ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

‘স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলীয় প্রতীকের বিষয়ে সংসদে সিদ্ধান্ত হবে’

সিলেট ব্যুরো
প্রকাশিত: মার্চ ৩, ২০২৬, ০৫:২৯ পিএম
ছবি- রূপালী বাংলাদেশ

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেছেন, সংসদে আইন আকারে পাস না হওয়া পর্যন্ত স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলীয় প্রতীক ব্যবহারের বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে না। আইন পাসের পর দ্রুততম সময়ের মধ্যে স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজন করা হবে।

মঙ্গলবার (৩ মার্চ) সকালে সিলেট সিটি কর্পোরেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা এবং পরে সিলেট সার্কিট হাউসে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা জানান।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিগত সরকারের সময়ে আইন সংশোধনের মাধ্যমে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে জাতীয় বা দলীয় প্রতীক ব্যবহারের সুযোগ রাখা হয়েছিল, যা নিয়ে বিভিন্ন প্রশ্ন ও বিতর্ক তৈরি হয়। পরবর্তীতে দলীয় প্রতীকের পরিবর্তে সাধারণ প্রতীকে নির্বাচন আয়োজনের লক্ষ্যে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার একটি অধ্যাদেশ জারি করেছে। আগামী ১২ মার্চ অধ্যাদেশটি সংসদে উপস্থাপন করা হবে এবং সেদিন কোন অধ্যাদেশ গৃহীত হবে সে বিষয়ে সংসদই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে।

তিনি আরও বলেন, প্রতীকের বিষয়টি নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজন করা হবে না। সংসদে আলোচনা ও আইন পাসের পরই নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হবে। কার্যক্রম নিষিদ্ধ বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ আসন্ন নির্বাচনে অংশ নিতে পারবে কি না এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, নির্বাচন যদি নির্দলীয়ভাবে অনুষ্ঠিত হয়, তাহলে কারা অংশ নেবেন তা সরকারের বিবেচনার বিষয় নয়।

নির্বাচনে কোনো ধরনের অনিয়ম বরদাশত করা হবে না উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করতে সরকার কঠোর অবস্থানে রয়েছে। অনিয়ম বা প্রভাব খাটানোর অভিযোগ পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সিটি কর্পোরেশনের ওয়ার্ডগুলোতে প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হবে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, জাতীয় পর্যায় থেকে সিদ্ধান্ত এলে প্রয়োজনে ওয়ার্ড পর্যায়েও প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হতে পারে।

এর আগে সকালে নগর ভবনে সিটি কর্পোরেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী সিলেট সিটি কর্পোরেশনের জনবান্ধব প্রকল্পগুলো দ্রুত অনুমোদনের আশ্বাস দেন। তিনি বলেন, মানুষের সুবিধার বিষয়টিই সর্বাধিক গুরুত্ব পাচ্ছে। নাগরিকদের কাজে লাগে- এমন প্রকল্প অগ্রাধিকার ভিত্তিতে দ্রুত অনুমোদন দেওয়া হবে। সরকারের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে সিটি কর্পোরেশনের নিজস্ব আয় বাড়ানোর ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

সভায় সভাপতিত্ব করেন সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী। তার প্রশংসা করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরীর রয়েছে বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা। তিনি সাবেক অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী এম. সাইফুর রহমান-এর সঙ্গেও কাজ করেছেন। তাঁর নেতৃত্বে সিলেট একটি আধুনিক ও বাসযোগ্য নগর হিসেবে গড়ে উঠবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

সভায় সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রেজাই রাফিন সরকার চলমান ও প্রস্তাবিত উন্নয়ন প্রকল্প সম্পর্কে প্রতিমন্ত্রীকে অবহিত করেন। এছাড়া স্থানীয় সংসদ সদস্য, প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

সফরকালে প্রতিমন্ত্রী সিলেটের চলমান ও প্রক্রিয়াধীন উন্নয়ন প্রকল্পগুলো পর্যালোচনা করেন। বিশেষ করে জলাবদ্ধতা নিরসন, খাল খনন এবং নতুন প্রকল্প গ্রহণের বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন। সুরমা নদী ও বিভিন্ন ছড়া-খালসংক্রান্ত নতুন প্রকল্প প্রস্তাব আকারে মন্ত্রণালয়ে উপস্থাপন করা হলে তা একনেক বা পরিকল্পনা কমিশনে পাঠিয়ে দ্রুত বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

সকালে সংক্ষিপ্ত সফরে সিলেটে পৌঁছে ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর-এ তাকে স্বাগত জানানো হয়। পরে তিনি হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজার জিয়ারত করেন এবং রিকাবীবাজারস্থ এম. সাইফুর রহমান অডিটোরিয়াম, ধোপাদিঘিরপাড় ওয়াকওয়ে ও জেল কলোনি এলাকা পরিদর্শন করেন। দিনব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে রাতে তাঁর ঢাকা ফেরার কথা রয়েছে।