ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

​​ছাত্রলীগ-যুবলীগের হামলায় ছাত্রদল নেতা হাসপাতালে

​মির্জাগঞ্জ (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি
প্রকাশিত: এপ্রিল ২৩, ২০২৬, ১০:৩৬ পিএম
ছাত্রদল নেতা মো. সাইফুল ইসলাম

পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জে জমিজমাসংক্রান্ত বিরোধ ও রাজনৈতিক প্রতিহিংসার জেরে ছাত্রদল নেতা মো. সাইফুল ইসলামকে (২৮) পিটিয়ে গুরুতর জখম করার অভিযোগ উঠেছে। নিষিদ্ধঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগ ও যুবলীগের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে এই হামলার অভিযোগ তুলেছেন ভুক্তভোগী ও স্থানীয় ছাত্রদল নেতৃবৃন্দ। এ ঘটনায় থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হলেও এখন পর্যন্ত কোনো আসামি গ্রেপ্তার না হওয়ায় চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে ভুক্তভোগীর পরিবার।

​জিডি ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সাইফুল ইসলাম উপজেলার ৩ নম্বর আমড়াগাছিয়া ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি পদপ্রার্থী। গত ২০ এপ্রিল রাত আনুমানিক ৯টার দিকে আত্মীয়ের বাড়ি থেকে ফেরার পথে উত্তর আমড়াগাছিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পেছনের সড়কে হামলার শিকার হন তিনি। জমি নিয়ে পূর্ব বিরোধ থাকলেও মূলত রাজনৈতিক প্রতিহিংসা থেকেই পরিকল্পিতভাবে এই হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।

​হামলায় সরাসরি জড়িত থাকায় স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের মো. ইদ্রিস হাওলাদার (৪০), রমজান হাওলাদার (২০), সবুজ হাওলাদার (২২), মো. লাল মিয়া হাওলাদার (৬৫), জাফর, বশির ও নয়ন নামের ৭ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয়েছে।

​হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সাইফুল ইসলাম জানান, হামলাকারীরা হাতুড়ি ও দেশীয় অস্ত্র দিয়ে তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে, বিশেষ করে পা ও পিঠে এলোপাথাড়ি আঘাত করে। এতে তার শরীরে আঘাতের চিহ্ন ও কালশিটে দাগ হয়ে যায়। 

সাইফুল বলেন, আমি একজন ছাত্রদলকর্মী হিসেবে সব সময় ন্যায়ের পক্ষে কথা বলি। তারা আমাকে মেরে ফেলার উদ্দেশ্যে হামলা করেছিল এবং যাওয়ার সময়ও প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে গেছে।

​এ ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন মির্জাগঞ্জ উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি আবুল বাশার মোখলেছ। তিনি বলেন, নিষিদ্ধঘোষিত ছাত্রলীগ ও যুবলীগের সন্ত্রাসীরা আমাদের একজন পদপ্রার্থীকে বর্বরোচিতভাবে পিটিয়েছে। আমরা এর সুষ্ঠু বিচার ও দোষীদের অবিলম্বে গ্রেপ্তারের দাবি জানাচ্ছি।

​স্থানীয়রা জানান, ​ভুক্তভোগী গত ২১ এপ্রিল মির্জাগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দিলেও পুলিশ সেটিকে নিয়মিত মামলা বা এজাহার হিসেবে গ্রহণ না করে কেবল সাধারণ ডায়েরি (জিডি) হিসেবে নথিভুক্ত করেছে। ঘটনার কয়েক দিন পার হলেও কোনো আসামি গ্রেপ্তার না হওয়ায় সাইফুল মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন। বর্তমানে তিনি এবং তার পরিবার জীবনের নিরাপত্তা নিয়ে চরম আতঙ্কে রয়েছেন।

মির্জাগঞ্জ থানার ওসি আব্দুস সালাম জানান, সাইফুল ইসলামের করা অভিযোগটি ইতোমধ্যে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) হিসেবে গ্রহণ করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। আমরা বর্তমানে ভুক্তভোগীর মেডিক্যাল সার্টিফিকেটের অপেক্ষায় আছি। মেডিক্যাল ছাড়পত্র পাওয়া গেলেই সেই অনুযায়ী পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।