ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

স্কুলে শিক্ষার্থীদের ‘হেয়ার স্টাইল’ নির্ধারণ, না মানলে সাজা

পাবনা প্রতিনিধি
প্রকাশিত: এপ্রিল ১০, ২০২৬, ০৭:৫১ পিএম
স্কুলটির নোটিশ। ছবি : রূপালী বাংলাদেশ

পাবনার সাঁথিয়ায় বিদ্যালয়ের শৃঙ্খলার কথা উল্লেখ করে শিক্ষার্থীদের চুলের কাটিং বা ‘হেয়ার স্টাইল’ নির্দিষ্ট করে দিয়েছে একটি বিদ্যালয়। শুধু নির্দেশনা দিয়েই থেমে থাকেনি প্রতিষ্ঠানটি—নির্ধারিত মডেলের বাইরে চুল রাখলে শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) সাঁথিয়া উপজেলা পরিষদ উচ্চ বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশে এ সংক্রান্ত একটি নোটিশ জারি করে।

প্রধান শিক্ষক লিটন উদ্দিন স্বাক্ষরিত ওই নোটিশ বিদ্যালয়ের নোটিশ বোর্ডে টানানো হয় এবং পরে তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়। নোটিশে উল্লেখ করা হয়, আগামী ১৫ এপ্রিল থেকে শিক্ষার্থীদের নির্ধারিত ছবির আদলে চুল ছাঁটাই করে এবং হাত-পায়ের নখ কেটে বিদ্যালয়ে উপস্থিত হতে হবে। এ জন্য চারদিক থেকে তোলা একটি নির্দিষ্ট হেয়ার কাটিংয়ের ছবিও সংযুক্ত করা হয়েছে।

নোটিশে আরও বলা হয়, এ নির্দেশনা অমান্য করলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীকে ‘প্রাতিষ্ঠানিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের’ দায়ে শাস্তির আওতায় আনা হবে। চিঠির নিচে ‘বিশেষ দ্রষ্টব্য’ অংশে উল্লেখ করা হয়েছে, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), সাঁথিয়ার নির্দেশক্রমে এ সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হচ্ছে।

বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের এমন সিদ্ধান্তে অভিভাবক ও স্থানীয়দের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। অনেক অভিভাবক এটিকে শৃঙ্খলা রক্ষার ইতিবাচক উদ্যোগ হিসেবে দেখলেও, কেউ কেউ বিষয়টিকে ব্যক্তি-স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ হিসেবে দেখছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক অভিভাবক বলেন, ‘শৃঙ্খলা অবশ্যই প্রয়োজন, তবে চুলের কাটিং নিয়ে শাস্তির হুমকি দেওয়া কতটা যৌক্তিক, তা ভাবার বিষয়। এতে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ভীতি তৈরি হতে পারে।’

এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক লিটন উদ্দিন বলেন, শিক্ষার পরিবেশ বজায় রাখা এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে শৃঙ্খলা ও সমতা নিশ্চিত করতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এটি কোনো চাপ প্রয়োগ নয়, বরং প্রশাসনিক নির্দেশনার বাস্তবায়ন।

তবে এ বিষয়ে জানতে সাঁথিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রিজু তামান্নার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।