বাংলাদেশের ইন্সপেক্টর জেনারেল অব পুলিশ (আইজিপি) বাহারুল আলম বলেছেন, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সহিংসতা এড়াতে ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যদের বডি অন ক্যামেরা দেওয়া হবে।
তিনি বলেন, ‘সারা দেশে প্রায় ২৪ হাজার ঝুঁকিপূর্ণ ভোটকেন্দ্র রয়েছে। এসব কেন্দ্রে যাতে কোনো ধরনের সহিংসতা বা বিশৃঙ্খলা না ঘটে, সে জন্য বডি অন ক্যামেরা ব্যবহার করা হবে। এর মাধ্যমে সব কার্যক্রম তদারকি করা সম্ভব হবে।’
শনিবার (১০ জানুয়ারি) দুপুরে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ ও জেলার বিভিন্ন ইউনিটের পুলিশ কর্মকর্তা ও সদস্যদের সঙ্গে আয়োজিত এক বিশেষ কল্যাণ সভা শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন আইজিপি।
এ সময় তিনি পুলিশের কাজে সকলের সহযোগিতা কামনা করেন। অনুষ্ঠানে রংপুর রেঞ্জের ডিআইজি আমিনুল ইসলাম, রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মজিদ আলীসহ বিভাগের আট জেলার পুলিশ সুপার ও ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
আইজিপি আরও বলেন, ‘অবৈধ অস্ত্র এক-দুটি করে উদ্ধার করা হচ্ছে, তবে এখনই সব অস্ত্র উদ্ধার করা সম্ভব নয়। যারা নির্বাচনে দায়িত্ব পালন করবেন, তাদের সক্ষমতা ও নিরপেক্ষতা যাচাই করে দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে।’
তিনি জানান, রংপুর বিভাগের সব পুলিশ সদস্য অবাধ, সুষ্ঠু ও উৎসবমুখর নির্বাচন নিশ্চিত করতে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। নির্বাচন কমিশনের উদ্যোগ বাস্তবায়নে পুলিশ সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখা পুলিশের দায়িত্ব।
আইজিপি বলেন, ‘নির্বাচনে পুলিশ একা কাজ করবে না। নির্বাচনের দিন পুলিশের সঙ্গে ছয় লাখ আনসার সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। নির্বাচনের আগেই সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, বিমানবাহিনীসহ অন্যান্য প্রতিরক্ষা বাহিনী আমাদের সঙ্গে মাঠে রয়েছে। সীমান্ত এলাকায় বিজিবি এবং উপকূলীয় অঞ্চলে কোস্ট গার্ড ও নৌবাহিনীও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় কাজ করছে।’
পুলিশ বাহিনীর অতীত ভূমিকা প্রসঙ্গে আইজিপি বলেন, ‘গত ১৫ বছরে পুলিশ দলীয় চরিত্রে গড়ে ওঠায় নানা ধরনের বিচ্যুতি হয়েছে এবং কিছু গণবিরোধী কাজ সংঘটিত হয়েছে। জুলাই–আগস্টে সংঘটিত দুঃখজনক ঘটনায় বিপুল সংখ্যক আন্দোলনকারী প্রাণ হারিয়েছেন। এসব ঘটনার দায়ভার পুলিশের ওপরও এসেছে। সেখান থেকে বেরিয়ে এসে বাংলাদেশ পুলিশকে তার গৌরবময় অবস্থানে ফিরিয়ে আনতে আমরা গত এক বছর ধরে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা শতভাগ সফল হয়েছি—এ কথা বলব না। তবে আমাদের চেষ্টার কোনো কমতি নেই। অপরাধ নিয়ন্ত্রণ শতভাগ কোনো দেশেই সম্ভব নয়। গত ১০-১৫ বছরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী দেশে প্রতি বছর সাড়ে তিন থেকে চার হাজার হত্যাকাণ্ড ঘটে। আমাদের লক্ষ্য—একজন মানুষও যেন প্রাণ না হারায়।’
আইজিপি বলেন, ‘শরীর ওসমান হাদির মৃত্যু পুরো জাতিকে নাড়া দিয়েছে। সংখ্যালঘু নির্যাতনের ঘটনাও আমাদের জাতীয় ইমেজ ক্ষুণ্ন করে। রংপুরসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষ শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করে আসছে। সুযোগসন্ধানীরা সুযোগ পেলেই বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে। আমরা তাদের আইনের আওতায় আনতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি।’



