ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

কৃষকদল নেতার বাড়িতে ‘জামায়াত-শিবিরের’ হামলা-লুটপাট

বাউফল (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ১৫, ২০২৬, ১০:৩৯ এএম
কৃষকদল নেতার বাড়িতে হামলা ও লুটপাট। ছবি : রূপালী বাংলাদেশ

পটুয়াখালীর বাউফলে এক প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর সমর্থকের বাড়িতে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে হামলা ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে।

শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে উপজেলার কালাইয়া ইউনিয়নের আয়নাবাজ কালাইয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী পরিবারটি বর্তমানে চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে। ভুক্তভোগী রমিজ দর্জি কালাইয়া ইউনিয়ন কৃষকদলের যুগ্ম আহ্বায়ক।

রমিজ দর্জির অভিযোগ : নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামীর সমর্থিত প্রার্থী বিজয়ী হওয়ার পর থেকে স্থানীয় জামায়াত-শিবিরের কর্মীরা তার ওপর ক্ষুব্ধ ছিল। শুক্রবার সকাল ১০টা থেকে ১১টার মধ্যে স্থানীয় জামায়াত নেতা আব্দুর রব ও তসলিম মৃধার নেতৃত্বে প্রায় দেড় শতাধিক লোক রামদা, লাঠিসোঁটাসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তার বাড়িতে হামলা চালায়। হামলাকারীরা ঘরে ঢুকে রমিজ দর্জিকে খুঁজে বের করার চেষ্টা করে এবং আসবাবপত্র ভাঙচুর করে।

রমিজের স্ত্রী লাইজু বেগম জানান, হামলাকারীরা তার গলায় রামদা ঠেকিয়ে রমিজের খোঁজ নেয় এবং রগ কেটে হত্যার হুমকি দেয়। তারা ঘর থেকে নগদ ২ লাখ টাকা, ২ ভরি স্বর্ণালঙ্কার, একটি এলইডি টেলিভিশন ও স্মার্টফোনসহ মূল্যবান সামগ্রী লুট করে নিয়ে গেছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র ও ছোটখাটো আসবাবপত্রও ভাঙচুর করা হয়। এর আগে নির্বাচনের আগের দিন রমিজ দর্জির বড় ছেলে রায়হানকে কুপিয়ে জখম করা হয়; তিনি বর্তমানে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

বাউফল উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক মো. তসলিম তালুকদার এই ঘটনাকে ‘মধ্যযুগীয় বর্বরতা’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন, নির্বাচনে জয়ের পর জামায়াত-শিবির পুরো উপজেলায় নৃশংসতা চালাচ্ছে। আমাদের দলীয় নেতার বাড়িতে হামলা হলেও পুলিশ এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি, যা অত্যন্ত দুঃখজনক।

অন্যদিকে অভিযোগ অস্বীকার করে উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি মো. খালেদুর রহমান বলেন, এ ধরনের কোনো ঘটনার খবর আমাদের কাছে নেই। বিজয়ের পর নেতাকর্মীদের শান্ত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কেউ আমাদের নাম ব্যবহার করে এসব করছে কি না, তা খতিয়ে দেখা দরকার।

বাউফল থানার ওসি মো. সিদ্দিকুর রহমান জানান, এ বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।