সিরাজগঞ্জের বাজার-হাটগুলোতে এখন গাছের চারাসহ বাহারি ফুলগাছ বিক্রি হচ্ছে। হাটের দিনগুলোতে গাছপ্রেমী ক্রেতার ভিড় দেখা যাচ্ছে এসব ক্ষুদ্র স্টলে।
শনিবার (২০ ডিসেম্বর) দুপুর আড়াইটার দিকে সরেজমিন দেখা যায়, সদর উপজেলার শিয়ালকোল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী সাথী খাতুন ১০ টাকা দিয়ে ‘গাদা ফুল’ গাছ কিনে আনন্দে বাড়ি ফিরছে। সে জানায়, গাছটি বাড়ির আঙিনায় লাগিয়ে বসতবাড়িকে আরও সুন্দর করে তোলা হবে।
গাছ ব্যবসায়ী রেজাউল ইসলাম জানান, শীতকালে গাছের চাহিদা বাড়ে, বিশেষ করে ফুলগাছে। তার দোকানে ফলদ উদ্ভিদের পাশাপাশি গাঁদা ফুল, রজনীগন্ধা, পাতাবাহার, গোলাপ, টগর, হাসনাহেনা ও বেলি ফুলের চাহিদা বেশি। প্রতিদিন গড়ে ৪০০-৫০০ টাকার ফুলগাছ বিক্রি হয়।
হাট ইজারাদার সুজন জানান, শীত মৌসুমে ফুলগাছ বিক্রেতাদের উপস্থিতি বাড়ে। এদের কাছ থেকে নামমাত্র টোল আদায় করা হয়, যাতে ব্যবসা নির্বিঘ্নে চলতে পারে।
ফুলগাছ কিনতে আসা কয়েকজন ক্রেতা জানান, শিয়ালকোল বাজারের আশপাশে স্কুল, কলেজ, মেডিকেল কলেজ, বিসিক ও শিল্পনগরী থাকায় এই হাট ঐতিহ্যবাহী। এখানে নানা জাতের গাছের পাশাপাশি শৌখিন ফুলগাছ সহজেই পাওয়া যায়।
সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা এস এম নাসিম হোসেন বলেন, জেলায় গত বছরের তুলনায় এ বছর ফুলগাছের উৎপাদন বেশি হয়েছে। চারার পাশাপাশি ফুলগাছের চাহিদা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। শৌখিনতার পাশাপাশি অনেক কৃষক বাণিজ্যিকভাবে ব্যবসা করার আগ্রহ দেখাচ্ছেন।
বসতবাড়ি বা অফিস-আদালতে এই মৌসুমে ফুলগাছের রোপণের চাহিদা বেশি দেখা যাচ্ছে। তাই নতুন উদ্যোক্তা তৈরিতে আমরা নানাভাবে কাজ করে যাচ্ছি।


