ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি আবু সাদিক কায়েম বলেছেন, আমরা সন্ত্রাসমুক্ত, চাঁদাবাজি ও দুর্নীতিমুক্ত এবং ইনসাফভিত্তিক একটি বাংলাদেশ গড়তে চাই। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে ইনসাফের প্রতীক দাঁড়িপাল্লায় ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করার আহ্বান জানান তিনি। তিনি বলেন, জামায়াত ক্ষমতায় এলে এ দেশের নারীরা সবচেয়ে নিরাপদ থাকবে এবং মা-বোনেরা নির্ভয়ে ও নিরাপদে চলাচল করতে পারবেন।
শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) সকালে সাতক্ষীরা জেলার শ্যামনগর উপজেলার নকিপুর সরকারি হরিচরণ পাইলট মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে জামায়াতে ইসলামীর আয়োজিত নির্বাচনি জনসভায় প্রধান বক্তার বক্তব্যে এসব কথা বলেন সাদিক কায়েম।
তিনি আরও বলেন, ‘জুলাই পরবর্তী সময়ে একটি রাজনৈতিক দল নিজেদের অভ্যন্তরীণ সংঘর্ষে শতাধিক নেতাকর্মী হারিয়েছে। যারা নিজেদের নেতাকর্মীদের নিরাপত্তা দিতে পারেনি, তারা দেশের মানুষকে নিরাপত্তা দিতে পারবে না। বরং জামায়াতই জুলাই পরবর্তী সময়ে মানুষের পাশে থেকে নিরাপত্তার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে।’
শ্যামনগর উপজেলা জামায়াতের আমির আব্দুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা এইচ. এম. আব্দুল হালিম এবং খুলনা-১ আসনের দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী কৃষ্ণ নন্দী।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য অ্যাডভোকেট মোয়াজ্জেম হোসেন হেলাল, বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি সিবগাতুল্লাহ সিবগা, সাতক্ষীরা-৪ আসনের দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী ও সাবেক সংসদ সদস্য আলহাজ্ব গাজী নজরুল ইসলাম, জেলা জামায়াতের আমির শহীদুল ইসলাম মুকুল এবং সেক্রেটারি আজিজুর রহমান প্রমুখ।
মাওলানা এইচ. এম. আব্দুল হালিম বলেন, দেশের মানুষ আজ পরিবর্তনের পথে এগিয়ে যাচ্ছে। জামায়াতের বাস্তবসম্মত ও বিজ্ঞানভিত্তিক ইশতেহার বাস্তবায়নের মাধ্যমে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও কৃষিখাতে উন্নয়ন ঘটিয়ে একটি দুর্নীতিমুক্ত রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে।
সভায় খুলনা-১ আসনের মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী কৃষ্ণ নন্দী বলেন, অতীতে সাতক্ষীরায় যে জুলুম-নির্যাতন চালানো হয়েছে, তা আর চলতে দেওয়া হবে না। জামায়াত ক্ষমতায় এলে এ দেশের হিন্দু সম্প্রদায়সহ সব ধর্মের মানুষ নিরাপদে বসবাস করতে পারবে। তিনি আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে সাতক্ষীরার চারটি আসনে জামায়াত মনোনীত প্রার্থীদের ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করার আহ্বান জানান।
এ ছাড়া সভায় অন্যান্য বক্তারা শ্যামনগরে টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ, সুন্দরবনকে পর্যটন কেন্দ্রে রূপান্তর, রেললাইন স্থাপন এবং উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ১০০ শয্যায় উন্নীত করার ঘোষণা দেন। একই সঙ্গে ৫৪ বছরের ‘মাফিয়া শাসনের’ অবসান ঘটাতে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়ে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের পক্ষে অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানান।



সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন