ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

মানুষের কষ্ট কমাতে কাজ করছে সরকার: বাণিজ্যমন্ত্রী

সিলেট ব্যুরো
প্রকাশিত: মার্চ ১৬, ২০২৬, ০৪:২৮ পিএম
ছবি- রূপালী বাংলাদেশ

বাণিজ্য, শিল্প, বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেছেন, মানুষের কষ্ট কমাতে সরকার নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, উন্নয়ন কার্যক্রম জোরদার এবং সামাজিক নেতৃত্বকে সম্পৃক্ত করার মাধ্যমে জনগণের জীবনমান উন্নয়নে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সোমবার (১৬ মার্চ) সিলেটে পৃথক দুটি অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

সকালে সিলেটের ওসমানীনগর উপজেলায় খাল পুনঃখনন কর্মসূচির আওতায় চম্পাতলী খাল খননের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে মন্ত্রী বলেন, সিলেট মূলত এক ফসলি এলাকা। শুষ্ক মৌসুমে সেচ সুবিধার অভাব এবং কিছু কৃষিজমি পানিতে ডুবে থাকার কারণে কৃষকেরা অতিরিক্ত ফসল উৎপাদন করতে পারেন না। খাল পুনঃখননের মাধ্যমে এ দুই সমস্যার সমাধান হবে এবং প্রায় ১ হাজার ৫০০ বিঘা জমি নতুন করে চাষের আওতায় আসবে।

তিনি বলেন, ‘খালের দুই পাড়ে বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা রোপণ করা হবে। খাল পুনঃখনন সম্পন্ন হলে বর্ধিত ফসল উৎপাদনের পাশাপাশি বন্যা নিয়ন্ত্রণ এবং পরিবেশ সুরক্ষায় ইতিবাচক প্রভাব পড়বে, যার সুফল স্থানীয় মানুষ প্রথম বছর থেকেই পেতে শুরু করবে।’

খুচরা ও পাইকারি বাজারে মূল্য পার্থক্য প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ‘খুচরা ও পাইকারি পর্যায়ে দামের কিছু তারতম্য স্বাভাবিক। তবে এই পার্থক্য যেন অগ্রহণযোগ্য পর্যায়ে না যায়, সে বিষয়ে সরকার সতর্ক রয়েছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় ও কৃষিপণ্যের দামে অগ্রহণযোগ্য ব্যবধান চিহ্নিত করতে ঈদের পর একটি ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং কমিটি গঠন করা হবে। ব্যবসায়ী, পেশাজীবী ও প্রশাসনের সমন্বয়ে গঠিত এ কমিটির মাধ্যমে ভোক্তা ও ব্যবসায়ীদের উপস্থিতিতে প্রকাশ্য শুনানির আয়োজন করা হবে।’

বাণিজ্য ঘাটতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘বিশ্বের অধিকাংশ দেশেই বাণিজ্য ঘাটতি রয়েছে; উন্নত দেশগুলোও এর বাইরে নয়। স্বাধীনতার পর থেকেই বাংলাদেশে আমদানি রপ্তানির তুলনায় বেশি, তাই এটি একটি স্বাভাবিক অর্থনৈতিক বাস্তবতা।’

পরে সিলেট নগরীর সারদা হলে সিলেট সিটি কর্পোরেশন (সিসিক) আয়োজিত মহানগরীর মসজিদের ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের সম্মানী প্রদান অনুষ্ঠানে মন্ত্রী বলেন, ‘ভবিষ্যতে উন্নয়নমূলক কাজের তদারকিতে ইমামদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা হবে। এতে সামাজিক ভারসাম্য প্রতিষ্ঠিত হবে এবং মানুষ উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে নিজেদের সম্পৃক্ততা ও মালিকানা অনুভব করবে।’

তিনি বলেন, ‘নির্বাচনের আগে জনগণের সামনে যে পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়েছিল, তার অংশ হিসেবে ইমামদের কল্যাণে সরকার দুটি লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। ইমামদের মর্যাদা রক্ষায় ব্যক্তিগত ইচ্ছায় নিয়োগ ও চাকরিচ্যুতি রোধে রাষ্ট্র স্বীকৃত একটি বিধিমালা প্রণয়ন করা হবে। পাশাপাশি ইমামদের জন্য এমন সম্মানীর ব্যবস্থা করা হবে, যাতে চার থেকে ছয় সদস্যের একটি পরিবার স্বচ্ছলভাবে জীবনযাপন করতে পারে।’

মন্ত্রী আরও বলেন, ‘সিলেট সিটি কর্পোরেশনে আগামী দিনে উন্নয়নের গতি আরও বাড়ানো হবে। সিসিকের আওতাধীন সব সড়ক এ-গ্রেডে উন্নীত করা, নগরবাসীর জন্য সুপেয় পানির ব্যবস্থা, বিনোদন ও হাঁটার উপযোগী পার্ক নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হবে। পাশাপাশি সিলেট থেকে অনলাইন জুয়া ও মাদক নির্মূলে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’

অনুষ্ঠান দুটিতে স্থানীয় সংসদ সদস্য তাহসীনা রুশদীর লুনা, সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী, জেলা পরিষদের প্রশাসক আবুল কাহের চৌধুরী শামীম, বিভাগীয় কমিশনার খান মো. রেজা-উন-নবী, জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম, পুলিশ সুপার ড. চৌধুরী যাবের সাদেক, সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রেজাই রাফিন সরকারসহ রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা এবং গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে সিলেট মহানগরীর ৮২৭টি মসজিদের ১,০৬৪ জন ইমাম এবং ১,২১১ জন মুয়াজ্জিনের মধ্যে মোট ৩৯ লাখ ৪৪ হাজার ৫০০ টাকা সম্মানী প্রদান করা হয়।