সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরে মসজিদের নাম করে একদল প্রভাবশালীর বিরুদ্বে সরকারি খাসজমি দখলে নেওয়ার জন্য বসবাসকারী পাঁচটি পরিবারকে উচ্ছেদ করতে বাঁশের বেড়া দিয়ে যাতায়াতের পথ বন্ধ করে গৃহবন্দী করার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
এ ঘটনায় গৃহবন্দী পরিবার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবরে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। এমন অমানবিক ঘটনায় এলাকায় ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে।
অভিযোগ ও সরেজমিন পরিদর্শনকালে স্থানীয় লোকজন জানান, জগন্নাথপুর পৌরসভার ৭নং ওয়ার্ডের হাবিবনগর জামে মসজিদের পুর্বপাশে ১৭২ নং জেএলস্থিত ইকড়ছই মৌজার ১নং খতিয়ানের ৯৩১ ও ৯৩২ নং দাগের প্রায় সাড়ে তিন শতাংশ সরকারি ভূমিতে দীর্ঘ প্রায় ৩১ বছর ধরে বসবাস করে আসছেন হলুদা আক্তার ও তার পরিবার।
ভূমিহীন হিসেবে উক্ত জমি বন্দোবস্ত পাওয়ার আশায় পরিবারের পক্ষ থেকে জেলা প্রশাসক সুনামগঞ্জ বরাবরেও আবেদন করা হয়।
শান্তিপূর্ণভাবে দীর্ঘদিন ধরে উক্ত ভূমিতে দিনমজুর পরিবারটি বসবাস করলেও উক্ত ভূমির দাম দিন দিন বৃদ্ধি পাওয়ায় স্থানীয় ৪/৫জন ভূমিখেকোর নজরে পড়ে। ভূমি পৌর শহরের হাবিবনগর জামে মসজিদের দেয়ালের বাউন্ডারির বাইরে থাকলেও একটি চক্র তাদের দখল বলে প্রচার করে অসহায় পরিবারকে কৌশলে উচ্ছেদ করার চেষ্টা চালায়।
ইতোপূর্বেও একই দাগের দক্ষিণাংশের খালি জায়গা মসজিদের নাম করে দখল করে দোকানকোঠা ও কলোনি বানিয়ে নিজেদের দখলে নিয়ে যায় একই ভূমিখেকো আশিক মিয়া, সুজাত খান, আমীর আলী ও আব্দুল জব্বার গংরা।
তবে তারা মসজিদের দোহাই দিয়ে এমন কর্মকাণ্ড করে যাচ্ছে বলেও অভিযোগে উঠে আসে।
অবশেষে উক্ত ভূমি থেকে তাদেরকে উচ্ছেদ করতে নানা ষড়যন্ত্রে ব্যর্থ হয়ে ওই অসহায় পরিবারকে গৃহবন্দী করে রাখার পরিকল্পনা করা হয়।
ভুক্তভোগীরা জানান, সোমবার (২২ জুন) সকাল ১০টায় হাবিবনগর গ্রামের ভূমিখেকো আশিক মিয়া ও আমির আলীর নেতৃত্বে একদল লোক তাদের বাড়ির সামনে যাতায়াতের রাস্তা হঠাৎ বাঁশের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখেন।
এ সময় দিনমজুর পরিবারটি এর কারণ জানতে চাইলে আশিক মিয়া ও তার সঙ্গে থাকা লোকজন তাদেরকে প্রাণনাশের হমকি দেয়। বাঁশের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখায় হলুদা আক্তারের পরিবারসহ মোট পাঁচটি পরিবারের সদস্যরা অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন।
এদিকে গৃহবন্দী পরিবারগুলোর সদস্যরা তাদের গৃহপালিত পশু নিয়ে মানবেতর জীবনযাপনসহ চরম নিরাপত্তাহীনতা ও আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন বলে জানা গেছে।
এ ঘটনাটি জানাজানি হয়ে গেলে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার লোকজন ক্ষোভে ফেটে পড়েন এবং এমন অমানবিক কার্যকলাপকে মানবাধিকার লঙ্ঘন বলেও দাবি করেন।
বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশন জগন্নাথপুর শাখার সাবেক সহ-সভাপতি পীরজাদা বদরুল ইসলাম খান বলেন, এটা অমানবিক ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের মতো ঘটনা। যা সভ্য সমাজে কখনো মেনে নেওয়া যায় না।
অসহায় বিধবা নারী হলুদা আক্তার বলেন, আমরা ৩১ বছর ধরে সরকারি এই জমিতে ঘর নির্মাণ করে বসবাস করে আসছি। মসজিদ কমিটির নাম করে আশিক মিয়া, সুজাত খান, আমীর আলী, আব্দুল জব্বারসহ কিছু লোক উচ্ছেদ করার জন্য হঠাৎ করে এসে বাড়ির সামনে বাঁশের বেড়া দিয়ে আমাদের পথ বন্ধ করে দিয়েছে। বর্তমানে আমরা এখন চরম নিরাপত্তা হীনতায় ভূগছি।
তিনি আরও বলেন, এতো বড় দুনিয়ায় কেউ কি নাই, আমাদের মুক্ত করবে।
এ বিষয়ে মসজিদ কমিটির ক্যাশিয়ার অভিযুক্ত আশিক মিয়ার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ১৬ বছর যাবৎ আমি মসজিদের দায়িত্বে রয়েছি, এই জমি আমাদের দখলে এবং ঘর আমরা তাদেরকে ভাড়া দিয়েছি।
এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ইসলাম উদ্দিন বলেন, এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। কয়েকটি পরিবারকে অবরুদ্ধ করে রাখার অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। তদন্তের আলোকে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার জন্য সহকারী কমিশনারকে (ভূমি) নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন