সিলেটের জকিগঞ্জে সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পের সড়ক থেকে ইট লুট করার দায়ে উপজেলা যুব জামায়াত নেতা মাহফুজুল ইসলাম চৌধুরীসহ ছয়জনকে আটক করেছে উপজেলা প্রশিাসন। অভিযানে কয়েক লাখ ইটও উদ্ধার করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত উপজেলার কসকনকপুর ইউনিয়নের মুন্সি বাজার এলাকায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নেতৃত্বে এ অভিযান চালানো হয়।
স্থানীয় সূত্র জানায়, সরকারি সড়কের ইট লুটের ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পর এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়। বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও আলোচনায় আসে।
জানা গেছে, ২০২১ সালের দিকে কসকনকপুর ইউনিয়নের মুন্সি বাজার মাদরাসা থেকে উত্তর আইয়র বিজিবি ক্যাম্প পর্যন্ত প্রায় আড়াই কিলোমিটার সড়ক হেরিংবোন বন্ড পদ্ধতিতে প্রায় ১০ লাখ ইট দিয়ে সংস্কার করা হয়। বর্তমানে পানি উন্নয়ন বোর্ডের অধীনে সুরমা নদীর বাঁধ সংস্কারকাজ চলায় ওই সড়কে মাটি ভরাটের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ কারণে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাটি ভরাটের আগে রাস্তার ইট তুলে মাদরাসার মাঠে রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।
পরে সেখান থেকে কয়েক লাখ ইট লুটের অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় গত বুধবার এলাকাবাসীর পক্ষে আবু ইউসুফ মোহাম্মদ নামের এক ব্যক্তি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দেন। অভিযোগে বলা হয়, রাতের অন্ধকারে প্রায় ১৫ লাখ ইট তুলে নেওয়া হয়েছে।
অভিযোগের পরদিন বৃহস্পতিবার উপজেলা প্রশাসনের টাস্কফোর্স ঘটনাস্থলে অভিযান চালায়। অভিযানে কয়েক লাখ ইট উদ্ধার করা হয় এবং ঘটনাস্থল থেকে ছয়জনকে আটক করা হয়।
উপজেলা যুব জামায়াতের সভাপতি আবিদুর রহমান বলেন, মাহফুজুল ইসলাম সংগঠনের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক। বিষয়টি যেভাবে এলাকায় প্রচার হচ্ছে, বাস্তবে তা নয়। এটি একটি ভুল বোঝাবুঝি।
কসকনকপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুস ছত্তার মঈন জানান, ইট সরানোর অভিযোগের পর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অভিযান চালিয়ে কিছু ইট উদ্ধার করেছেন। এর আগে মাইকিং করে রাস্তা থেকে সরানো ইট ফেরত দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছিল।
জকিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুর রাজ্জাক বলেন, অভিযানে ছয়জনকে আটক করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাসুদুর রহমান বলেন, সরকারি সড়কের ইট সরানোর ঘটনায় ছয়জনকে আটক করা হয়েছে। এ ঘটনায় নিয়মিত মামলা দায়ের করা হবে এবং উদ্ধার করা ইট গণনা চলছে।

