ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

‘ডিউটিতে যাচ্ছি, দোয়া করো’—মৃত্যুর আগের দিন বাবাকে শামীম রেজা

ফয়সাল আহমেদ, রাজবাড়ী
প্রকাশিত: ডিসেম্বর ২১, ২০২৫, ০৮:১৭ পিএম
শামীম রেজা। ছবি- সংগৃহীত

আফ্রিকার সুদানের আবেই এলাকায় সন্ত্রাসীদের ড্রোন হামলায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সৈনিক শামীম রেজা নিহত হয়েছেন। ১৩ ডিসেম্বর শহীদ হওয়া শামীমের দাফন রোববার (২১ ডিসেম্বর) বিকেলে রাজবাড়ীর কালুখালীর মৃগী ইউনিয়নের হোগলাডাঙ্গি গ্রামে পারিবারিক কবরস্থানে যথাযথ সামরিক মর্যাদায় সম্পন্ন হয়েছে।

শামীমের বাবা আলমগীর ফকির জানান, নিহত হওয়ার আগের দিন শেষবারের মতো তিনি তার সঙ্গে ভিডিও কলে কথা বলেন। শামীম তখন বলেছিলেন, ‘আব্বু, আমি ডিউটিতে যাচ্ছি, দোয়া করো।’ কিন্তু ফেরত আসেনি। শনিবার (১৩ ডিসেম্বর) রাত ১২টার দিকে পরিবার জানতে পারে শামীম আর নেই।

আলমগীর ফকির বলেন, শামীম দেড় বছর আগে কুষ্টিয়ার খোকসায় বিয়ে করেছিলেন এবং ছোট ভাই-বোনদের ভবিষ্যত গড়ে দেওয়ার স্বপ্ন দেখেছিলেন। মিশন থেকে ফেরার সময় একমাত্র বোনের জন্য সোনার গহনা আনার ইচ্ছে ছিল তার।

শামীম তিন ভাই ও এক বোনের মধ্যে বড়। মেজ ভাই সোহেল সৌদি আরব প্রবাসী, সেজো ভাই সোহান বেকার এবং একমাত্র বোন মরিয়ম খাতুন হাফেজিয়া মাদ্রাসায় পড়াশোনা করছেন। শামীম ২০১৮ সালের ১৪ জানুয়ারি সেনাবাহিনীতে যোগ দেন এবং ৭ নভেম্বর জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে সুদানে যান।

রোববার দুপুর পৌনে ২টায় মরদেহবাহী হেলিকপ্টারটি কালুখালী মিনি স্টেডিয়ামে অবতরণ করলে সেনাবাহিনীর একটি দল মরদেহটি লাশবাহী ফ্রিজিং ভ্যানে শামীমের নিজ বাড়িতে নিয়ে আসে। স্বজন ও এলাকাবাসীর দেখার জন্য প্রায় আধাঘণ্টা মরদেহ রাখা হয়। এরপর জানাজা নামাজ শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে সমাহিত করা হয়।

উল্লেখ্য, ১৩ ডিসেম্বর সুদানের আবেই এলাকায় জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনের কাদুগলি লজিস্টিকস বেইসে বিচ্ছিন্নতাবাদী সশস্ত্র গোষ্ঠীর ড্রোন হামলায় শামীমসহ ছয় জন বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী নিহত হন। 

হামলায় নয় জন আহত হন; তাদের মধ্যে আট জন কেনিয়ার নাইরোবিতে অবস্থিত আগা খান ইউনিভার্সিটি হাসপাতালে (লেভেল ৩) চিকিৎসাধীন। আহত সৈনিক মো. মেজবাউল কবিরের অবস্থার গুরুতর কারণে অস্ত্রোপচার করা হয়েছে। বাকিরা শঙ্কামুক্ত, একজন ইতোমধ্যেই ছাড়পত্র পেয়েছেন।