মানিকগঞ্জের শিবালয়ে খাল পুনঃখননের কাজ পেয়ে খুশি প্রকাশ করেছেন নারী শ্রমিকরা। তাদের প্রত্যাশা, এই কর্মসংস্থানের পাশাপাশি ফ্যামিলি কার্ড সুবিধা পেলে জীবনযাত্রা আরও স্বস্তিদায়ক হবে।
রোববার (৩ মে) দুপুরে উপজেলার উলাইল খাল পুনঃখনন কার্যক্রমের উদ্বোধন শেষে শ্রমিকরা নিজেদের অনুভূতি ব্যক্ত করেন। এর আগে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে মানিকগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য এস এ জিন্নাহ কবীর আনুষ্ঠানিকভাবে এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন।
নারী শ্রমিক মমতাজ বেগম জানান, দুই সন্তান ও স্বামীকে নিয়ে তার পরিবার। স্বামীর আয়ে সংসার চালাতে হিমশিম খেতে হয়। খাল খননের কাজ পেয়ে তিনি এখন পরিবার নিয়ে ভালোভাবে চলতে পারবেন বলে আশা করছেন। সন্তানদের লেখাপড়ার খরচও চালানো সহজ হবে। পাশাপাশি ফ্যামিলি কার্ড পেলে আরও উপকার হবে বলে জানান তিনি।
শিবালয় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মনীষা রাণী কর্মকারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা তাহমিনা আক্তার, উলাইল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আনিসুর রহমান, জেলা যুবদলের আহ্বায়ক কাহি মোশতাক হোসেন দীপুসহ বিভিন্ন নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে অতি দরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থান কর্মসূচি (ইজিপিপি) প্রকল্পের আওতায় আমডালা খালের প্রায় সাড়ে চার কিলোমিটার পুনঃখনন করা হবে।
৪০ দিনের কর্মসূচির আওতায় অতি দরিদ্র নারী শ্রমিকদের প্রত্যেককে প্রতিদিন ৫০০ টাকা করে দেওয়া হবে, যা মোট ২০ হাজার টাকা করে প্রদান করা হবে।
সালমা বেগম নামের আরেক নারী শ্রমিক বলেন, এমপি এস এ জিন্নাহ কবীর খাল পুনঃখননের মাধ্যমে এলাকার বহু মানুষের কাজের সুযোগ তৈরি করেছেন। এতে এলাকার মানুষ অনেক উপকৃত হবে এবং অনেকের অভাব দূর হবে।
রেখা আক্তার বলেন, এমপি যেভাবে এলাকার মানুষের জন্য কাজ করছেন, আমরা তার জন্য দোয়া করি তিনি যেন সবসময় মানুষের পাশে থাকতে পারেন।
স্থানীয় কৃষক রহিজ উদ্দিন বলেন, তার সাত বিঘা কৃষিজমিতে ধান, মরিচ, পেঁয়াজসহ বিভিন্ন ফসল আবাদ করা হয়। খাল খনন হলে বর্ষাকালে জমিতে পানি জমে থাকবে না, ফলে ফসল ভালো হবে। এতে কৃষক ও জেলেরা উভয়েই উপকৃত হবেন।
আরেক কৃষক সাখাওয়াত হোসেন জানান, খাল খনন হলে বর্ষাকালে জমিতে পানি আটকে থাকবে না, ফসল উৎপাদন বাড়বে এবং মাছের উৎপাদনও বৃদ্ধি পাবে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সংসদ সদস্য এস এ জিন্নাহ কবীর বলেন, স্বাধীনতার পর খাল খনন প্রকল্প একটি মাইলফলক তৈরি করেছে। কৃষকের ভাগ্য উন্নয়ন ছাড়া দেশের উন্নয়ন সম্ভব নয়। কৃষকেরা যেন সারা বছর পানি ব্যবহার করে ফসল ফলাতে পারেন, সে লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, দেশের অর্ধেক মানুষ নারী। দরিদ্র ও অসহায় নারীদের অর্থনৈতিক স্বাবলম্বী করতে এই কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হয়েছে।


সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন