নোয়াখালীর এওজবালিয়া ইউনিয়নের এক প্রশাসনিক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে প্রতিবেশীর বসতভিটা দখল, হামলা, মারধর, লুটপাট ও শ্লীলতাহানীর গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে সংবাদ সম্মেলনে বিচার ও নিরাপত্তা দাবি করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) সকালেই নোয়াখালী জেলা শহরের মাইজদীর একটি রেস্টুরেন্টে সংবাদ সম্মেলন করেন ভুক্তভোগী আব্বাস মিয়া ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা। এতে উপস্থিত ছিলেন আব্বাস মিয়া, তাঁর ছেলে সাদ্দাম হোসেন ও ইস্রাফিল, পরিবারের সদস্য রেশমি আক্তার, সখিনা বেগম ও সখিনা বেগমসহ অন্যান্য স্বজনরা।
সংবাদ সম্মেলনে আব্বাস মিয়া অভিযোগ করেন, একই এলাকার মৃত নুর মোহাম্মদের ছেলে আ.ন.ম সেলিম, যিনি ইউনিয়ন পরিষদ প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও জেলা শাখার সভাপতি, তাঁর রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে একটি সন্ত্রাসী গ্রুপ গঠন করে সরকারি খাস জমি এবং সাধারণ মানুষের জমি দখল করে আসছেন। স্থানীয়ভাবে প্রভাবশালী হওয়ায় ভয়ে কেউ তাদের বিরুদ্ধে মুখ খুলতে সাহস পান না।
তিনি আরও জানান, দীর্ঘদিন ধরে আ.ন.ম সেলিম তাঁর বসতভিটা দখলের চেষ্টা করে আসছিলেন। এর ধারাবাহিকতায় গত ১২ জানুয়ারি বিকেল ৪টার দিকে সেলিমের নেতৃত্বে তাঁর ভাই ইকবাল, সোহাগ, সোহেবসহ ১৫-২০ জনের একটি সন্ত্রাসী দল তাঁদের বাড়িতে অতর্কিত হামলা চালায়। এ সময় ঘরবাড়ি ভাঙচুর ও লুটপাট করা হয়।
হামলা প্রতিহত করতে গেলে আব্বাস মিয়ার ছেলে সাদ্দাম হোসেন ও ইস্রাফিল, মেয়ে রেশমি আক্তার এবং পরিবারের অন্যান্য সদস্যকে এলোপাতাড়ি মারধর ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে আহত করা হয়। পরে সন্ত্রাসীরা প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে পরিবারটিকে বাড়ি ছাড়তে বাধ্য করে।
ভুক্তভোগী সাদ্দাম হোসেন জানান, আমরা নিরীহ মানুষ, দিনমজুরের কাজ করে সংসার চালাই। সরকারি চাকরি ও রাজনৈতিক প্রভাব দেখিয়ে আমাদের একমাত্র থাকার জায়গাটি জোরপূর্বক দখল করার চেষ্টা করা হচ্ছে। বাধা দেওয়ায় আমরা এখন বাড়িছাড়া। আহত অবস্থায় সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে গেলে সেখানেও আমাদের ভর্তি হতে বাধা দেওয়া হয়েছে।
ঘটনার পরদিন (১৩ জানুয়ারি) থানায় অভিযোগ করতে গেলে পুলিশ অভিযোগ গ্রহণ করেনি। ফলে পরিবারটি চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে এবং বসতভিটা দখল হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন।
সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগীরা অভিযুক্তদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও নিজের জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান। একই সঙ্গে শান্তিপূর্ণভাবে বসতভিটায় বসবাসের সুযোগ কামনা করেন।
অভিযুক্ত আ.ন.ম সেলিমের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সংযোগ পাওয়া যায়নি।
এদিকে সুধারাম মডেল থানার এসআই মুকিব হাসান জানান, মসজিদের জায়গা সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে মারামারি হয়েছে। তবে আব্বাস মিয়ার পক্ষ থেকে থানায় লিখিত অভিযোগ এখনো পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


