পিরোজপুরে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের দোসরদের বিএনপিতে যোগদানের ঘটনায় প্রতিবাদ জানিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের একাংশের নেতাকর্মীরা।
রোববার (১৮ জানুয়ারি) সন্ধ্যা ৭টার দিকে শহরের হোটেল নায়োরীতে ‘নির্যাতিত বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মী’ ব্যানারে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত ও মৌখিক বক্তব্য রাখেন জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. রেজাউল হক রিয়াজ।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সদস্য মো. নেছার শেখ, জেলা যুবদলের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. বাহাদুর হোসেন, জেলা জাতীয়তাবাদী মৎস্যজীবী দলের সাবেক সদস্যসচিব মো. আলী আহমদ মোল্লা, জেলা জাতীয়তাবাদী চালক দলের সাবেক আহ্বায়ক কাজী মাইনুল হক সাইদুলসহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের অন্যান্য নেতাকর্মীরা।
সংবাদ সম্মেলনে মো. রেজাউল হক রিয়াজ বলেন, ‘সম্প্রতি পিরোজপুর জেলা বিএনপিতে যাদের যোগদান করানো হয়েছে, তারা সবাই স্বৈরাচার আওয়ামী লীগের দোসর। তাদের মাধ্যমেই বিএনপির অসংখ্য নেতাকর্মী নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। নির্বাচনের স্বার্থে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী আলমগীর হোসেন নিজের ব্যক্তিগত লাভের জন্য আওয়ামী সন্ত্রাসীদের বিএনপিতে ঢুকাচ্ছেন—আমরা এর তীব্র প্রতিবাদ জানাই।’
তিনি বলেন, ‘ফ্যাসিস্ট হাসিনা সরকারের আমলে আমরা যারা দায়িত্বশীল পদে ছিলাম, তারা ভয়াবহ নির্যাতনের শিকার হয়েছি। আমরা নিজ ঘরে ঘুমাতে পারিনি, মায়ের মৃত্যুর জানাজায় যেতে পারিনি, বাবার অসুস্থতায় পাশে থাকতে পারিনি। অথচ যারা আমাদের ওপর এই নির্যাতন চালিয়েছে, আজ তাদেরই কিছু স্বার্থান্বেষী মহল বিএনপিতে পুনর্বাসন করছে।’
রেজাউল হক রিয়াজ আরও বলেন, ‘আমি আমাদের প্রিয় নেতা তারেক রহমানের সঙ্গে সেন্ট্রাল জেলে একসঙ্গে কারাবরণ করেছি। জেলা বিএনপির সদস্য মোহাম্মদ নিসার আলী শেখকে জেলা বিএনপি অফিস থেকে গ্রেপ্তার করে রিমান্ডে নিয়ে তার হাতের প্রতিটি নখ তুলে ফেলেছিল ফ্যাসিস্ট হাসিনার পুলিশ বাহিনী। আজ সেই ত্যাগী নেতাকর্মীদের কোনো মূল্য নেই, বরং খুনি লীগের সন্ত্রাসীদের দলে স্থান দেওয়া হচ্ছে—আমরা এর ঘোর প্রতিবাদ জানাই।’
তিনি বলেন, ‘আমাদের বিশ্বাস, আমাদের প্রিয় নেতা তারেক রহমান হয়তো এসব বিষয় অবগত নন কিংবা তাকে ভুল তথ্য দেওয়া হচ্ছে। প্রয়োজনে আমরা কেন্দ্রীয় বিএনপির কাছে লিখিত অভিযোগ দাখিল করব।’
সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও বলেন, ‘গত ১৬-১৭ বছর ধরে যারা আমাদের ওপর নির্যাতন চালিয়েছে, সেই আওয়ামী লীগের কতিপয় নেতাকর্মীকে সম্প্রতি বিএনপিতে যোগদান করানো হয়েছে। একজন সাধারণ ও ত্যাগী কর্মী হিসেবে আমরা যারা যোগদান করেছে এবং যারা যোগদান করিয়েছে—উভয়ের প্রতিই ধিক্কার জানাই। আজ নব্য বিএনপিরা সামনের কাতারে, আর ত্যাগী নেতাকর্মীরা পেছনে পড়ে আছে, এটি আমাদের জন্য চরম লজ্জার বিষয়।’
তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‘ঢাকায় সম্প্রতি পিরোজপুরের কতিপয় চিহ্নিত সন্ত্রাসী বিএনপিতে যোগদান করেছে। পিরোজপুর থেকে হুলারহাট পর্যন্ত যারা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালাত, তারাই এখন বিএনপির ব্যানারে রাজনীতি করছে। এতে আমরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। আমাদের জীবনের ঝুঁকি রয়েছে—যেকোনো সময় তারা আবার অঘটন ঘটাতে পারে।’
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত নেতারা জানান, এসব বিষয় সারা দেশের মানুষকে জানানো এবং দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দৃষ্টি আকর্ষণের জন্যই তারা সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেছেন, যদিও এতে তাদের জীবনের ঝুঁকিও রয়েছে।



