ কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। পাঁচন্দর কাউন্সিল মোড়ের পশ্চিমেও অবৈধ বোরিং স্থাপন করা হয়েছে।
এ ছাড়া পাঁচন্দর ইউনিয়নের মোহাম্মদ মৌজায় টিপু নামের একজন অবৈধ বোরিং স্থাপন করছেন এমন লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। এভাবে উপজেলার আনাচে-কানাচে অবৈধ বোরিং স্থাপন চলমান রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, এসব বোরিংয়ে অনৈতিক সুবিধার বিনিময়ে পল্লী বিদ্যুৎ কর্মকর্তারা বিদ্যুৎ সংযোগ দিয়ে থাকেন।
অবৈধ বোরিং স্থাপনকারী আজিজপুর মোড়ের বিএডিসি সার ডিলার নজরুল ইসলাম জানান, অনুমোদন আছে বলেই তিনি বোরিং করছেন। কোনো বিদ্যুৎ সংযোগ নেওয়া হবে না, সোলার প্যানেলের মাধ্যমে সেচ কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।
বোরিং করতে হলে উপজেলা সেচ কমিটির অনুমতি নিতে হয় এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, অনেকে করেছে, আমিও করব। সোলার প্যানেলে কোনো অনুমতি লাগে না।
পল্লী বিদ্যুৎ তানোর সমিতির জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) রেজাউল করিম খান জানান, নজরুল ভাসমান সেচ মোটরের জন্য বিদ্যুৎ সংযোগের অনুমতি নিয়েছেন। নতুনভাবে বোরিংয়ের বিষয়ে কিছু বলা হয়নি।
নজরুল ৭ হর্সপাওয়ারের বোরিং স্থাপন করছেন এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, কেউ লিখিত অভিযোগ দিলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কেন অভিযোগ দিতে হবে এ প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, অভিযোগ থাকলে ব্যবস্থা নিতে সুবিধা হয়।
পরে তিনি পুনরায় জানান, নজরুল সোলার প্যানেলের জন্য বোরিং স্থাপন করছেন। এ বিষয়ে পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের কোনো করণীয় নেই বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
বোরিং স্থাপনকারী নজরুল ইসলামের কাছে পুনরায় জানতে চাইলে তিনি জানান, কর্তৃপক্ষ বোরিং স্থাপনের কার্যক্রম বন্ধ করে দিয়েছে। তার অনুমোদনের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ভাসমান সেচ মোটরের অনুমতি রয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাঈমা খান জানান, কোনো ধরনের বোরিং করতে হলে উপজেলা সেচ কমিটির অনুমতি নিতে হবে। বিষয়টি জানার পর তিনি বিএমডিএ ও থানা পুলিশকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।
বিএমডিএর সহকারী প্রকৌশলী নাইমুল হাসান জানান, অবৈধ বোরিং স্থাপনের বিষয়টি জানার পর কার্যক্রম বন্ধ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির কাছে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র থাকলে তা অফিসে জমা দিতে বলা হয়েছে।


সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন