ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

রামেকে জলাতঙ্কের ভ্যাকসিন সংকট

রাজশাহী ব্যুরো
প্রকাশিত: জানুয়ারি ৯, ২০২৬, ১১:৫২ এএম
রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল। ছবি : রূপালী বাংলাদেশ

রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বিনামূল্যে জলাতঙ্ক রোগের ভ্যাকসিন দেওয়া হতো। এতে উত্তরাঞ্চলের মানুষ খুবই উপকৃত হতেন।

বর্তমানে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে বিনামূল্যে জলাতঙ্কের ভ্যাকসিনের সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। এতে অনেক রোগী হাসপাতালে এসে ফিরে যাচ্ছেন। 

নগরীর ফার্মেসিগুলোতেও একই চিত্র দেখা যায়। কোথাও মিলছে না ভ্যাকসিন।  ভ্যাকসিন না পাওয়ায় চরম ক্ষোভ ও দুর্ভোগে পড়েছেন রাজশাহী অঞ্চলের মানুষ।

সাধারণত কুকুর-বিড়ালে কামড় দিলে এই ভ্যাকসিন প্রদান করতে হয়। রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রতিদিন এ ধরনের রোগী এসে থাকে। তারা দ্রুত রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে জলাতঙ্ক রোগের ভ্যাকসিন সরবরাহের দাবি জানান। 

রামেক হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, রামেক  হাসপাতালে নিয়মিত বিনামূল্যে জলাতঙ্ক রোগের ভ্যাকসিন সরবরাহ করা হলেও গত ২১ দিন ধরে ভ্যাকসিনের সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। এতে রোগীরা হতাশ হয়ে পড়েছেন।  হাসপাতালটিতে প্রতিদিন গড়ে ২৭০ থেকে ২৮০ রোগী জলাতঙ্কের ভ্যাকসিন নেয়। সেই হিসাবে প্রতি মাসে প্রায় সাড়ে আট হাজার পিস ভ্যাকসিন রোগীদের জন্য প্রয়োজন হয়। 

চিকিৎসা-সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কুকুরের সুনির্দিষ্ট প্রজনন মৌসুম নেই। যদিও নির্দিষ্ট কোনো ঋতু নেই, অনেক জায়গায় ভাদ্র ও আশ্বিন মাসকে (আগস্ট-অক্টোবর) কুকুরের প্রজননের জন্য বেশি সক্রিয় সময় হিসেবে ধরা হয়। বর্তমানে কুকুর বাচ্চা প্রসব করেছে। এ কারণে তাদের বাচ্চাদের রক্ষায় তারা আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে। বিভিন্ন সময় কুকুর তেড়ে এসে কামড় দেয়। এমন ঘটনা আহরহ ঘটছে। তাই সরকারিভাবে দ্রুত এ ভ্যাকসিনের সরবরাহ করা জরুরি। 

রোগী ও স্বজনরা অভিযোগ করছেন, হাসপাতালে ভ্যাকসিনের অভাব। অনেকে হাসপাতালেও ভ্যাকসিন না থাকায় বাইরের ফার্মেসিগুলোতে খোঁজ করছেন। কিন্তু সেখানেও পাওয়া যাচ্ছে না জলাতঙ্কের ভ্যাকসিন। 

রামেক হাসপাতালকে কেন্দ্র করে নগরীর লক্ষ্মীপুরে গড়ে উঠেছে ওষুধের ফার্মেসি। নগরীর লক্ষ্মীপুর এলাকার ওষুধের বেশ কিছু ফার্মেসিতে খোঁজ করে পাওয়া যায়নি জলাতঙ্কের ভ্যাকসিন। 

ঐশী ফার্মেসির এক বিক্রেতা বলেন, শুনলাম হাসপাতালেও নেই জলাতঙ্কের ভ্যাকসিন। দোকানেও পাওয়া যাচ্ছে না ভ্যাকসিন। প্রতিদিন প্রচুর রোগী এসে খুঁজছে ভ্যাকসিন। 

দামের বিষয়ে তিনি বলেন, ভ্যাকসিনের এক ভাওয়ালের দাম ৪০০ টাকা। তবে এটি কোথাও পাওয়া যাচ্ছে না। এখন দামের বিষয়ে বলতে পারছি না। আমরা কোম্পানিতে জানাচ্ছি, সেখান থেকেও আসছে না। 

নগরীর কুখুন্ডি বুধপাড়া এলাকায় কুদ্দুস আলীর মেয়েকে কুকুরে কামড় দেয় দুই সপ্তাহ আগে। তিনি দুই ডোজ হাসপাতাল থেকে পেয়েছেন। বাইরে থেকে এক ডোজ দিয়েছেন। 

তিনি বলেন, ‘আরেক ডোজ দেওয়ার ডেট রয়েছে শনিবার। কিন্তু শুনলাম জলাতঙ্কের ভ্যাকসিন পাওয়া যাচ্ছে না। দেখা যাক, কী করা যায়।’

গত বুধবার (৭ জানুয়ারি) কুকুরের কামড়ে আক্রান্ত হন আলী হোসেন (১৮)। বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) তিনি রামেক হাসপাতালে ভ্যাকসিন নিতে আসেন। কিন্তু বিনামূল্যে ভ্যাকসিন না পাওয়ায় বাইরের ওষুধের ফার্মেসিতে খোঁজ করেন। কিন্তু তিনি সেখানেও পাননি। 

আলী হোসেন বলেন, হাসপাতালে বিনামূল্যে ভ্যাকসিন পাওয়া যায়। কিন্তু এসে শুনি সরবরাহ নেই। কাছে টাকা ছিল না, বাড়িতে ফোন দিয়ে বিকাশের মাধ্যমে টাকা নিলাম। কিন্তু ফার্মেসিতেও ভ্যাকসিন পাওয়া যাচ্ছে না। 

এ প্রসঙ্গে রামেক হাসপাতালের মুখপাত্র ডা. শংকর কুমার বিশ্বাস বলেন, আমরা মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠিয়েছি। রোগ নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে আমরা চিঠি প্রেরণ করেছি। কিছু সময় তারা চাহিদার তুলনায় অপ্রতুল ভ্যাকসিন দিয়েছে। কিছু সময় দিতে পারেনি। গত তিন সপ্তাহ (২১ দিন) থেকে হাসপাতালে জলাতঙ্কের ভ্যাকসিন সরবারহ নেই। প্রতিদিন হাসপাতালের চাহিদা ২৭০ থেকে ২৮০ ভ্যাকসিনের। দ্রুত এই ব্যাপারে পদক্ষেপ নিতে আমাদের প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

এ বিষয়ে রাজশাহী বিভাগীয় স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. জাফরুল হোসেন বলেন, শুধু রাজশাহী নয়, সারাদেশে একই অবস্থা। আমরা এটা মন্ত্রণালয়ে জানিয়েছি। এ বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ জরুরি।