টাঙ্গাইলের ধনবাড়ী উপজেলার যদুনাথপুর ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের অন্তর্গত মমিনপুর গ্রামের আমতলা গোদুর মোড় থেকে মরহুম তসলিম উদ্দিন আকন্দের বাড়ি হয়ে বাড়ইপাড়া হয়ে যদুনাথপুর ইউনিয়ন পরিষদ ও ধনবাড়ী যাতায়াতের একমাত্র রাস্তা প্রায় ১.২৫ কিঃ মিঃ কাঁচা মাটির রাস্তা। সামান্য বৃষ্টি হলেই চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। বৃষ্টি হলেই হাঁটুসমান কাদা-পানির সৃষ্টি হয়। বৃষ্টির পানিতে কাদায় একাকার হয়ে যায় পুরো রাস্তা। এতে বিপাকে পড়েন ওই এলাকার শত শত মানুষ। দীর্ঘদিন ধরে কাঁচা রাস্তাটিতে ইটের ছোঁয়া না লাগায় চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন এলাকাবাসী।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, উপজেলার মমিনপুর গ্রামের ‘আমতলা গোদুর মোড় থেকে প্রায় ১.২৫ কিলোমিটার রাস্তা ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। বিকল্প কোনো পথের ব্যবস্থা না থাকায় হাঁটুসমান কাদা মাড়িয়েই চলাচল করতে হয় স্কুল-কলেজের ছাত্রছাত্রীসহ আবালবৃদ্ধবনিতার।
বছরের প্রায় ৫-৬ মাস ভোগান্তির শিকার হতে হয় গ্রামবাসীর। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে এ রাস্তা দিয়ে চলতে গিয়ে সীমাহীন কষ্ট পোহাতে হয় সবার। এই এলাকার মানুষের আতংক ও ভয়ের আরেক নাম বৃষ্টি। বৃষ্টি হলেই রাস্তায় জমে হাঁটুসমান কাদা।
কাদার জন্য গ্রামের এ রাস্তায় কোনো অ্যাম্বুলেন্স, মাইক্রোবাস, ভ্যান-রিকশা ঢোকে না। মোটরসাইকেল, সাইকেলে তো দূরে থাক, খালি পায়ে হেঁটে চলাচল করাও দায়। বৃষ্টির দিনে গ্রামের কেউ অসুস্থ হলে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার জন্য কোনো যানবাহন ও অ্যাম্বুলেন্সও এখানে ঢুকতে পারে না। অনেক সময় কেউ মারাত্মক অসুস্থ হয়ে পড়লে কাঁধে করে কর্দমাক্ত রাস্তা পার করা হয়।
স্থানীয় বাসিন্দা মধুপুর শহীদ স্মৃতি উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক মো. নুরনবী সিহাব বলেন, আমাদের দুঃখ-কষ্ট, দুর্ভোগের কথা কেউ শুনে না।
ওই গ্রামের বাসিন্দারা জানান, এলাকায় প্রচুর কৃষি ফসল উৎপাদন হয়। কিন্তু রাস্তার বেহাল দশার কারণে কৃষকরা সময়মতো পণ্য বাজারজাত করতে পারেন না। ফলে ফসলের ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হতে হয়। এরই মধ্যে শুরু হবে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা। এখানে বেশ কয়েকজন পরীক্ষার্থী আছে- তাদের এমন পরিস্থিতির শিকার হয়ে পরীক্ষার কেন্দ্রে যেতে হবে। জনপ্রতিনিধিদের কাছে ধরনা দিয়েও কোনো ফল হয়নি।
মমিনপুর গ্রামের ১২০ বছর বয়সের প্রবীণ বৃদ্ধ মো. সামছুল হক আকন্দ গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম স্বপনের কাছে সাংবাদিকদের মাধ্যমে আকুল আবেদন জানান মৃত্যু পথযাত্রী শামসুল হক। মৃত্যুর আগে যেন পাকা রাস্তায় হেঁটে মৃত্যুবরণ করতে পারি। এটা তার শেষ ইচ্ছা বলেও আশা ব্যক্ত করেন বৃদ্ধ শামসুল হক আকন্দ।
যদুনাথপুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘সামান্য বৃষ্টিতেই রাস্তাটি মানুষের চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়ে। এই রাস্তাটি সংস্কার করা খুবই প্রয়োজন।
মমিনপুর আইডিয়াল স্কুলের প্রধান শিক্ষক নাসির উদ্দিন আকন্দ বলেন, ‘এই রাস্তার কারণে বৃষ্টির দিনে স্কুলের শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি কমে যায়।
জানতে চাইলে যদুনাথপুর ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক মো. রাসেল পারভেজ তমাল বলেন, এই ইউনিয়নে তো অনেক কাঁচা রাস্তা; তবে যে রাস্তাটি পাকা করার জন্য এলাকাবাসী দাবি জানিয়ে আসছে সেটি পাকা করার জন্য প্রকল্প প্রস্তাব ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে আমি পাঠাব। শিগগিরই অনুমোদন পাওয়া যাবে বলে আশা করছি। অনুমোদন পেলে রাস্তাটি পাকাকরণের কাজ শুরু করতে পারব। রাস্তাটি পাকা হলে এলাকাবাসীর যাতায়াতের এই সমস্যা আর থাকবে না।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন