ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

সেচ পাম্পে বোরখা পেঁচিয়ে নারীর মর্মান্তিক মৃত্যু

শরীয়তপুর প্রতিনিধি
প্রকাশিত: এপ্রিল ৬, ২০২৬, ০৩:১০ পিএম
ছবি : রূপালী বাংলাদেশ

শরীয়তপুর পৌরসভার চরপালং এলাকায় অরক্ষিত একটি সেচ পাম্পের সঙ্গে বোরখা পেঁচিয়ে রোজিনা বেগম (৩৫) নামে এক নারীর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। সোমবার (৬ এপ্রিল) সকালে চরপালংয়ের কীর্তিনাশা নদীর পাড়সংলগ্ন এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, নিহত রোজিনা বেগম চরপালং এলাকার বাসিন্দা ইব্রাহিম সরদারের স্ত্রী। প্রতিদিনের মতো সোমবার সকালে তিনি বাড়ি থেকে স্থানীয় বাজারের উদ্দেশ্যে রওনা দেন।

পথিমধ্যে কীর্তিনাশা নদীর পাড়ে স্থাপিত একটি সেচ পাম্পের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় হঠাৎ বাতাসে তার পরিহিত বোরখা পাম্পের ঘূর্ণায়মান যন্ত্রাংশে পেঁচিয়ে যায় এবং মুহূর্তের মধ্যে দুর্ঘটনাটি ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বোরখা পেঁচিয়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে রোজিনা বেগম পাম্পের ভেতরে আটকে যান এবং ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

খবর পেয়ে স্থানীয়রা ঘটনাস্থলে ছুটে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন এবং পুলিশকে খবর দেন। পরে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্বজনদের আহাজারিতে পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে।

নিহতের পরিবারের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে সেচ পাম্পটি কোনো ধরনের নিরাপত্তা বেষ্টনী ছাড়াই পরিচালিত হচ্ছিল। একাধিকবার বিষয়টি জানানো হলেও সংশ্লিষ্টরা কোনো ব্যবস্থা নেয়নি।

স্থানীয় বাসিন্দা মোহাম্মদ আলী বলেন, আমরা দীর্ঘদিন ধরে বলে আসছিলাম মেশিনের চারপাশে নিরাপত্তা বেষ্টনী দিতে। কিন্তু কেউ গুরুত্ব দেয়নি। অবহেলার কারণেই এই মৃত্যু হয়েছে। আমরা এর বিচার চাই।

জেলা ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন লিডার সেলিম মিয়া জানান, ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায় নারীর দেহ মেশিনে পেঁচানো অবস্থায় রয়েছে। পরে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

পালং মডেল থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) আবীর হোসেন বলেন, সেচ পাম্পটি সম্পূর্ণ অরক্ষিত ছিল। এতে সংশ্লিষ্টদের গাফিলতির বিষয়টি স্পষ্ট। ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

স্থানীয়দের দাবি, ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে সব ধরনের যান্ত্রিক স্থাপনায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।