মাত্র এক মিনিট দেরিতে উপস্থিত হওয়ায় পিরোজপুরে গণঅধিকার পরিষদের প্রার্থী আনিসুর রহমান মুন্নার মনোনয়নপত্র গ্রহণ করেননি রিটার্নিং কর্মকর্তা। মনোনয়নপত্র জমাদানের শেষ দিন সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) নির্ধারিত সময়ের পর উপস্থিত হওয়ায় তাঁর মনোনয়নপত্র দাখিল ব্যর্থ হয়।
প্রতিবাদস্বরূপ সোমবার রাতে বরিশাল শহরের রাজাবাহাদুর সড়কসংলগ্ন বিভাগীয় কমিশনারের বাসভবনের সামনে অবস্থান নেন প্রার্থী আনিসুর রহমান মুন্না। একই সঙ্গে মনোনয়নপত্র জমা না নেওয়ার বিষয়ে তিনি বিভাগীয় কমিশনার মোস্তাফিজুর রহমানের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন।
আনিসুর রহমান মুন্নার অভিযোগ, মনোনয়নপত্র জমা দিতে তিনি সোমবার শেষ মুহূর্তে পিরোজপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে উপস্থিত হন এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই জমা দেওয়ার চেষ্টা করেন। তবে বিকেল ৪টা ৪৬ মিনিটে গেটে পৌঁছালে তাঁকে ভেতরে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি। অনুরোধ করার পরও তাঁকে কার্যালয়ে ঢুকতে দেওয়া হয়নি।
তিনি বলেন, “গেটে থাকা এক ব্যক্তি আমাকে প্রশ্ন করেন—‘এক মিনিট দেরি কেন হলো, সেটা আগে বলেন।’ কিছুক্ষণ পর একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এসে জানান, জেলা প্রশাসকের সঙ্গে কথা বলে বিষয়টি জানানো হবে। পরে তিনি আর ফিরে আসেননি।”
পরবর্তীতে জেলা প্রশাসকের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করলে জেলা প্রশাসক তাঁর পুরো বক্তব্য না শুনেই জানান, নির্ধারিত সময় শেষ হয়ে যাওয়ায় মনোনয়নপত্র গ্রহণ করা সম্ভব নয়।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে পিরোজপুরের জেলা প্রশাসক মো. আবু সাঈদ রূপালী বাংলাদেশকে বলেন, “প্রার্থী নির্ধারিত সময়ের অনেক পরে উপস্থিত হয়েছেন। তাই তাঁর মনোনয়নপত্র গ্রহণ করা হয়নি।”
আনিসুর রহমান মুন্না জানান, মনোনয়নপত্র জমাদানে ব্যর্থ হওয়ার বিষয়টি তিনি বরিশাল বিভাগীয় কমিশনারকে অবহিত করলে তাঁকে লিখিত অভিযোগ দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। প্রশাসনের শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তার পরামর্শ অনুযায়ী তিনি রাতেই বরিশাল বিভাগীয় কমিশনারের বাসভবনের সামনে অবস্থান নেন।
রাত প্রায় সাড়ে ১০টার দিকে বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার মোস্তাফিজুর রহমান নিজ বাসভবনের ভেতরে ডেকে নেন আনিসুর রহমান মুন্নাকে। সেখানে তিনি পুণরায় মনোনয়নপত্র জমা নেওয়ার অনুরোধ জানান।
এ বিষয়ে বিভাগীয় কমিশনার মোস্তাফিজুর রহমান রূপালী বাংলাদেশকে বলেন, “প্রার্থীর অভিযোগটি গ্রহণ করা হয়েছে। মঙ্গলবার খোঁজখবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”


