ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

প্রথম দিনেই কঠোর বার্তা দিলেন সিসিকের নবনিযুক্ত প্রশাসক

স্টাফ রিপোর্টার, সিলেট
প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ২৬, ২০২৬, ০৫:৪২ পিএম
কথা বলেন সিলেট সিটি করপোরেশনের নবনিযুক্ত প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী। ছবি : রূপালী বাংলাদেশ

দায়িত্ব নেওয়ার পরদিনই সময়ানুবর্তিতার বার্তা দিলেন সিলেট সিটি করপোরেশনের নবনিযুক্ত প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী। নগর ভবনের প্রধান ফটকে বসে নিজ হাতে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উপস্থিতি যাচাইয়ের মধ্য দিয়ে তিনি শুরু করেন শৃঙ্খলা জোরদারের কার্যক্রম।

বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৮টা ৫০ মিনিটে নগর ভবনে এসে প্রশাসক প্রধান গেটে একটি চেয়ার নিয়ে বসেন। এ সময় বিভিন্ন শাখার কর্মকর্তা-কর্মচারীরা কার্যালয়ে প্রবেশ করলে তিনি সরাসরি তাদের উপস্থিতি দেখেন। হঠাৎ এমন উদ্যোগে অনেকেই বিস্মিত হন। কেউ সালাম জানিয়ে দ্রুত নিজ দপ্তরে যান, কেউ আবার প্রশাসকের উপস্থিতির মুহূর্তটি মুঠোফোনে ধারণ করেন।

সকাল ৮টা ৫৪ মিনিটে প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রেজাই রাফিন সরকার সেখানে এসে প্রশাসকের সঙ্গে যোগ দেন। সকাল ৯টার পর যারা অফিসে প্রবেশ করেন, তাদের সঙ্গে আলাদাভাবে কথা বলেন প্রশাসক। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, রমজান মাসে সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী সকাল ৯টার মধ্যে অফিসে উপস্থিত থাকা বাধ্যতামূলক। সময়ানুবর্তিতার বিষয়ে সরকারের কঠোর অবস্থানের কথাও তুলে ধরেন তিনি।

সকাল ৯টা ১০ মিনিটে তিনি প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাকে সঙ্গে নিয়ে নিজ কার্যালয়ে যান। এরপর শুরু করেন বিভাগভিত্তিক পরিদর্শন। বাজার শাখা, পানি শাখা, প্রকৌশল শাখা ও স্বাস্থ্য শাখায় গিয়ে কাজের অগ্রগতি ও উপস্থিতি পরিস্থিতি খোঁজ নেন। কয়েকটি দপ্তরে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অনুপস্থিতি চোখে পড়লে সংশ্লিষ্টদের তালিকা প্রস্তুতের নির্দেশ দেন।

সকাল সাড়ে ৯টার দিকে প্রশাসকের কার্যালয়ে বিভিন্ন শাখার কর্মকর্তাদের নিয়ে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে দাপ্তরিক শৃঙ্খলা বজায় রাখা, উপস্থিতি নিশ্চিত করা এবং নাগরিক সেবা আরও কার্যকর ও গতিশীল করার বিষয়ে দিকনির্দেশনা দেন তিনি।

পরে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে প্রশাসক বলেন, রমজানে সকাল ৯টার মধ্যে উপস্থিতি নিশ্চিত করা সবার দায়িত্ব। প্রথম দিন হওয়ায় কাউকে শাস্তিমূলক ব্যবস্থার আওতায় আনা হয়নি। তবে এটি একটি সতর্কবার্তা—আগামীতে অনুপস্থিতির বিষয়টি গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করা হবে।

দায়িত্বের শুরুতেই এমন সরাসরি তদারকিকে নগর করপোরেশনে শৃঙ্খলা, জবাবদিহিতা ও কর্মসংস্কৃতি জোরদারের স্পষ্ট ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।