ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

সুদানে নিহত সৈনিক শামীম রেজার দাফন রাজবাড়ীতে সম্পন্ন

রাজবাড়ী প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ডিসেম্বর ২১, ২০২৫, ০৭:৫৭ পিএম
রাজবাড়ীর কালুখালীতে সৈনিক শামীম রেজার দাফন সম্পন্ন। ছবি- রূপালী বাংলাদেশ

আফ্রিকার সুদানের আবেই এলাকায় সন্ত্রাসীদের ড্রোন হামলায় শহীদ হওয়া বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সৈনিক শামীম রেজার দাফন রাজবাড়ীর কালুখালীতে সম্পন্ন হয়েছে। 

রোববার (২১ ডিসেম্বর) বিকেলে উপজেলার মৃগী ইউনিয়নের হোগলাডাঙ্গি গ্রামে পারিবারিক কবরস্থানে যথাযথ সামরিক মর্যাদায় তার দাফন সম্পন্ন হয়।

দুপুর পৌনে ২টায় মরদেহবাহী হেলিকপ্টারটি কালুখালী মিনি স্টেডিয়ামে অবতরণ করলে সেনাবাহিনীর একটি দল মরদেহটি লাশবাহী ফ্রিজিং ভ্যানে শামীমের নিজ বাড়িতে নিয়ে আসে। সেখানে স্বজন ও এলাকাবাসীর জন্য প্রায় আধাঘণ্টা মরদেহ রাখা হয়। এরপর জানাজা নামাজ শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে সমাহিত করা হয়।

শামীম তিন ভাই ও এক বোনের মধ্যে সবার বড়। মেজ ভাই সোহেল ফকির সৌদি আরব প্রবাসী, সেজো ভাই সোহান বেকার অবস্থায় বাড়িতেই রয়েছেন এবং একমাত্র বোন মরিয়ম খাতুন হাফেজিয়া মাদ্রাসায় পড়াশোনা করছেন। শামীম ২০১৮ সালের ১৪ জানুয়ারি সেনাবাহিনীতে যোগ দেন এবং ৭ নভেম্বর জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে সুদানে যান।

শামীমের বাবা আলমগীর ফকির জানান, সর্বশেষ ১২ ডিসেম্বর ভিডিও কলে কথা হয়েছিল। সে বলেছিল, ‘আব্বু, আমি ডিউটিতে যাচ্ছি, দোয়া করো’। কিন্তু ফেরত এলো না। শনিবার রাত ১২টার দিকে জানতে পারি আমার ছেলে আর নেই।

তিনি আরও বলেন, শামীম দেড় বছর আগে কুষ্টিয়ার খোকসায় বিয়ে করেছিলেন এবং ছোট ভাই-বোনদের ভবিষ্যত গড়ে দেওয়ার স্বপ্ন ছিল। মিশন থেকে ফেরার সময় একমাত্র বোনের জন্য সোনার গহনা আনার ইচ্ছে ছিল তার।

উল্লেখ্য, ১৩ ডিসেম্বর সুদানের আবেই এলাকায় জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনের কাদুগলি লজিস্টিকস বেইসে বিচ্ছিন্নতাবাদী সশস্ত্র গোষ্ঠীর ড্রোন হামলায় শামীমসহ ছয় জন বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী নিহত হন। হামলায় নয় জন আহত হন; তাদের মধ্যে আট জন কেনিয়ার নাইরোবিতে অবস্থিত আগা খান ইউনিভার্সিটি হাসপাতালে (লেভেল ৩) চিকিৎসাধীন। 

আহত সৈনিক মো. মেজবাউল কবিরের অবস্থার গুরুতর কারণে অস্ত্রোপচার করা হয়েছে। বাকিরা শঙ্কামুক্ত, একজন ইতোমধ্যেই ছাড়পত্র পেয়েছেন।