সিলেটের বিশ্বনাথে মাজারের ওরস বন্ধ করাকে কেন্দ্র করে মসজিদে হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। সোমবার (২৩ মার্চ) ভোর ৬টার দিকে উপজেলার রামপাশা ইউনিয়নের শ্রীপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এতে এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
সূত্রে জানা যায়, শ্রীপুর গ্রামের পীর ইব্রাহিম মাস্তান ওরফে ইবইশার মাজারকে কেন্দ্র করে প্রতিবছর তিন দিনব্যাপী ওরস অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে। এতে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে প্রায় ২০ হাজারের বেশি ভক্ত-অনুসারীর সমাগম ঘটে।
তবে ওরসকে ঘিরে বাউল গান ও মাদক সেবনের অভিযোগ তুলে রোববার (২২ মার্চ) রাত ১২টার দিকে স্থানীয় ইসলামী সংগঠন ‘আল-ইকরা তাফসিরুল কোরআন সংস্থা, রামপাশা’, মাদরাসার ছাত্র-শিক্ষক এবং এলাকার যুবসমাজ মিলে চলমান ওরস বন্ধ করে দেয়। এ সময় তারা ওরসের মঞ্চে উঠে ভাঙচুর চালায়।
এর জেরে সোমবার সকালে মাজারের অনুসারী কাপ্তান মিয়ার নেতৃত্বে একদল লোক লাঠিসোটা নিয়ে ওরসের বিরোধিতাকারী মাদরাসা শিক্ষক মাওলানা নেছার আহমদ ও মাওলানা আবুল বাশারের বাড়িতে হামলা চালায় বলে অভিযোগ উঠেছে।
এ সময় মাজারের সামনে স্থানীয় ব্যবসায়ী কাচা মিয়াকে মারধর করে আহত করা হয় এবং তার ব্যবহৃত মোটরসাইকেল ভাঙচুর করা হয়।
একপর্যায়ে হামলাকারীরা মসজিদের মুয়াজ্জিন মুহিবুর রহমান মাশকুরকে ধাওয়া করে এবং মসজিদের তিন দিকের থাই গ্লাস ভাঙচুর করে বলে জানা গেছে।
আহত কাচা মিয়া অভিযোগ করে বলেন, ওরসে বাধা দেওয়ার কারণে তাকে টার্গেট করে হামলা চালানো হয়েছে। এ সময় তার কাছ থেকে টাকা-পয়সা ছিনিয়ে নেওয়া হয় এবং তার মোটরসাইকেল ভেঙে ফেলা হয়।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মাজারের খাদেম মো. দুদু মিয়া। তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে মাজারের ওরস চলে আসছে এবং এবারও প্রশাসনের অনুমতি নিয়েই আয়োজন করা হয়েছিল। কোনো পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই তাদের অনুষ্ঠানে হামলা চালানো হয়েছে এবং এখন তাদের বিরুদ্ধে মসজিদে হামলার অভিযোগ তোলা হচ্ছে।
এ বিষয়ে সিলেটের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জাকির হোসেন বলেন, শর্তসাপেক্ষে অনুমতি দেওয়া হলেও অনেক সময় তা মানা হয় না। মূলত এটি দুই পক্ষের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝির ঘটনা।
বর্তমানে পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং উভয় পক্ষের সঙ্গে কথা বলা হয়েছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার আশঙ্কা নেই বলেও জানান তিনি।


