পটুয়াখালী-৩ (দশমিনা–গলাচিপা) আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ও গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হক নুরের নির্বাচনি অফিসে প্রচারের শেষ দিনে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় পাশের একটি ওষুধের দোকান ও একটি মুদি দোকানেও আগুন দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ বিষয়ে নুরুল হক নুর বলেন, এই সন্ত্রাসীদের যদি গ্রেপ্তার করা না হয় এবং তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেওয়া হয়, তাহলে আমার পক্ষে নির্বাচন করা সম্ভব নয়।
মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) বিকেল ৫টার দিকে পটুয়াখালীর জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ শহীদ হোসেন চৌধুরীর সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব অভিযোগ তুলে ধরেন।
আগুনে পুড়ে যাওয়া অফিসটি দশমিনা উপজেলার আলিপুর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সভাপতি মো. আবু হোরায়রার বাড়ির সামনে অবস্থিত।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‘এলাকায় পরপর অন্তত পাঁচটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে রয়েছে—একটি বাড়িতে অগ্নিসংযোগ, একটি অফিস পুড়িয়ে দেওয়া, এক নারীকে ধর্ষণের পর হত্যা, চর বোরহানী অফিস ভাঙচুর এবং মানুষকে কুপিয়ে আহত করার ঘটনা। এ ধরনের গুরুতর অপরাধ সংঘটিত হলেও প্রশাসনের গৃহীত ব্যবস্থা সন্তোষজনক নয়।’
তিনি জানান, এসব বিষয়ে তিনি নির্বাচন কমিশনের সচিব ও পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি)-কেও অবহিত করেছেন। তার অভিযোগ, একজন স্বতন্ত্র প্রার্থী এলাকার চিহ্নিত চর দখলকারী, ভূমিদস্যু ও চাঁদাবাজ মাফিয়াদের নিয়ে এই শান্তিপূর্ণ জনপদে অশান্তি সৃষ্টি করছেন এবং পরিকল্পিতভাবে নির্বাচন বানচালের চেষ্টা চালাচ্ছেন।
তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের এজেন্ট ও ভোটাররা চরম নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে রয়েছেন। এসব অপকর্ম বন্ধে প্রশাসন যদি শক্ত ব্যবস্থা না নেয়, তাহলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠবে।’
নিজের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করে ভিপি নুর বলেন, ‘আমি একটি দলের প্রধান ও সাবেক ভিপি। আমার মতো একজন প্রার্থী যদি এমন নিরাপত্তাহীনতায় থাকি, তাহলে সারা দেশের পরিস্থিতি কেমন হতে পারে তা ভেবে আমি উদ্বিগ্ন।’



