× UCB Sticker Card
বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Rupali Bangladesh

ইনস্টাগ্রাম

Rupali Bangladesh

এক্স

Rupali Bangladesh


লিংকডইন

Rupali Bangladesh

পিন্টারেস্ট

Rupali Bangladesh

গুগল নিউজ

Rupali Bangladesh


হোয়াটস অ্যাপ

Rupali Bangladesh

টেলিগ্রাম

Rupali Bangladesh

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Rupali Bangladesh


En Bn

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি

প্রকাশিত: এপ্রিল ২২, ২০২৬, ০৯:৩৪ পিএম

১৫ বছর ধরে শিকলবন্দি ২৪ বছর বয়সি মিতু

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি

প্রকাশিত: এপ্রিল ২২, ২০২৬, ০৯:৩৪ পিএম

২৪ বছর বয়সি মিতু শিকলবন্দি। ছবি : রূপালী বাংলাদেশ

২৪ বছর বয়সি মিতু শিকলবন্দি। ছবি : রূপালী বাংলাদেশ

সাতক্ষীরার তালা উপজেলার খলিলনগর ইউনিয়নের প্রসাদপুর গ্রাম। এই গ্রামের মোড়ল পাড়ায় গত ১৫ বছর ধরে পায়ে শিকল ও বেড়ি পরা অবস্থায় দিন কাটছে ২৪ বছর বয়সি মিতুর। অভাবের তাড়নায় উন্নত চিকিৎসা করাতে না পেরে ‘নিরাপত্তার’ অজুহাতে মিতুর পরিবার তাকে এই অমানবিক অবস্থায় বন্দি করে রেখেছে।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, প্রায় আট বছর আগে মিতুর বাবা আবুল মোড়ল মারা যান। বর্তমানে মা-ই তাকে দেখাশোনা করছেন। পরিবারে দুই বোন ও এক ভাই রয়েছে। বড় বোন বিবাহিত, আর ছোট ভাই ঢাকায় একটি বেকারিতে কর্মরত। মাসে মাত্র ৮ হাজার টাকা আয় দিয়ে পুরো পরিবারের খরচ চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। ছোটবেলা থেকেই মিতু মানসিক সমস্যায় ভুগছেন। পরিবারের দাবি, মাঝেমধ্যে মিতু এদিক-সেদিক চলে যান, তাই তাকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে পায়ে শিকল পরিয়ে রাখা হয়েছে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই শিকলই এখন তার জীবনের রূঢ় বাস্তবতা।

সরেজমিনে দেখা যায়, মিতুর পায়ে বাঁধা শিকল ও বেড়ির ওজন প্রায় ১০ কেজি। এই ভারী শিকল নিয়ে চলাফেরা করা তার জন্য অত্যন্ত কষ্টকর। দীর্ঘ সময় শিকলবন্দি থাকায় তার স্বাভাবিক বিকাশ ও জীবনযাপন পুরোপুরি থমকে গেছে।

মিতুর মা হাসিনা বেগম আক্ষেপ করে বলেন, ‘মেয়েটি যখন তখন ঘর থেকে বেরিয়ে যায়। হারানোর ভয়ে বাধ্য হয়ে তাকে শিকলে বেঁধে রেখেছি। আমাদের যে আয়, তাতে তার চিকিৎসা করানো অসম্ভব। তবে ডাক্তাররা বলেছেন, ভালো চিকিৎসা পেলে ও সুস্থ হয়ে উঠতে পারে।

বিষয়টি নিয়ে তালা উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা আরিফুজ্জামান বলেন, ‘আমরা বিষয়টি সম্পর্কে অবগত হয়েছি। ইতোমধ্যে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সঙ্গে কথা বলেছি। দ্রুতই মিতুকে সেখানে নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় ওষুধের ব্যবস্থা করা হবে। সমাজসেবা দপ্তরের পক্ষ থেকেও যথাযথ উদ্যোগ নেওয়া হবে।’

তালা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. খালিদ হাসান নয়ন বলেন, ‘সঠিক ও উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করা গেলে মিতুর সুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।’

এলাকাবাসী বলেন, মিতুর পরিবারের আর্থিক অবস্থার অসচ্ছল হওয়ার কারণে স্থানীয় প্রশাসনিক হস্তক্ষেপের মাধ্যমে দ্রুত চিকিৎসা করালে মিতু এই শিকলবন্দি জীবন থেকে মুক্তি পেয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারবে।

Link copied!