× UCB Sticker Card
বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Rupali Bangladesh

ইনস্টাগ্রাম

Rupali Bangladesh

এক্স

Rupali Bangladesh


লিংকডইন

Rupali Bangladesh

পিন্টারেস্ট

Rupali Bangladesh

গুগল নিউজ

Rupali Bangladesh


হোয়াটস অ্যাপ

Rupali Bangladesh

টেলিগ্রাম

Rupali Bangladesh

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Rupali Bangladesh


En Bn

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি

প্রকাশিত: মে ২০, ২০২৬, ১০:১৩ পিএম

জলাবদ্ধতায় বন্দী দুই বিদ্যালয়, দুর্ভোগে ৫ শতাধিক শিক্ষার্থী

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি

প্রকাশিত: মে ২০, ২০২৬, ১০:১৩ পিএম

ছবি : রূপালী বাংলাদেশ

ছবি : রূপালী বাংলাদেশ

কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলায় জলাবদ্ধতায় বন্দী হয়ে পড়েছে দুটি বিদ্যালয়ের পাঁচ শতাধিক শিক্ষার্থী ও শিক্ষক। এতে ব্যাহত হচ্ছে বিদ্যালয় দুটির পাঠদান কার্যক্রম ও শিক্ষার্থীদের লেখাপড়া। বিদ্যালয়ের সামনে সড়ক থাকলেও মাঠজুড়ে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়ে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।

উপজেলার রায়গঞ্জ ইউনিয়নের সাপখাওয়া উচ্চ বিদ্যালয় ও তৎসংলগ্ন বর্ণমালা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে গিয়ে দেখা যায়, পাশাপাশি দুটি বিদ্যালয়ের পুরো মাঠ পানিতে টইটম্বুর। পাশের বাজার থেকে দেখলে মনে হয়, যেন একখণ্ড বহতা নদী। পানিতে হাঁস ও মাছ সাঁতার কাটছে। কয়েক দিনের ভারী বৃষ্টিপাতে বিদ্যালয়ের আশপাশের ফসলি জমির পানি উপচে বিদ্যালয় মাঠ ও বারান্দায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে।

পানি নিষ্কাশনের কোনো ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা। ফলে কমেছে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিও।

শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা জানান, স্কুলের পাশের সড়কে একটি কালভার্ট থাকলেও সেটি কয়েক মাস আগে ভেঙে যায়। এতে পথচারীদের যাতায়াতে বিঘ্ন সৃষ্টি হলে স্থানীয়রা তা বন্ধ করে দেন। পরে বিদ্যালয়ের ভবন নির্মাণকাজের জন্য সেখানে বালু ফেলে কর্তৃপক্ষ। তবে নতুন কালভার্ট নির্মাণ না করেই কালভার্টের মুখের দুই পাশের জমিতে বসতবাড়ি করার জন্য বালু ফেলেন জমির মালিকরা। এতে পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায় পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা।

বেশ কিছুদিনের ভারী বৃষ্টিপাতে জলাবদ্ধ পানি নিষ্কাশন না হওয়ায় বিদ্যালয় মাঠসহ আশপাশে হাঁটুসমান পানি জমে গেছে। এতে করে পড়াশোনা ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি খেলাধুলা থেকেও বঞ্চিত হচ্ছে শিক্ষার্থীরা। স্থানীয় তরুণ ও যুব সমাজও মাঠ ব্যবহার করতে পারছে না। অভিভাবকদের আশঙ্কা, এ অবস্থায় শিশু-কিশোররা মোবাইল ও মাদকাসক্ত হয়ে পড়তে পারে।

স্থানীয়রা জানান, এই মাঠে প্রতি বছর দুই ঈদের নামাজে হাজারো মুসল্লি অংশ নিতেন। কিন্তু জলাবদ্ধতার কারণে আসন্ন ঈদুল আজহার নামাজ এ মাঠে আদায় করা যাবে কি না, তা নিয়ে উদ্বেগ ও হতাশা রয়েছে ধর্মপ্রাণ মুসল্লিদের মধ্যে।

সাপখাওয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী আমিনা খাতুন রিতু, রুকাইয়া খাতুন, মায়া খাতুন এবং দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী রমজান আলী জানান, জলাবদ্ধতার কারণে তারা ঠিকমতো বিদ্যালয়ে আসতে পারছেন না। আসলেও পিছলে পড়ে বই, খাতা, ব্যাগ ও ইউনিফর্ম ভিজে যাচ্ছে।

সহকারী শিক্ষক নূর ইসলাম মণ্ডল জানান, জলাবদ্ধতার কারণে বেড়েছে মশা, মাছি, জোঁক ও ক্ষতিকর পোকামাকড়ের উপদ্রব। দুর্গন্ধ ও মশার কারণে শিক্ষার্থীরা অতিষ্ঠ হয়ে পড়ছে। এছাড়া পানিতে বিভিন্ন জীবাণু থাকায় জ্বর, সর্দি, কাশি, অ্যালার্জি ও চুলকানিসহ নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছে অনেকে।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল গণি বলেন, “বিদ্যালয়ের পাশের কালভার্টটি ভেঙে যাওয়ার পর নতুন কোনো কালভার্ট নির্মাণ না হওয়ায় এই জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক শিক্ষার পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে দ্রুত একটি ড্রেনেজ ব্যবস্থা জরুরি।”

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এইচ এম খোদাদাদ হোসেন বলেন, ‘বিষয়টি জেনেছি। সংশ্লিষ্ট ইউপি চেয়ারম্যানকে ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকেও সার্বিক সহযোগিতা করা হবে।’

Link copied!