ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

শ্মশানে মরদেহ সৎকারে বাধা, ইউএনওর হস্তক্ষেপে দাহ সম্পন্ন

উল্লাপাড়া (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি
প্রকাশিত: জানুয়ারি ৫, ২০২৬, ০৩:০৩ পিএম
উল্লাপাড়া উপজেলা পরিষদ চত্বরে মিনা বণিকের মরদেহ রেখে দাহ করার দাবি জানান স্বজনরা। ছবি : রূপালী বাংলাদেশ

সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া পৌরসভার ঝিকিড়া মহল্লার হিন্দু সম্প্রদায়ের এক নারীর মরদেহ দাহ করতে গেলে বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

সোমবার (৫ জানুয়ারি) তার মরদেহ ঘোষগাঁতী শ্মশানে নিয়ে গেলে বাধার সম্মুখীন হয় পরিবার।

ঘোষগাঁতী শ্মশানের দায়িত্বে থাকা সাবেক পৌর কাউন্সিলর বাবলু কুমার ভৌমিক শ্মশানের প্রবেশদ্বারে তালার চাবি দিতে অপারগতা প্রকাশ করে বলে অভিযোগ আনা হয়েছে। উল্লাপাড়ার ঘোষগাঁতী মহাশ্মশানের নাম নিয়ে বেশ কয়েক বছর ধরে ঝিকিড়া মহল্লা ও ঘোষগাঁতী মহল্লার হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে গোলযোগ চলে আসছে।

ঘোষগাঁতী মহল্লার সন্তোষ বণিক অভিযোগ করেন, তার মা মিনা বণিক রোববার রাতে মারা গেছেন। সোমবার তার মরদেহ ঘোষগাঁতী শ্মশানে দাহ করতে নিয়ে গিয়ে বাবলু কুমার ভৌমিক নিকট রক্ষিত শ্মশানের চাবি চাওয়া হয়। বাবলু কুমার ভৌমিক বলেন, এটি ঘোষগাঁতী মহাশ্মশান। এটি তো উল্লাপাড়া মহাশ্মশান নয়। যেখানে উল্লাপাড়া মহাশ্মশান রয়েছে, সেখানে গিয়ে মরদেহ দাহ করান। এখানে দাহ করতে দেওয়া হবে না এবং চাবি দিতে অপারগতা প্রকাশ করেন। 

পরে তিনি তার মায়ের মরদেহ নিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের সামনে রাখেন। এ সময় তার ক্ষুব্ধ পরিবার ও স্বজনরা মরদেহ দাহ করার ব্যবস্থার দাবি জানান। এরপর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এ টি এম আরিফ তাদের অভিযোগ শুনে হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে কথা বলে দুপুরে মরদেহ দাহ করার ব্যবস্থা নেন।

এ ব্যাপারে বাবলু কুমার ভৌমিকের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, ঘোষগাঁতী শ্মশানের নাম নিয়ে অনেক দিন ধরে ঝিকিড়া মহল্লার লোকজনের সঙ্গে তাদের গোলযোগ চলছে। ঝিকিড়া মহল্লার হিন্দু সম্প্রদায় ওই শ্মশানটির নাম উল্লাপাড়া মহাশ্মশান করার প্রস্তাব করে আসছে। কিন্তু ঘোষগাঁতী মহল্লার হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজন যেহেতু তাদের ছেড়ে দেওয়া জায়গায় কমপক্ষে ২০০ বছর আগে শ্মশানটি প্রতিষ্ঠিত করেছেন। সে জন্য এটি ঘোষগাঁতী মহাশ্মশান নামে পরিচিতির দাবির পক্ষে অনড় রয়েছে তারা। এ কারণে সাময়িকভাবে তিনি শ্মশানের চাবি হস্তান্তর থেকে বিরত থাকেন। পরে উপজেলা প্রশাসন ও হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে কথা বলে তিনি শ্মশানের তালা খুলে দেন এবং মরদেহ দাহের ব্যবস্থা করেন।

উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি সুজিত কুমার ঘোষ বলেন, ঘোষগাঁতী ও ঝিকিড়া মহল্লার হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজনের মধ্যে ঘোষগাঁতী শ্মশানের নাম নিয়ে কয়েক বছর ধরে দ্বন্দ্ব চলে আসছে। তবে কারও মরদেহ সৎকারে বাধা দেওয়া কখনো উচিত নয়। পরে উভয় পক্ষের সঙ্গে কথা বলে উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় মিনা বণিকের মরদেহ সৎকারের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এ টি এম আরিফ জানান, ঘোষগাঁতী মহাশ্মশানের নাম নিয়ে হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজনের মধ্যে কিছু সমস্যা রয়েছে বলে তিনি জানতে পেরেছেন। তবে ওই শ্মশানে মরদেহ সৎকারে বাধা দেওয়া কখনো ঠিক হয়নি। তিনি মিনা বণিকের মরদেহ সৎকারের ব্যবস্থা নিয়েছেন এবং উভয় পক্ষের মধ্যে এ বিষয়টি সমাধান করার জন্য হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দকে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।