পটুয়াখালীতে ছোট ভাইয়ের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ে হওয়া বিরোধকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষের হামলায় খন্দকার নাহিদ নামের এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে।
শুক্রবার (২ জানুয়ারি) দুপুরে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (শেবাচিম) চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় নিহতের মা বাদী হয়ে ১০ জনের নাম উল্লেখ করে ও অজ্ঞাতনামা পাঁচ-ছয়জনের নামে পটুয়াখালী সদর থানায় একটি মামলা করেন।
গত বৃহস্পতিবার রাতে চার আসামিকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। গ্রেপ্তাররা হলেন—মাহিন (২৩), নাহিদ (২৩), তুষার আহমেদ হৃদয় ওরফে ছোটন (২২) ও সাইফুল ইসলাম হীরা (২৩)।
অন্য আসামিরা হলেন—স্বাধীন (২৩), নাজমুল (২২), ওমি (২৩), দিগন্ত (২২), ইমন (২৩) ও শাওন।
গত বুধবার সন্ধ্যায় পটুয়াখালী পৌর শহরের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের পানির ট্যাঙ্কের বিপরীতে হোয়াইট হাউস নামক নির্মাণাধীন ভবনের নিচতলায় এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও মামলা সূত্রে জানা যায়, দুই মাস আগে ঢাকায় ফারইস্ট ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে অধ্যয়নরত নিহতের ছোট ভাই খন্দকার ফাহিমের বন্ধুর সঙ্গে একই ইউনিভার্সিটির ছাত্র মোহাম্মদ মবিনের তুচ্ছ বিষয়ে বিরোধের সৃষ্টি হয়। পরে ইউনিভার্সিটিতে সিনিয়র শিক্ষার্থীদের মাধ্যমে বিষয়টি সমাধান হলেও সেই ঘটনার রেশ ধরে গত মঙ্গলবার ফাহিম ও নাহিদকে মারধর করে অভিযুক্তরা।
পরে গত বুধবার বিকেলে খন্দকার নাহিদের কর্মস্থলে গিয়ে ফের হামলা করে অভিযুক্তরা। সেখানে ক্রিকেট ব্যাট দিয়ে নাহিদকে বেধড়ক মারধর করে।
আশঙ্কাজনক অবস্থায় পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক নাহিদকে উন্নত চিকিৎসার জন্য শেবাচিমে রেফার করে। সেখানে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শুক্রবার নাহিদের মৃত্যু হয়।
পটুয়াখালী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান বলেন, মামলার পরিপ্রেক্ষিতে নিহত চার আসামিকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। বাকিদের গ্রেপ্তারের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
নিহত নাহিদের মরদেহ বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।



