ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

রাঙামাটির ২০ কেন্দ্রে হেলিকপ্টারে পাঠানো হলো ভোটের সরঞ্জাম

রাঙামাটি প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ১০, ২০২৬, ০৪:৫৩ পিএম
ছবি- রূপালী বাংলাদেশ

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রাক্কালে রাঙামাটির দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় হেলিকপ্টারের মাধ্যমে ভোটের সরঞ্জাম ও নির্বাচন সংশ্লিষ্ট জনবল পাঠানো হচ্ছে। গত দুইদিনে জেলার ৪ উপজেলার মোট ১৪টি ভোটকেন্দ্রে হেলিকপ্টার যোগে নির্বাচনি সরঞ্জামাদি এবং জনবল পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) সকালে বাঘাইছড়ি, জুরাছড়ি ও বিলাইছড়ি উপজেলার বাকি ৬টি ভোটকেন্দ্রেও হেলিকপ্টারের মাধ্যমে সমস্ত নির্বাচনী সরঞ্জাম ও জনবল পাঠানো হয়েছে। এর ফলে দুর্গম পাহাড়ি এলাকার সব হেলিশর্ট ভোটকেন্দ্রে নির্বাচনী প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে।

উপজেলাগুলোর মধ্যে বাঘাইছড়িতে ৬টি, বরকলে ২টি, জুরাছড়িতে ৭টি এবং বিলাইছড়িতে ৫টি ভোটকেন্দ্র রয়েছে। এসব ২০টি হেলিশর্ট ভোটকেন্দ্রে মোট ভোটার সংখ্যা ৩৩,৫৪৩ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১৭,৯০২ জন এবং নারী ভোটার ১৫,৬৪১ জন।

নির্বাচনকে ঘিরে জেলায় জোরদার করা হয়েছে নিরাপত্তা ব্যবস্থা। এবারের নির্বাচনে দায়িত্ব পালন করবেন ৩,৪০০ জন সেনাবাহিনী সদস্য, ৩৭টি প্লাটুন বিজিবি, ১,৫৯৫ জন পুলিশ এবং ২,৭৬৯ জন আনসার সদস্য। পাশাপাশি নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন ১২ জন ম্যাজিস্ট্রেট।

হেলিশর্ট কেন্দ্রে ভোটগ্রহণের পাশাপাশি রাঙামাটিতে ৩৬টি ভোটকেন্দ্র রয়েছে যেখানে মোবাইল নেটওয়ার্ক নেই এবং ৬৫টি ভোটকেন্দ্র বিদ্যুৎবিহীন। এসব এলাকায় ভোটগ্রহণ শেষে ফলাফল সংগ্রহ ও প্রেরণের জন্য পুলিশ ও বিজিবি অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করবে বলে নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।

রাঙামাটি-২৯৯ সংসদীয় আসনে এবারের নির্বাচনে মোট ৭ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তাদের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) মনোনীত প্রার্থী দীপেন দেওয়ান, বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির প্রার্থী জুঁই চাকমা, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের প্রার্থী আবু বক্কর সিদ্দিক, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী মুহাম্মদ জসীম উদ্দিন, গণঅধিকার পরিষদের প্রার্থী এম এ বাশার, জাতীয় পার্টির প্রার্থী অশোক তালুকদার এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী পহেল চাকমা রয়েছেন।

জেলার ১০ উপজেলায় মোট ২১৩টি ভোটকেন্দ্রে এবারের নির্বাচনে ভোট দেবেন ৫,০৯,২৬৭ জন ভোটার।

অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও জেলা সহকারী রিটার্নিং অফিসার নিশাত শারমিন বলেন, নির্বাচনের সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। ২০টি দুর্গম ভোটকেন্দ্রে হেলিকপ্টার যোগে নির্বাচনী সরঞ্জামাদি ও জনবলসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পাঠানো হয়েছে। নির্বাচনে সেনাবাহিনী, পুলিশ, বিজিবি, গোয়েন্দা সংস্থা, আনসার ব্যাটালিয়ন ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করবে।