হানিট্র্যাপ কাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে বিএনপি ও যুবলীগ নেতাসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পটুয়াখালী সদর থানা-পুলিশ। হানিট্র্যাপের মাধ্যমে তারা বিভিন্ন ব্যক্তির আপত্তিকর ভিডিও ধারণ করে ব্ল্যাকমেইলের মাধ্যমে চাঁদাবাজি করতেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
বুধবার (১৩ মে) বিকেলে সদর থানা-পুলিশ গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করে।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—বাউফল উপজেলার আদাবাড়িয়া ইউনিয়নের হাজিরহাট বন্দর এলাকার মৃত জয়নাল আবেদীনের ছেলে ও আদাবাড়িয়া ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি মোহাম্মদ আজহার উদ্দিন, গলাচিপা উপজেলার কলাগাছিয়া গ্রামের মো. আরশেদ আলীর ছেলে মো. কবির হোসেন এবং পটুয়াখালী পৌর শহরের কলেজ রোড এলাকার নুরুল হক তালুকদারের ছেলে ও যুবলীগ নেতা মোহাম্মদ রাসেল তালুকদার। এদের মধ্যে বিএনপি নেতা আজহার উদ্দিনকে দল থেকে বহিষ্কার করেছে বাউফল উপজেলা বিএনপি।
পুলিশ জানায়, পটুয়াখালী পৌর শহরের বনানী, সবুজবাগ ও কলেজ রোড এবং বাউফল উপজেলার আদাবাড়িয়া ইউনিয়নের হাজিরহাট বন্দর এলাকায় অভিযান চালিয়ে অভিযুক্তদের আটক করা হয়। পরে জিজ্ঞাসাবাদে তাঁরা অভিযোগের সত্যতা স্বীকার করেন। এর আগেই তাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন তথ্য-প্রমাণ পুলিশের কাছে ছিল। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের পর তাদের গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
সদর থানা-পুলিশের উপপরিদর্শক খাইরুল ইসলাম জানান, অভিযুক্তরা পরিকল্পিতভাবে হানিট্র্যাপে ফেলে একজন ওষুধ ব্যবসায়ী ও একজন চাকরিজীবীকে ব্ল্যাকমেইল করে বিপুল পরিমাণ টাকা আদায় করেন। ভুক্তভোগীদের একজনকে ডেকে এনে নারীর সঙ্গে আপত্তিকর ভিডিও ধারণের পর ভয়ভীতি দেখিয়ে ১৮ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। পরে তার কাছ থেকে প্রায় ১৪ লাখ ৮০ হাজার টাকা আদায় করা হয়। তার অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করে পুলিশ।
পটুয়াখালী সদর থানার ওসি মো. মনিরুজ্জামান জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে হানিট্র্যাপ চক্রের সদস্যদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের কাছ থেকে বিভিন্ন আলামত ও তথ্য-প্রমাণ উদ্ধার করা হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে একাধিক ভুক্তভোগীর কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে।
এ ঘটনার আরও বিস্তারিত তথ্য চলমান তদন্তে উঠে আসবে বলে জানান তিনি।


সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন