রোববার সন্ধ্যা ও রাত ১টার দিকে উল্লাপাড়া উপজেলা এবং আশপাশের এলাকায় বয়ে যাওয়া কালবৈশাখীর প্রবল ঝড়ে সীমা খাতুন (৪৫) নামের এক গৃহবধূর মৃত্যু হয়েছে। তিনি উপজেলার বালসাবাড়ী গ্রামের হবিবর রহমানের স্ত্রী।
ঝড় ও তীব্র শিলাবৃষ্টিতে এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। অনেক স্থানে গাছ উপড়ে বা ভেঙে পড়েছে। এতে সিরাজগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির আওতায় অন্তত ১৫টি বিদ্যুতের খুঁটি ভেঙে গেছে। বিভিন্ন স্থানে তার ছিঁড়ে যাওয়ায় রাত ১টা থেকে পুরো উপজেলায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে।
উল্লাপাড়ার দুর্গানগর ইউনিয়নের সদস্য ফারুক হোসেন জানান, ঝড়ের সময় সীমা খাতুনের ঘরের ওপর গাছ ভেঙে পড়লে ঘরের চাপায় তার মৃত্যু হয়।
প্রবল শিলাবৃষ্টির কারণে মাঠের থোর অবস্থায় থাকা ইরি ধানের ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে। গাছ ভেঙে পড়ে অনেক ঘরবাড়িও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
সিরাজগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১-এর সহকারী মহাব্যবস্থাপক খালিদ আল মুহাইমিন জানান, দুই দফা ঝড়ে এই সমিতির আওতায় সোনতলা, উল্লাপাড়া সদর, সলঙ্গা, দুর্গানগর, কয়ড়া ও সড়াতৈলসহ বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুতের ১৫টি খুঁটি ভেঙে গেছে।
গাছ পড়ে অনেক স্থানে বিদ্যুতের তার ছিঁড়ে যাওয়ায় পুরো এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। সোমবার (২৭ এপ্রিল) সকাল থেকে অন্তত ২০টি দল বিদ্যুৎ সরবরাহ সচল করতে কাজ করছে। পর্যায়ক্রমে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করা হবে।
উল্লাপাড়া উপজেলা কৃষি অফিসের কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা তাসিন বিন নূর জানান, নাবি ইরি ধানে এখন থোর এসেছে। শিলাবৃষ্টির কারণে এসব ধানের ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
তবে যেসব ধান পুরোপুরি বা প্রায় ৮০ শতাংশ পেকে গেছে, সেগুলো দ্রুত কেটে ফেলার জন্য কৃষকদের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে, যাতে সম্ভাব্য ক্ষতি কমানো যায়। ইতোমধ্যে উপজেলার সলঙ্গা এলাকায় ৯টি হারভেস্টার নামানো হয়েছে এবং আরও ১৪টি হারভেস্টার মাঠে নামানোর প্রস্তুতি চলছে।


