× UCB Sticker Card
বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Rupali Bangladesh

ইনস্টাগ্রাম

Rupali Bangladesh

এক্স

Rupali Bangladesh


লিংকডইন

Rupali Bangladesh

পিন্টারেস্ট

Rupali Bangladesh

গুগল নিউজ

Rupali Bangladesh


হোয়াটস অ্যাপ

Rupali Bangladesh

টেলিগ্রাম

Rupali Bangladesh

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Rupali Bangladesh


En Bn

তানোর (রাজশাহী) প্রতিনিধি

প্রকাশিত: মে ১, ২০২৬, ০৬:৫৯ পিএম

এক মণ ধান বিক্রি করে হচ্ছে না একজন শ্রমিকের মজুরি

তানোর (রাজশাহী) প্রতিনিধি

প্রকাশিত: মে ১, ২০২৬, ০৬:৫৯ পিএম

ছবি : রূপালী বাংলাদেশ

ছবি : রূপালী বাংলাদেশ

রাজশাহীর তানোরে চলতি বোরো মৌসুমে এক মণ ধান বিক্রি করে একজন শ্রমিকের মজুরি পর্যন্ত উঠছে না। এতে বোরো চাষিরা ব্যাপক লোকসানের মুখে পড়েছেন। বহিরাগত শ্রমিক না আসা এবং ধান মাটিতে নুয়ে পড়ার কারণে শ্রমিকের চাহিদা বেড়েছে, ফলে মজুরিও বৃদ্ধি পেয়েছে।

বর্তমানে বাজারে এক মণ ধান বিক্রি হচ্ছে ৮৩০ থেকে ৮৫০ টাকা দরে। জ্বালানি সংকটের কারণে মোকাম থেকে পরিবহন না আসায় ধানের দাম কমছে বলে মনে করছেন ব্যবসায়ীরা।

ফলে হাট বা ব্যবসায়ীদের মাধ্যমে ধান বিক্রি করে সরকারি সংগ্রহ ব্যবস্থার দাবি তুলেছেন কৃষকেরা। তাদের মতে, এভাবে বিক্রি করলে কিছুটা হলেও ক্ষতি কমানো সম্ভব হতে পারে।

চাষিরা জানান, চলতি মৌসুমে আলু চাষে ব্যাপক লোকসানের পর ধানেও ক্ষতির মুখে পড়ায় অনেক কৃষক চরম সংকটে পড়েছেন।

জানা গেছে, উপজেলার বিলকুমারী বিলে আগাম বোরো ধান চাষ হয়। এছাড়া আলু উত্তোলনের পর মার্চ মাসের শুরু থেকে আরেক দফা বোরো চাষ শুরু হয়।

চান্দুড়িয়া ইউপির চান্দুড়িয়া ব্রিজ ঘাট থেকে তানোর পৌরসভা হয়ে কামারগাঁ ইউপির মালশিরা চৌবাড়িয়া ব্রিজ ঘাট পর্যন্ত বিস্তীর্ণ বিলের জমিতে আগাম বোরো চাষ করা হয়। বর্তমানে এসব জমির ধান কাটা প্রায় শেষ পর্যায়ে।

বিঘা প্রতি গড়ে ২৫ থেকে ৩০ মণ পর্যন্ত ফলন হচ্ছে বলে জানিয়েছেন কৃষকেরা। তবে অনেক ক্ষেত্রেই আধাপাকা ধান কাটা হওয়ায় ফলন কিছুটা বেশি মনে হচ্ছে।

তোফা নামের এক কৃষক জানান, তিনি সাড়ে ৭ বিঘা জমিতে বোরো ধান চাষ করেছিলেন। পুরো জমির ধান কেটে বাড়িতে আনা হয়েছে। বর্তমানে ধান মাড়াই করে বিক্রি করছেন তিনি। বাজারে দাম কম থাকায় ৮৫০ টাকা দরে ধান বিক্রি করতে হচ্ছে।

এছাড়া মাড়াইয়ের জন্য আগের তুলনায় বেশি ধান দিতে হচ্ছে শ্রমিকদের। আগে যেখানে ১৫ কেজি ধান দিতে হতো, এখন ২০ কেজি পর্যন্ত দিতে হচ্ছে।

ফারুক নামের আরেক কৃষক জানান, ২৪ কাঠা জমির ধান কাটা হয়েছে। ৮ জন শ্রমিক দিয়ে ধান কাটাতে হয়েছে, যেখানে জনপ্রতি দিনে ১২০০ টাকা করে মজুরি দিতে হয়েছে। তিনি বলেন, এখন শ্রমিক সংকট এবং অতিরিক্ত মজুরির কারণে উৎপাদন খরচ অনেক বেড়ে গেছে।

স্থানীয় কৃষকেরা জানান, বহিরাগত শ্রমিক না আসায় ধান কাটতে দেরি হচ্ছে এবং স্থানীয় শ্রমিকদের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। তারা চুক্তি ভিত্তিক কাজ না করে দৈনিক মজুরিতে কাজ করছেন। ফলে ধান কাটা খরচ আরও বেড়ে গেছে।

কৃষক শাকির জানান, তিনি তিন বিঘা জমি লিজ নিয়ে ধান চাষ করেছিলেন। বিঘাপ্রতি প্রায় ২৫ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। সব মিলিয়ে বিঘায় ৪ থেকে ৫ হাজার টাকা লোকসান গুনতে হচ্ছে।

তিনি বলেন, বর্তমান পরিস্থিতি চলতে থাকলে অনেক কৃষকই কৃষি থেকে মুখ ফিরিয়ে নিতে বাধ্য হবেন।

কৃষকেরা আরও জানান, ধানের দাম কম, কিন্তু চালের দাম বেশি। এ পরিস্থিতিতে প্রান্তিক কৃষকেরা চরম সংকটে পড়েছেন। তারা সরকারি হাটে সরাসরি ধান ক্রয় বা নির্ধারিত দামে সংগ্রহ ব্যবস্থার দাবি জানিয়েছেন।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাইফুল্লাহ আহমেদ বলেন, উপজেলায় প্রায় সাড়ে ৩ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো চাষ হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৫৫০ হেক্টর জমির ধান ইতোমধ্যে কাটা শেষ হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এক সপ্তাহের মধ্যে পুরো বিলের ধান কাটা শেষ হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

রূপালী বাংলাদেশ/ আপেল

Link copied!