গাজীপুরের শ্রীপুরে এক নারীকে প্রকাশ্যে মারধরের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনার পরদিনই অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও ভুক্তভোগীর বিচার নিশ্চিত করার দাবিতে শ্রীপুর মডেল থানায় যান গাজীপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক ডা. এস এম রফিকুল ইসলাম বাচ্চু। এ সময় তিনি আসামিদের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তারের দাবি জানান।
রোববার (৩১ মে) বিকেলে শ্রীপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) কার্যালয়ে গিয়ে এমপি বাচ্চু এ দাবি জানান। একই সঙ্গে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলন সংশ্লিষ্ট হত্যা মামলার আসামিদেরও দ্রুত আইনের আওতায় আনার আহ্বান জানান তিনি।
এ সময় শ্রীপুর মডেল থানার ওসি মো. শাহীনুর আলম আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তারের আশ্বাস দিয়ে বলেন, স্থানীয় জনগণের সহযোগিতা এবং তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অভিযুক্তদের আইনের আওতায় আনা হবে।
এর আগে শনিবার (৩০ মে) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে শ্রীপুর পৌরসভার বেড়াইদেরচালা এলাকায় জমি-সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে এ হামলার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ১০ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাত আরও ১৫ জনকে আসামি করে শ্রীপুর থানায় লুটপাট ও হত্যাচেষ্টার মামলা দায়ের করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, আহতদের মধ্যে রয়েছেন সমলা খাতুন (৯৫), সাইফুল ইসলাম (৪০), মাসুদা আক্তার (৪২) ও বিথী আক্তার (২৫)। মামলার প্রধান আসামি কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের শ্রীপুর পৌর শাখার সহ-সভাপতি মো. হাবিবুল্লাহ। এছাড়া তার ভাই সুলতান উদ্দিন, ফয়সাল, ফাহাদ, নুজবেল, আমিনুল, হেলাল, রাজিব, শহিদুল ও আমানতের নামও মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। ঘটনার পর থেকে তারা পলাতক রয়েছেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, হাবিবুল্লাহ লাঠি হাতে এক নারীকে মারধর করছেন। এ সময় তাকে অশালীন ভাষায় গালিগালাজ করতেও দেখা যায়। একপর্যায়ে তার ছেলেও ওই নারীর দিকে মারধরের উদ্দেশ্যে এগিয়ে যান।
মামলার বাদী তাইজুল ইসলাম অভিযোগ করেন, জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে তাদের সঙ্গে হাবিবুল্লাহর বিরোধ চলছে। এ বিষয়ে আদালতে মামলা বিচারাধীন রয়েছে। আদালত গত ১৬ ফেব্রুয়ারি সংশ্লিষ্ট জমিতে আসামিদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করলেও তারা তা অমান্য করে জোরপূর্বক জমি দখলের চেষ্টা করেন।
এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, শনিবার সকালে জমি থেকে কাঁঠাল সংগ্রহ করতে গেলে আসামিরা বাধা দেয়। পরে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে বাড়িতে হামলা চালিয়ে পরিবারের সদস্যদের মারধর করে। এ সময় নারীদের গলা থেকে স্বর্ণের চেইন ছিনিয়ে নেওয়া এবং এক নারীকে শ্লীলতাহানির অভিযোগও করা হয়েছে।
অভিযুক্তরা পলাতক থাকায় এবং তাদের মোবাইল ফোন বন্ধ থাকায় এ বিষয়ে তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এদিকে রোববার দুপুরে শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আহতদের দেখতে যান এমপি অধ্যাপক ডা. এস এম রফিকুল ইসলাম বাচ্চু। সেখানে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, অভিযুক্ত ব্যক্তি অতীতে এলাকায় সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের জন্য পরিচিত ছিল। একজন নারীকে এভাবে মারধর ও নির্যাতনের ঘটনা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। দ্রুত আসামিদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার জন্য পুলিশকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, একজন ভদ্র নারীকে সামান্য ঘটনায় যেভাবে মারধর করা হয়েছে, তা যে কোনো বিবেকবান মানুষকে নাড়া দেবে। অপরাধীদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনতে হবে।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন