ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

ঠাকুরগাঁওয়ে শর্টসার্কিটের আগুনে ২০ বসতঘর পুড়ে ছাই

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি
প্রকাশিত: জানুয়ারি ৩, ২০২৬, ১০:১০ এএম
আগুনে পুড়ছে বসতঘর। ছবি : রূপালী বাংলাদেশ

ঠাকুরগাঁওয়ের রাজাগাঁও ইউনিয়নের রাজারামপুর গ্রামে অগ্নিকাণ্ডে পাঁচটি পরিবারের অন্তত ২০ বসতঘর পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। 

শুক্রবার (২ জানুয়ারি) সন্ধ্যা ৭টার দিকে সদর উপজেলার রাজাগাঁও ইউনিয়নের রাজারামপুর গ্রামের জহিরুল ইসলামের বাড়ি হতে বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত ঘটে। 

আগুন ছড়িয়ে পড়লে মো. জহিরুল ইসলাম, মো. ফারুক হোসেন, মো. আবুল হোসেন, মো. কাজল হোসেন ও মো. মোতাহার হোসেনের বসতঘর পুড়ে যায়। 

104423]

এতে আসবাব, কাপড়চোপড়, বইখাতা, ডেকোরেশনের কাপড় ও মালামালসহ পুড়ে যায়। এতে প্রায় ৩০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। এর ফলে পরিবারগুলো এখন তীব্র শীতে খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবনযাপন করছে। 

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, জহিরুলের বাড়ি থেকে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। মুহূর্তের মধ্যেই তা আশপাশের ঘরগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে। গ্রামটি ঘনবসতিপূর্ণ হওয়ায় আগুন দ্রুত ভয়াবহ রূপ নেয়। স্থানীয়রা চেষ্টা করেও আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে পারেননি।

স্থানীয় বাসিন্দা মো. রমজান আলী বলেন, আমাদের বাসার পাশেই তাদের বাড়ি। সন্ধ্যার দিকে হঠাৎ আগুন দেখে সবাই মিলে ছুটে আসি। কিন্তু আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। এতে পাঁচ পরিবারের প্রায় ২০ বসতঘর একেবারে পুড়ে শেষ হয়ে গেছে।

তিনি আরও জানান, গ্রামবাসী বালতি ও পানির সাহায্যে আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন। তবে পর্যাপ্ত সরঞ্জাম ও পানির অভাবে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়নি।

ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে মোতাহার নামে একজন ডেকোরেশন ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। তার ঘরে ঋণের ৬৫ হাজার টাকা গচ্ছিত ছিল। তার নগদ টাকাসহ প্রায় দুই লাখ টাকার মালামাল পুড়ে ভস্মীভূত হয়ে যায়।

অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত মো. জহিরুল ইসলাম বলেন, চোখের সামনে সব শেষ হয়ে গেল। ঘরের ভেতরে যা কিছু ছিল, সব পুড়ে গেছে। পরিবার নিয়ে এখন খোলা আকাশের নিচে আছি। 

তিনি জানান, আগুন লাগার সময় পরিবারের সদস্যরা ঘরের বাইরে থাকায় প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি। এটুকুই তাদের জন্য একমাত্র স্বস্তি।

রাজাগাঁও ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান তাহিরুল ইসলাম বলেন, এই শীতে পাঁচ পরিবার নিঃস্ব হয়ে পড়েছে। বিষয়টি উপজেলা প্রশাসনকে জানানো হয়েছে। দ্রুত সরকারি সহায়তা ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।